বিশেষ ভক্তের স্বপ্নপূরণ করলেন মাশরাফি

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এ কিংবদন্তিকে যে বিশেষনই দেয়া হোক না কেন-তা যেন একটু কমই হয়ে যায়। তাকে ‘নড়াইল একপ্রেস’ বা ‘ম্যাশ’ বলে আখ্যায়িত করার পেছনে যেমন রয়েছে ভক্তদের ভালবাসা তেমনি ভক্তদের প্রতি ম্যাশের ভালবাসাও কম নয়।
উদারচেতা এই ক্রিকেটার মাঠের বাইরেও ব্যক্তি কিংবা সামাজিক জীবনে ভদ্রতা, নমনীয়তার নজীরবিহীন ছাপ রেখেছেন দৃষ্টান্তমূলকভাবে। সম্প্রতি আরো এক অধ্যায় যেন যোগ হলো ভক্তদের প্রতি তার ভালোবাসার ডায়েরিতে।
প্রিয় খেলোয়াড়দের কাছে পেতে সবার ভেতরেই ব্যকুলতা কাজ করে। কেউ একটু স্পর্শ করে দেখতে চান। কেউ বা ছবি তুলে স্মরণীয় করে রাখতে চান সেই মুহূর্ত। সরাসরি কথা বলার আগ্রহ দেখান প্রিয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে অনেকেই। ম্যাশ কাউকেই হতাশ করতে চান না যেন। তাই দেখা করার সম্মতি দিয়েছিলেন শিশিরকেও। শিশির শারীরিক প্রতিবন্ধী। হুইল চেয়ারেই কাটে তার অধিকাংশ সময়।
বুদ্ধি হবার পর থেকে সে বাংলাদেশের কোন ক্রিকেট ম্যাচ মিস করে নি। যতক্ষণ খেলা চলে ততক্ষণ তাকে বসিয়ে রাখতে হয় টিভি সেটের সামনে। একদিকে টিভির স্ক্রিনে চলে খেলা অন্যদিকে হুইল চেয়ারে বসে উত্তেজনা, আনন্দ উল্লাসে ক্রিকেট টিমের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখায় শিশির।


ক্রিকেটের প্রতি,  টিমের প্রতি তার এই দুর্বার টানই হয়তো তাকে নিয়ে গেছে ম্যাশের আরো কাছাকাছি।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি শিশিরের এই ভালোবাসার কথা ফেসবুকভিত্তিক কমিউনিটি উবংঢ়বৎধঃবষু ঝববশরহম – ঊীঢ়ষরপরঃ (উঝঊ) তে ছবিসহ পোস্ট করেন তার বোন দোলন আক্তার। সেখানে তিনি জানান শিশিরের ক্রিকেট-প্রীতির কথা। এমনকি সেখানে মাশরাফির প্রতিও ভাইয়ের ভালোবাসার কথা জানান তিনি। যখন বাংলাদেশ টিম আশানুরুপ খেলা উপহার দিতে না পারে তখন শিশিরের কষ্টের কথাও তুলে ধরেন তার পোস্টে। এমনও হয়েছে বাংলাদেশ টিম যখন পরাজিত হয় তখন সে না খেয়ে থেকেছে দীর্ঘ সময়। তার মুখ মলিন হয়ে যায়। আবার আনন্দে ফেটে পড়ে যখন ম্যাশ বাহিনী জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে। মাশরাফি বিন মর্তুজাকে কাছে থেকে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করে সে। কিন্তু এই দেখা করা কি সম্ভব তার জন্য?
উঝঊ গ্রুপের এডমিন আপ্রাণ চেষ্টা করেন কীভাবে এই ক্ষুদে ভক্তকে দেখা করানো যায় ম্যাশের সঙ্গে। কীভাবে তার ইচ্ছা পূরণ করা যায়। সে লক্ষ্যে তারা যোগাযোগ করেন মাশরাফির ভাই মোরসালিন বিন মর্তুজার সাথে। মোরসালিনের মাধ্যমেই অবশেষে শিশিরের স্বপ্নপূরণ সম্ভব হয়।  মাশরাফির সঙ্গে দেখা হয় ক্ষুদে এই বিশেষ ফ্যানের। শুধু তাই নয়, প্রিয় মাশরাফির সঙ্গে ছবি তোলারও সুযোগ পায় সে। আর তাতেই শিশিরের সে কী উচ্ছ্বাস! ভক্তের স্বপ্নপূরণের সেই উচ্ছ্বাস ছুঁয়ে যায় সকলকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ