বিশ্বের রহস্যময় পা-ুলিপির অর্থ উদ্ধার

আপডেট: এপ্রিল ২৫, ২০১৭, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় পা-ুলিপি হিসেবে যেটি পরিচিত সেটি ভয়নেচ (ঠড়ুহরপয গধহঁংপৎরঢ়ঃ) পা-ুলিপি। ধারণা করা হয়, ১৫তম শতাব্দীর প্রথম দিকে (১৪০৪-১৪৩৮ সালের মধ্যে) এটি লেখা হয়েছিল। আজ থেকে একশ’ বছরেরও বেশি আগে ১৯১২ সালে উইলফ্রিড ভয়নেচ নামের একজন বই ব্যবসায়ী রোম থেকে এটিকে কেনেন। তার নাম অনুসারেই এই পা-ুলিপির নাম রাখা হয়।
ভয়নেচ পা-ুলিপি নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। এই বই কোথা থেকে এলো, কে বা কারা এটি লিখল তার যেমন কোনো তথ্য জানা নেই। তেমনই পা-ুলিপিটি হাতে লেখা হলেও আজও অবধি এর অর্থ কেউ উদ্ধার করতে পারে নি। তবে এই পা-ুলিপিতে নানা বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়েছে বলেই অনেকের বিশ্বাস।
দীর্ঘ একশ’ বছর ধরে এই পা-ুলিপির অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মানুষ। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ দীর্ঘদিন এই পা-ুলিপির অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তীতে এফবিআই বিশেষ উদ্যোগ নিলেও কোনো সাফল্য আসেনি। পরবর্তীতে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ এটি নিয়ে গবেষণা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
ফলে বিজ্ঞজনেরা জানিয়েছেন, এটি সম্ভবত আমাদের ভুবনের নয়। অথবা কেউ বা কারা এমন এক ভুবন থেকে এসে এটি ফেলে গেছে যে অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সেই মাত্রার মেধা আমাদের মাঝে এখনও তৈরি হয় নি।
কালের আবর্তে পা-ুলিপিটির কিছু পাতা হারিয়ে গেলেও এখনও প্রায় ২৩৪টি পাতা এতে রয়েছে। পা-ুলিপিটিতে রহস্যময় লেখার পাশাপাশি নানা ছবিও আঁকা রয়েছে। সেখানে গাছপালা, পাতা ছাড়াও গ্রহ নক্ষত্র, মানুষের শরীরের নানা অঙ্গের ছবি স্থান পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে সবার ধারণা এগুলোর মধ্যে এমন তথ্য রয়েছে যা মানব জাতির জন্য কল্যানই বয়ে আনতে পারে। জানা হতে পারে অজানা অনেক বিদ্যা!
সম্প্রতি রাশিয়ার একদল গণিতবিদ পা-ুলিপিটির অর্থ উদ্ধারের দাবি করেছেন। দীর্ঘদিন বাদে পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় পা-ুলিপির অর্থ উদ্ধারের কাছাকাছি আসায় স্বভাবতই উত্তেজিত তারা। যদিও তারা বলছেন, এটি এতটাই হেয়ালিতে পূর্ণ যে তার অর্থ নিয়ে তারা এখনও সংশয়ে। তাদের এমনও মনে হয়েছে, আসলে এই পা-ুলিপিতে যা লেখা রয়েছে তা আসলে পুরোটাই অর্থহীন।
তবে সমালোচকেরা বলছেন অন্য কথা! তাদের মতে রহস্যময় পা-ুলিপিটির প্রকৃত অর্থ জনসাধারণকে জানানো ঠিক হবে কিনা তা নিয়েই সম্ভবত তারা সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন। অথবা সেসব তথ্য তারা গোপন করতে চাইছেন।