বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক বাজার ও দোকান ব্যবসায়ীরা সঙ্কটে

আপডেট: জুলাই ২৭, ২০২০, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক বাজার ও দোকান ব্যবসায়ীরা করোনার এমন সময়ে জীবিকা সঙ্কটে পড়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) বন্ধ থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। শিক্ষার্থীদের কেনা-কাটার বড় বাজার বিনোদপুর, কাজলা, তালাইমারী ও রাবি স্টেশন। করোনার কারণে ক্রেতা নেই এইসব বাজার ও দোকানপাট গুলোতে।
ব্যবসায়ীরা জানায়, রাবি ও রুয়েট কেন্দ্রিক গড়ে উঠা এসব দোকানপাটের ব্যবসায়ীরা রয়েছেন বেকায়দায়। এসব দোকানের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্রেতাই শিক্ষার্থীরা। করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মন্দা নেমে এসেছে ব্যবসায়।
জানা গেছে, বিনোদপুর, কাজলা, তালাইমারী ও রাবি স্টেশন মিলে প্রায় দুই হাজার দোকান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলে লোকসমাগম নিত্যদিনের। সকাল-বিকেল সব সময়ে ক্রেতা পাওয়া যায়। তবে বিকেলের পরে বিনোদপুরের বাজারে জমজমাট বেচাবিক্রি হয়। আড্ডা জমে চায়ের স্টলগুলোতে। চলে রাত পর্যন্ত। তবে করোনাভাইরাস ও শিক্ষার্থী না থাকায় বন্ধ চা স্টলগুলোও। যদিও কিছু কিছু দোকান-পাট খুললেও তেমন বেচাকেনা নেই বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
বিনোদপুরবাজারের কয়েকজন মুদি ব্যবসায়ীরা জানান, তাদরে কেনাবেচা মূলত শিক্ষার্থীদের ঘিরে। শিক্ষার্থীরাই এই দোকানগুলোর ক্রেতা। শিক্ষার্থীরা না থাকায় ব্যবসার অবস্থা ভালো নেই তাদের। অনেকেই ঠিক মতোও দোকন খুলছেন না।
বিনোদপুর এলাকার সবজি ব্যবসায়ী শাহিন জানান, এখন অনেক মাল (সবজি) কম কিনি। বিক্রি নেই। শিক্ষার্থীরা এই বাজারে বেশি সবজিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ব্যবসা নেই। ব্যবসা করছি স্থানীয় কিছু ক্রেতা আছে-তাদের ধরে রাখতে। ছাত্র-ছাত্রী ক্যাম্পাসে (রাবি) ফিরলে আবার ব্যবসা চাঙ্গা হবে- এমনটি আশা করেন তিনি।
এছাড়া কাজলা গেটে ফল ব্যবসায়ী হাসান জানান, প্রতিবছর আমের সময় অনেক অর্ডার পান তিনি। এবছর তেমন অর্ডার পাননি। এছাড়া ফল বিক্রিও নেই। কারণ স্থানীয় মানুষের চেয়ে শিক্ষার্থীরাই বেশি ফল কেনে। তারা রাজশাহীর বাইরে দেশের বাড়িতে পাঠান। শিক্ষার্থীরা না থাকায় ব্যবসার অবস্থা ভালো নেই তারও।
বিনোদপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহিদ বলেন, রাবিতে শিক্ষার্থীরা নেই। তাই এই এলাকায় ব্যবসার অবস্থাও ভালো নাই। তার পরেও পেটের দায়ে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খুলছে। চলছে টুকটাক।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দেখা গেছে, রাবির ভেতনের স্টেশন মার্কেটের কিছু দোকানপাট খোলা। এছাড়া স্টেডিয়াম মার্কেট, হলের সামনের দোকান, পরিবহণ ও টুকিটাকিসহ বিভিন্ন বিভাগের সামনের দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে।
রাবির টুকুটাকিতে ফটোস্ট্যাটারের দোকানের কর্মচারী সুজন জানান, অনেক দিন থেকে বেকার বসে আছি বাড়িতে। যে টাকা ছিলো সব বসে খেয়ে শেষ। বিশ্ববিদ্যালয় না খোলা পর্যন্ত কাজের ব্যবস্থা হবে না। কিছু টাকা কিস্তি নেয়া ছিলো। কিস্তির লোকজন বাড়িতে বার-বার আসছে ফোনও দিচ্ছে। তাদের বলেছি বিশ্ববিদ্যালয় না খোলা পর্যন্ত টাকা দিতে পারবো না।
রাবি স্টেডিয়াম মার্কেটের সভাপতি জলিল উদ্দিন বলেন, বাইরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট সময় মেনে খোলা থাকলেও আমরা দোকানের তালা পর্যন্ত খুলতে পারি না। এমনকি অনেক সময় ক্যাম্পাসে ঢুকতেও পারি না।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, করোনা সংক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখতেই বিশ্ববিদ্যালয় না খোলা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থিত দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, বহিরাগত কিংবা দর্শনার্থী কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। যেহেতু কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না তাই দোকানপাট খোলারও কোনো প্রশ্ন আসে না।
রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, রাজশাহী নগরীর ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকটাই শিক্ষার্থী নির্ভর। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদেরকে সহযোগিতার জন্য ব্যবসায়ী নেতৃবন্দ কাজ করছে। অনেক ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমাদের নিজস্ব কোনো ফান্ড নেই। আমরা বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছে। ঋণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে সহযোগিতা করছি। আমাদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এসএমই ঋণের ব্যবস্থা করতে পারছি না। এই টাকা ব্যাংকে পড়ে থাকছে। এছাড়াও প্রণোদনার অর্থ তারা পাচ্ছেন না। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হলেও এই পর্যন্ত তাদের একটা সভাও অনুষ্ঠিত হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ