বিশ্বের ৮ ধনীর সম্পদ ও বৈষম্য ।। ধনী- গরিবের ব্যবধান বাংলাদেশেও প্রকট!

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০১৭, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের দরিদ্রতম মানুষের মোট সংখ্যার অর্ধেকের অর্থাৎ ৩৬০ কোটি মানষের যে পরিমাণ সম্পদ আছে তার চেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে বিশ্বের শীর্ষ ৮ ধনীর কাছে। বিশ্বের ধনী-গরীবের সম্পদের ব্যবধান যা ‘আশঙ্কা করা হয়েছিল তারচেয়ে অনেক বেশি। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ৪৭তম বার্ষিক সভা শুরুর সময় আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সাফাম এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। প্রতিবেদনের তথ্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় বিশ্বের শীর্ষ আট ধনীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৪২৬ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার। প্রতিবেদনটি তুলে ধরা নতুন তথ্যে দেখা গেছে, বিশ্বের দরিদ্রতম জনসংখ্যার অর্ধেকের সম্পদ আগে যা হিসাব করা হয়েছিল তারচেয়েও কম। সম্পদের এই বৈষম্যকে ‘অসঙ্গত’ বলে বর্ণনা করেছে অক্সফাম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যখন অনেক শ্রমজীবী সীমাবদ্ধ আয়ের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন, তখন অতি ধনীদের সম্পদের পরিমাণ ২০০৯ সাল থেকে গড়ে ১১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদনে ধনী ও গরীবের মধ্যে ব্যবধানটা বৈশ্বিকভাবে উপস্থাপন করা হলেও ধনী-গরিবের ব্যবধানটা বাংলাদেশের জন্যও প্রযোজ্য। বাংলাদেশেও ধনী ও গরীবের মধ্যেকার আয় বৈষম্য বাড়ছে বৈ কমছে না। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর হলেও এর মানে এই নয় যে, ধনী-গরিবের মধ্যে পার্থক্যটা কমছে। সামাজিক নিরাপত্তায় বর্তমান সরকারের চলমান কর্মসূচিগুলো দারিদ্র বিমোচনে বলিষ্ট ভূমিকা রাখছে বটে কিন্তু সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা এখনো সৃষ্টি করা যায় নি। বণ্টন ব্যবস্থার এই একচোখা নীতির কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলেই জাতীয় সম্পদ একটি গোষ্ঠির কব্জায় চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের আয় বৃদ্ধিটা ওই বৈষম্য কমাতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এটাই যদি সমাজের প্রকৃত চিত্র হয় এবং এটিকে ইতিবাচকভাবে পাল্টিানো সম্ভব না হয় তা হলে সমাজের যে অস্থিরতা তার নিরসন করা সম্ভব হবে না। প্রবৃদ্ধি অর্জন করা মানে তো বৈষম্য কমা নয়। সমাজের বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে প্রয়োজন মানুষের মধ্যেকার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন করা। সে ধরনের সমন্বিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে বর্তমানে উন্নয়নের প্রাথমিক লক্ষ্য সম্পর্কে কতগুলো ন্যূনতম বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো দরকার। এ লক্ষ্যগুলি হচ্ছে: ক্ষুধা থেকে মুক্তি, দীর্ঘ আয়ু প্রত্যাশা, চিকিৎসা ও হাসপাতালে সেবা পাওয়ার অধিকার ও ন্যূনতম শিক্ষা।
উন্নয়নের সূচকগুলো বিবেচনায় নিলে তা দাঁড়াবেÑ শিক্ষার হার, মাথাপিছু আয়, সক্ষমতা, অধিকার দাবী করা, অধিকার প্রাপ্তি এবং ইতিবাচক পরিবর্তন। এসব কিছু বিশ্লেষণ করা গেলে মানব-উন্নয়নের ক্ষেত্রে ধীরগতিই লক্ষনীয়।
সমাজের বৈষম্যকে চলতে দেয়ার অর্থই হলো সমাজে অস্থিরতা তৈরি করাÑ যা একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বাঞ্ছনীয় নয়। সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থার উন্নয়ন খুবই অপরিহার্য। একটি পূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য যার অন্য কোনো বিকল্প নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ