‘বিশ্বকাপ ট্রফির অবয়ব মন্ডপে আসীন হলেন দেবীদূর্গা’

আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২২, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

তানজিলা চৌধুরী:


গজে (হাতি) চড়ে মর্ত্যলোকের রাজশাহী নগরীর বিশ্বকাপ ট্রফির আদলে তৈরি টাইগার সংঘের মন্ডপে আসন নিয়েছেন দেবী দূর্গা। প্রতিবছর ভিন্ন কিছু আয়োজনে দেবীকে বরণ করে নেয়ার প্রত্যয় থেকে এবার বিশ্বকাপ ট্রফিকে বেছে নিয়েছে টাইগার সংঘ। আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার কথা মাথায় রেখে মন্ডপে ২৬ ফুটের একটি ট্রফির আদল ও বিভিন্ন দেশের পতাকা এবং বিশ্বকাপ লোগো দিয়ে থিম করা হয়েছে।

ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শনিবার (১ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় দুর্গোৎসব। দুর্গোৎসব উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে পুরো রাজশাহী মহানগরী।

প্রতিবার ভিন্ন থিমে মন্ডপ সাজানোয় আলোচনার কেন্দ্রে থাকে ‘টাইগার সংঘ’। নগরীর রাণীবাজার মোড়ে টাইগার সংঘের পূজার মন্ডপটিতে প্যান্ডেলের রং-ও ফিফার আয়োজনের অফিশিয়াল চারটি রঙে করা হচ্ছে। থিমের সাইজ ৪২ ফুট, চওড়া ৩০ ফুট। ট্রফিটি ২৬ ফুট লম্বা ও ১০ ফুট চওড়া।

এ বিষয়ে টাইগার সংঘের সভাপতি সুশীল কুমার আগারওয়াল বলেন, প্রতিবছরই আমরা জনপ্রিয় বিভিন্ন থিম নিয়ে কাজ করি। আগামী নভেম্বরের আসন্ন কাতার ফুটবল বিশ্বকাপের আদলে আমরা এবছর মন্ডপ সাজিয়েছি। আমাদের দেশের মেয়েরাও এবার সাফ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় এবারের থিম দিয়ে আমরা তাদের অভিনন্দন জানানোর উদ্দেশ্যেও এই থিম ভেবেছি। প্রতিবছরই আমরা বিভিন্ন আলোচিত বিষয় নিয়ে কাজ করি।

তিনি আরও বলেন, গতবছর করোনাকালীন আমরা সচেতনতায় করোনা ও মাস্ক দিয়ে থিম করা হয়েছিল। এর আগে আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুকে স্মরণ করে রূপালি গিটারে সাজানো হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, বাহুবলী, ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখের অবয়ব দিয়ে মন্ডপ তৈরি করেছি।

তিনি আরও বলেন, মন্ডপের প্যান্ডেল সাজানো হচ্ছে ফিফার অফিশিয়াল চারটি রঙে। সামনে থাকবে ১২টি প্লেয়ারের হাতে ফুটবল। যা ফুটবলের ১২টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। প্যান্ডেলে থাকবে কাতার বিশ্বকাপের মাসকাট, বিশ্বকাপের লোগো।

তিনি জানান, তাদের এই মন্ডপের বাজেট ৮ লক্ষ টাকা। যা মূলত তারা নিজেদের সংঘের মাধ্যমে এবং প্রবাসী কয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতার মাধ্যমে সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া প্রতিটি মন্ডপের জন্য সরকারি অনুদান থাকে।

রাজশাহী মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামলকুমার ঘোষ বলেন, গত দুই বছর করোনার প্রকোপের কারণে কিছুটা সীমিত আকারে পূজা উদযাপন করতে হয়েছে। এবার কোনো রকম বাঁধা না থাকায় উৎসব মুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন হচ্ছে। মায়ের আশীর্বাদে এবার জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন হবে।