বিরল সততার দৃষ্টান্ত রাবি শিক্ষার্থী সুমির

আপডেট: এপ্রিল ৭, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমি খাতুন- সোনার দেশ

সাহেব বাজারে গিয়েছিলেন কেনাকাটা করতে। কেনাকাটা শেষে রুমে এসে কেনা জিনিসপত্র বের করার সময় দেখলেন ব্যাগে এক লাখ টাকা। সৌভাগ্য ভেবে খুশি হয়ে টাকাগুলো নিতে পারতেন। কিন্তু তা করলেন না। শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় মালিকের হাতে তুলে দিলেন সব টাকা।
শপিং ব্যাগে এক লাখ টাকা পাওয়ার পর তা ফেরত দিয়ে সততার মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমি খাতুন।
সুমি বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তিনি রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা শীষ মোহাম্মদের মেয়ে।
সুমি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সাহেববাজারের আরডিএ মার্কেটে যান কেটানাকটা করতে। কেনাকাটা করে সেখান থেকে বান্ধবীর বাসায় যান। সেখানে কেনা জিনিসপত্র বের করতে গিয়ে দেখেন তার শপিং ব্যাগে ১ লাখ টাকা। পরে ওই দোকানের শপিং ব্যাগে থাকা ফোন নম্বারে কল করে জানতে চান তাদের কিছু হারিয়েছে কিনা? তারা জানায় তাদের কিছু হারায়নি।
পরে বিষয়টি তিনি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে জানালে তারা পুলিশ অথবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে জানাতে বলে। এর কিছুক্ষণ পরেই ওই দোকানদার ফোন করে জানান তাদের ১ লাখ টাকা হারিয়েছে। প্রমাণ দিতে পারায় দোকানদারকে বিভাগে আসতে বলা হয়। শিক্ষকদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে টাকা তার মালিকের হাতে তুলে দেয়া হয়।
সুমি বলেন, কারো টাকার প্রতি আমার লোভ নেই। টাকাটা তার মালিকের কাছে পৌঁছে দেয়া আমার দায়িত্ব ছিল। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। টাকা তার মালিককে দিতে পেরে আমি মনে প্রশান্তি পাচ্ছি। মানুষকে হাসিখুশি রাখতে পারলে আমার কাছে ভাল লাগে।
টাকার মালিক আশরাফুল আলম সেতু বলেন, আসলে পৃথিবীতে এখনো অনেক ভাল মানুষ আছে। ওই ম্যাডাম নিজে ফোন না করলে আমি হয়তো আর আমার টাকা পেতাম না। তিনি চাইলে টাকা নিয়ে নিতে পারতেন। আমি ম্যাডামকে দশ হাজার টাকা পুরস্কার দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তাও নেন নি। মানুষের কেমন হওয়া উচিত আমি ওনার কাছে শিখেছি। আমি ওনার কাছে কৃতজ্ঞ।
শিক্ষার্থী সুমির এমন সততায় তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী। সুমির সততা সমাজে দৃষ্টন্ত হয়ে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সুমির শিক্ষকরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ