বিশ্বস্বাস্থ্য দিবসের প্রত্যয় ,বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও কিছু প্রস্তাবনা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

সৈয়দ আলী:


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালে প্রথম স্বাস্থ্য সম্মেলন (First Health Assembly in April 7,  1948) অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে ৭ এপ্রিল কে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে এটা ১৯৫০ সাল থেকে নিয়মিত পালন করা হচ্ছে। এর প্রধান লক্ষ্য হ’ল বিশেষ স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা সৃষ্টি ও স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোকপাত করা। যা বিশ্ব সংস্থায় অগ্রাধিকার হিসেবে গন্য।
এই ৭১ বছরে স্বাস্থ্য বিষয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে বিশেষতঃ মানসিক, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য যত্ন ও আবহাওয়া পরিবর্তন। এই দিবসটি বছরে একবার বিশ্বব্যপি উদযাপিত হলেও এর কার্যক্রম সারা বছর বিশ্বব্যাপি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় বৈশ্বিক স্বাস্থ্যে গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রত্যেকের জন্য সুচারু স্বাস্থ্যকর বিশ্ব
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এশিয়া-প্রশান্ত (Asia-Pacific) এলাকার দেশ (বাংলাদেশ, ক্যাম্বডিয়া, ফিলিপাইন, ইস্টতিমুর, নেপাল, পপুয়া নিউ গিনি, শ্রীলংকা সহ মোট ১৫ টি দেশ) গুলির দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্থানান্তর নগরায়ন হয়েছে। এতে অনেকেই অধিকতর উন্নত জীবন ধারণ করলেও অনেকে পিছনে পড়ে আছে। সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ মহামারি স্বাস্থ্য রক্ষায় এর ছেদ ফেলেছে এবং দরিদ্রতা খাদ্য ও অনিরাপত্তায় ঠেলে দিয়েছে ফলে বাড়িয়ে দিয়েছ লৈঙ্গিক, সামাজিক ও স্বাস্থ্য বৈষম্য, বেড়ে গেছে অন্যায় আচরণ ও অবিচার.।
এই বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে প্রতিপাদ্য হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা বৈষম্য দূর করতে হবে, বছরের কিছু সময়ের জন্য সকলকে সুন্দরতর অধিকতর সুস্বাস্থ্যের জন্য সঙ্গবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এর উদ্দেশ্য হবে WHO/ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাংবিধানিক নীতিমালা যা ‘জাতি, ধর্ম ,রাজনৈতিক বিশ্বাস , অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা ভেদে প্রত্যেক মানুষের সর্বোচ্চ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার’। বিশ বছরের মধ্যে এই প্রথম বৈশ্বিক দরিদ্রতার মাত্রা বেড়ে গেছে যা ‘Sustainable Development Goals সমূহের সহনীয় উন্নয়ন লক্ষ্যকে অগ্রসর হতে বাধা দিচ্ছে। কোনো কোনো দেশের শতকরা ৬০ জন অত্যাবশ্যক স্বাস্থ্য সেবা (essential health services) পাচ্ছে না। একশো কোটির উপর মানুষ অস্বাস্থ্যকর ও বস্তিতে মানবেতর জীবন যাপন করছে যাদের জন্য সংক্রামক রোগ ঠেকান এবং করোনা রোগের বিস্তার রোধ বিরাট চ্যালেঞ্জ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ফেলছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক এলাকা অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ব্রুনাই, মায়ানমার, কম্বোডিয়া, চিলি প্রভৃতি এলাকায় ৮২.৫ মিলিয়ন বা ৮ কোটি ২৫ লক্ষ আন্তর্জাতিক যাযাবর/ দেশান্তরী ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। এ এলাকার প্রায় ৫৯ লক্ষ শিশু স্কুল হ’তে ঝরে পড়ায় অশিক্ষা ও অর্থনৈতিক দীনতায় মহামারীর প্রভাব পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্যের উপর নজর রেখে আমরা আমাদের দেশে কী করতে পেরেছি বা এর উন্নয়ন কিভাবে করা যায় সে ব্যাপারে আলোকপাত করব।
১। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: এ কথা অনুস্বীকার্য যে, স্যাটেলাইট ক্লিনিক স্থাপন বর্ত্মমান সরকারের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়- এটা বিশ্বের জন্য একটা মডেল। প্রান্তিক এলাকার দোর গোড়ায় সার্বজনীন চিকিৎসাসেবা ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ’ বিশষতঃ প্রসূতি মায়েদের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতে অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত ১০০০ জন মা ১০০০ জন জীবন্ত প্রসবের পর এক বৎসরের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে ২৪.৭৩, যা ২০১৯ এ ছিল ২৫.৬ জন অর্থাৎ এক বছরে প্রতি ১০০০ জনে কমেছে ৪.১ % ।
এখন আমি সাধারন জনগণের চিকিৎসার দিকে আলোকপাত করব।
ক) আমাদের দেশে কারো অসুখ হলে সাধারণতঃ যা করে কারো সামান্য অসুখ হলে জেনারেল প্রাকটিশনার দের কেউ যেতে চায় না। যেমন- সর্দি, কাশি হলেই মেডিসিন / নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ, মাথা ব্যথা হলেই নিউরো ফিজিসিয়ান, হাঁটু ব্যথা হলে অর্থপেডিক সার্জন ইত্যাদির কাছে সরাসরি চলে যায়।
একজন বিশেষজ্ঞের নিকট যাওয়া মানেই (১) প্রথম ভিজিট সর্ব নি¤œ ৫০০ টাকা (২) রোগির ক্রমানুসার (সিরিয়াল) পাওয়া না পাওয়া (৩) রক্তের পরিক্ষা এক/একাধিক (৪) এক্স-রে, ইসিজি, আলট্রাসোনোগ্রাম ইত্যাদির এক বা একাধিক পরিক্ষা। (৫) অধিক মূল্যের ওষুধ লিখা (৬) রোগির যাতায়াত খরচ ইত্যাদিতে প্রায় ১৫০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। এদের অনেকেরই দৈনিক আয় ৫০০-৭০০ টাকা, তবে গ্রামাঞ্চলে আয় আরও কম।
খ) ফার্মেসি থেকে ওষুধ বিক্রেতা কর্তৃক ওষুধ বিক্রয়: ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিভিন্ন ব্যথা, ঘুমের ওষুধ বিক্রয় করে যা কিডনি (বৃক্ক) ও লিভার (যকৃৎ) অকেজো করার জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত অ্যানটিবায়োটিক ব্যবহারে রোগ জটিল হতে জটিলতর হচ্ছে।
গ) উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা : এখানে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও অনেক সাধারণ রোগের ওষুধ থাকলেও বেশি ভিড় হওয়ায় বা সময়ের অজুহাত দেখিয়ে অনেকেই এড়িয়ে যায়। সরল পথে যে যেখানে পারে ইচ্ছা মত ওষুধ কিনে খায় ।
ঘ) এ সব সমস্যার সমাধান: প্রাথমিক পর্যায়ে যে কোন এক স্তরে ন্যুনতম একজন এমবিবিএস ডাক্তার দ্বারা রোগি পরীক্ষা করানো। তবে আরও ভাল হবে সাধারণ রোগের উপর অন্ততঃ একবছর বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা (স্ক্রিনিং) করা।
ঙ) উন্নত বিশ্বে রোগির প্রথম দর্শন কি ভাবে হয়: ইউরোপের অধিকাংশ দেশ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশ আছে যেখানে কোনো রোগি সরাসরি কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যায় না / যেতে পারেনা এবং রোগির ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ফার্মেসি হতে ওষুধ কিনতে পারে না। প্রথমে জেনারেল প্রাকটিশনারের নিকট যেতে হয়। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট ( REFER) যাবার নির্দেশ দিলে উক্ত রোগি যেতে পারেন। প্রাথমিকভাবে জেনারেল প্রাকটিশনারের দেয়া ওষুধই খেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দু’ই সাশ্রয় হয় এবং অযাচিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও জটিলটা কমায়।
চ) প্রাইভেট/ জেনারেল প্রাকটিশনারদের কোর্স : উন্নত বিশ্ব যেমন যুক্তরাজ্যে একজন মেডিকেল গ্রাজুয়েট কিছু শর্ত মেনে ও জেনারেল প্রাকটিশনারদের কোর্স যেমন-এমআরসিজিপি (মেম্বার রয়্যাল কলেজ অব জেনারেল প্রাকটিশনার) এবং আমেরিকায় ইউএসএমএলই (U.S. Medical Licensing Examination -USMLE) সম্পন্ন করে জেনারেল প্র্যাকটিস করে থাকেন। একই ভাবে বাংলাদেশে এফসিজিপি (ফেলো কলেজ অব জেনারেল প্রাকটিশনারস) ইত্যাদি সম্পন্ন করেই বাংলাদেশে জেনারেল প্রাকটিশনার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন। তবে আমাদের দেশে এফসিজিপি (ফেলো অতি অল্প সংখ্যক বিদ্যমান থাকায় এমবিবিএস পাস ডাক্তারেরা জেনারেল প্রাকটিশনার হিসেবে রোগি দেখে থাকেন।
ছ) এ ছাড়া যারা এমবিবিএস পাস ও ইন্টার্ন শেষ করে– কোনো চাকরি এখনও পান নি, অথবা কোনো বেসরকারি সংস্থা এমন সম্মানি দিতে চায় যা একজন ডাক্তারের জন্য বেমানান- তারা নিজ এলাকায় প্রাইভেট প্রাকটিস শুরু করতে পারেন। এতে এলাকার লোকের উপকার হবে এবং এলাকার জনগণ এটা আশাও করেন। পরে সময় সুযোগ মত জেনারেল প্রাকটিশনারস কোর্স/ বিশেষজ্ঞ কোর্স সম্পন্ন করা যেতে পারে।
বাংলাদেশে এ পরিস্থিতি পরিবর্তন আবশ্যক। অনিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের দেশে কিছু নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (NON-COMMUNICABLE  DISEASE) যেমন- কিডনি ও লিভার অকেজো, উচ্চ রক্তচাপসহ বেশকিছু হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মত মারণ ব্যাধি বিস্তারের অনেক কারণের মধ্যে এটাও একটি। এ ছাড়া Multidrug Resistant অর্থাৎ বিভিন্ন রোগ জীবাণু বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়ে দিচ্ছে অথবা প্রতিরোধ গড়ে তুলে কাজই করতে দিচ্ছে না। ফলে আরো নূতন নূতন জেনারেশনের অ্যানটিবায়োটিক ব্যবহার করতে হচ্ছে যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সাধারণ এমনকি অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের ও নাগালের বাইরে।
যদি অদক্ষ ব্যক্তি (ওষুধ দোকানদার) দের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রয় বন্ধ ও ন্যুনতম একজন এমবিবিএস যোগ্যতা সম্পন্ন/ জেনারেল প্রাকটিশনার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক দ্বারা বাছাই (Screening) না করা হ্য়, তা হলে রোগির জটিলতা আরও বাড়বে বৈ কমবেনা।
বাংলাদেশে, ইউরোপীয় ও পশ্চিমা ধাঁচে চিকিৎসা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটেও সম্ভব। আমাদের দেশে সব ধরনের অবকাঠামো আছে। শুধু প্রয়োজন মনমানসিকতার পরিবর্তন। এ ক্ষেত্রে আমার কিছু পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা দেয়া হ’ল। এরসঙ্গে আরও কিছু অভিজ্ঞ ডাক্তার/ ব্যক্তিবর্গের পরামর্শ যোগ করে আমাদের দেশোপযোগী একটি নীতিমালা তৈরি করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করা। এর প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হবে :
ক) বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তৈরিকরণ : এমবিবিএস পাস করার পর যারা এফসিপিএস/ এমসিপিএস/এম এস/এম ডি / পিএইচডি বা যে কোনো বিষয়ে নিয়মিত ৯ মাস হ’তে এক বছরের ডিপ্লোমা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হ’তে করবেন তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিগণিত হবেন। তারা বিসিএস উত্তীর্ণ হোক বা না হোক। বিসিএস উত্তীর্ণ হ’লে তারা সরকার নিয়ন্ত্রিত হাসপাতাল/প্রতিষ্ঠানগুলিতে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন। বাকি ডাক্তারগণ বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতে পারবেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ডাক্তারদের কর্মক্ষেত্র আবার নিম্নরূপে বিন্যাস করা যেতে পারে।
(১) পেশাগত দল (Professional group) ব্যবহারিক : এদের প্রধান কাজ হবে রোগি দেখা। এদেরকে কন্সালট্যানট হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে। এদের প্রধান কাজই হবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে রোগিদের চিকিৎসা দেয়া। বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন ও দেশ/ বিদেশে বিভিন্ন ধরনের উন্নততর প্রশিক্ষণ গ্রহণ যা রোগিদের চিকিৎসায় প্রয়োগ করা যাবে। এই দলভুক্ত চিকিৎসকগণ সরকারি, বেসরকারি অথবা স্বায়ত্বশাসিত হাসপাতালে/প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবেন। বাইরে চেম্বারে রোগিও দেখতে পারবেন। তাদের পেশাগত মাঠ কর্ম (professional Field work) এর ভিত্তিতে বিভিন্ন রোগের উপর প্রবন্ধ (ARTICLE) প্রকাশ করতে পারবেন। তারা চাইলে মেডিকেল কলেজে/ মেডিকেল ইউনিভারসিটি তে পাঠদান কর্মসূচিতেও যোগদান করতে পারেন- তবে বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এই দলভুক্ত চিকিৎসকদের ডিগ্রি, প্রশিক্ষণ ও চাকরির বয়স পর্যালোচনা করে শিক্ষানবিশ কনসালট্যানট (Probationer consultant) জুনিয়র কনসালট্যানট/সিনিয়র কনসালট্যানট/পদে পদায়ন করা যাবে। শিক্ষানবিশ কনসালট্যানটগণ সিনিয়র লেকচারার (জেষ্ঠ্য প্রভাষক), জুনিয়র কনসালট্যানটগন সহকারী অধ্যাপক, সিনিয়র কনসালট্যানটগণ সহযোগী অধ্যাপক এবং কনসালট্যানটগন অধ্যাপক সমমর্যাদার পদে সম্মানিত হবেন।
(২) পেশাগত দল (Professional group) – গবেষণা ও প্রকাশনা এবং পাঠদান: চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের দেশে অনেক অভিজ্ঞ ও প্রথিতযশা চিকিৎসক আছেন যারা ব্যবহারিক জীবনে অত্যন্ত সফল কিন্তু হাতে গনা কয়েকজন ছাড়া গবেষণায় তুলনামূলকভাবে উপস্থিতি অনেক কম। কারণ গবেষণার জন্য অর্থ, সময়, উপযুক্ত পরিবেশ, উপযুক্ত সংস্থা ও উপযুক্ত পরীক্ষাগার ( laboratory) প্রয়োজন। যারা প্রতিষ্ঠান (Institution/ hospital) বা বাইরে চেম্বারে রোগি দেখে থাকেন তারা এত ব্যস্ত থাকেন যে, ইচ্ছা থাকলেও গবেষণা সংক্রান্ত পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না পারায় গবেষণা করা সম্ভব হয় না। এ জন্য গবেষণাগার ও আলাদা গবেষক দল প্রয়োজন যারা এ কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই দলের প্রধান কাজ হবে মেডিকেল প্রতিষ্ঠান সমূহে শিক্ষা দেয়া ও তাদের আপন আপন বিষয়ে দেশ বিদেশে নূতন গবেষণার বিষয় চিন্তা ও তাকে কার্যকরি করতে কী কী প্রয়োজন সেগুলো চিহ্নিত করে পরিক্ষাগারে সেগুলি আনয়নের ব্যবস্থা করা। মোট কথা এই দলভুক্ত পেশাদল মেডিকেল কলেজ/ প্রতিষ্ঠান এ মূলত পাঠদান/ শিক্ষা দান ও গবেষণায় ব্যস্ত থাকবেন। তাদের গবেষণামূলক তথ্যগুলি দেশ বিদেশের জার্নালে প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। এই সব গবেষণার যাবতীয় খরচ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বহন করবে। এই দলভুক্ত চিকিৎসকদের ডিগ্রি, প্রশিক্ষণ ও চাকরির বয়স পর্যালোচনা করে প্রভাষক, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদায়িত/ সম্মানিত করা হবে।
(চলবে)