বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

বিলুুপ্তির পথে দেশি প্রজাতির পাখি || চলনবিলের সিংড়ায় খেজুর রসে বিষ দিয়ে পাখি নিধন

আপডেট: January 23, 2020, 12:49 am

এমরান আলী রানা, সিংড়া


সিংড়ায় খেজুরের রসে বিষ মেশাচ্ছে এক শিকারি। (পাশে) ওই বিষযুক্ত খেজর রস খেয়ে মৃত ও অসুস্থ পাখি-সোনার দেশ

জীব বৈচিত্রে ভরপুর দেশের ঐতিহ্যবাহী চলনবিল শুধু মৎস্য ভ্ন্ডাার নামে খ্যাত তা নয় এ বিল দেশি ও অতিথি পাখির এক বিশাল জলাভূমি। প্রতিবছর শীতকালে এ বিলে আগমন ঘটে হাজার হাজার অতিথি পাখির। এসব অতিথি পাখি আর নানা জাতের দেশি পাখির পদচারণায় চলনবিলের প্রকৃতি ও পরিবেশ হয়ে উঠে এক অন্য অপরুপ সৌন্দর্যের নীলা ভূমি।
কিন্তু এক শ্রেণীর অসাধু পাখি শিকারীর দল বিভিন্ন কায়দায় ফাঁদ পেতে দিনের পর দিন নিধন বরছে এ সব পরিবেশ বান্ধব পাখি। পাখি শিকারী চক্র এত দিন পাখি শিকারে বন্দুক, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করলেও এবার তারা পাখি শিকারে অভিনব কায়দার আশ্রয় নিয়েছে। খেজুর গাছের রসের হাড়িতে দানাদার বিষ মিশিয়ে পাখি নিধন করছে এই সব পাখি শিকারীর দল। আর সামান্য টাকার লোভে এসব পাখি বিক্রি করছে স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে। এতে একদিকে যেমন বিষ ক্রিয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন ঝুকি বাড়ছে অন্য দিকে পাখি নিধনে সৌন্দর্য ও ভারসাম্যের প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও প্রকৃতির উপর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার কৃঞ্চপুর আত্রাই নদীর বাঁধে প্রায় ২০টি খেজুর গাছের রসের হাড়িতে দানাদার বিষ মিশিয়ে শালিক,বুলবুলিসহ প্রায় শতাধিক দেশি প্রজাতি পাখি নিধন করেছে শিকারীরা। এ ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পরিবেশ বান্ধব কর্মীরা পাখিগুলোকে উদ্ধার করেন। এসময় দানাদার বিষ মিশ্রত রসের হাড়ি ও খেজুর গাছ পানিতে ধুয়ে এলাকাবাসীকে সচেতন করেন। এলাকাবাসী জানান-শীতের এই মৌসুমে খেজুর গাছের রসের হাড়িতে শালিক, বুলবুলিসহ নানা জাতের দেশি পাখির আনা গোনা দেখা যায়। এই সুযোগেই লোভী শিকারীর দল এই অভিনব কায়দায় পাখি নিধনে মেতেছে। এলাকাবাসীরা আরো জানান, শিকারীরা এসব পাখি স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ১০ টাকা করে বিক্রি করেছে। তারা অনেকেই রান্না করে এ সব পাখির মাংস খেয়েছে।
চলনবিলের লেখক ও গবেষক সৌরভ সোহরাব বলেন, পাখি শুধু পরিবেশ ভারসাম্যই রক্ষা করে তা নয়। পাখি পরিবেশ ও প্রকৃতির অলঙ্কার হিসেবে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে যা আমাদেরকে মুগ্ধ করে এবং প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শেখায়। কিন্তু পাখি নিধন আইনটির যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় চলনবিল এলাকায় প্রতিনিয়তই পাখি শিকার হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন চলনবিলের পরিবেশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে অন্য দিকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির পাখি।
সিংড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, চলনবিল একটি বৃহৎ এলাকা হওয়ায় পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এবিষয়ে চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা সভা করছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ