বিশ্ব ইন্টারনেট দিবস আজ শিশু সুরক্ষার বিষয় এখনই ভাবতে হবে

আপডেট: অক্টোবর ২৯, ২০১৯, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

আজ ২৯ অক্টোবর বিশ্ব ইন্টারনেট দিবস। ২০০৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বার্তা পাঠানোর স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা, যোগাযোগের স্বাধীনতা মানুষকে ইন্টারনেটের প্রতি বেশি আকৃষ্ট করছে। এই আকর্ষণ শুধু আর জ্ঞান আহরণের সীমার মধ্যেই আবদ্ধ নেইÑ এটি এখন ব্যাপকভাবে সামাজিক অপরাধ সৃষ্টিতে কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণ সমাজ অনিয়ন্ত্রিত ইন্টানেট ব্যবহারে মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। এখন মাদক আসক্তির সাথে ইন্টারনেট আসক্তি বিশ্বকে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এটি প্রযোজ্য।
এটা ঠিক যে, বিশ্বের অফুরন্ত জ্ঞানভাণ্ডারের সঞ্চয় আমানত হলো ইন্টারনেট। বাস্তবিকই ইন্টারনেটকে তথ্যের সমুদ্র বলা যায়, সারা বিশ্বের মানুষ যে সমুদ্র থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন। কিন্তু এই সঞ্চয় আমানত এমনই যে, তথ্য এখানে থাকে স্থায়ী ভাবে। এটি একাধারে একটি নেটওয়ার্ক বা কার্যক্রম, একটি মিডিয়াম বা মাধ্যম, মার্কেট বা বাজার (বিশ্ব জুড়ে যার পরিধি) এবং লেনদেন বা ট্রানজাকশনের মঞ্চ বা প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা পালন করে থাকে।
কিন্তু এর বিপরীতে ভয়ঙ্কররূপে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ সৃষ্টিতেও ইন্টারনেট সমান ভূমিকা রাখছে। এখানেই বিশ্বকে দারুণ ঝুঁকির সম্মুখিন হতে হয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের সকল দেশ ইন্টারনেট অপরাধে ভয়ংকরভাবে আক্রান্ত। এটি অপরাধের তালিকায় শীর্ষে স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ প্রত্যেকটি দেশেই এ অপরাধ ঠেকাতে নতুন নতুন সাইবার আইনও হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা কিছুতেই যেন কমানো যাচ্ছেনা। পুলিশের আর্ন্তজাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট অপরাধের কারণে শুধু ইউরোপে বছরে ক্ষতি হয় প্রায় এক হাজার বিলিয়ন ডলার। প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে এক মিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ইন্টারনেট অপরাধের শিকার হন। বাংলাদেশও গত পাঁচ-ছয় বছরে ব্যাপকভাবে ইন্টারনেট অপরাধ বাড়ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হতে শুরু করে সরকারি ওয়েবসাইট, সাধারণ মানুষ, পর্নোগ্রাফি, মাদক, ব্যাংকের আর্থিক লেনদেন হতে শুরু করে বিভিন্নভাবে এ অপরাধের বিস্তৃতি ঘটেছে।
শিশু ও তরুণদের মধ্যে ইন্টারনেট এখন আসক্তির সৃষ্টি করেছে। এর ফলে নতুন প্রজন্ম কী পরিমাণ সক্ষমহীন হবে এবং অপরাধ-প্রবণতায় জড়িয়ে পড়বে- সেই উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় প্রকাশ করা এক রিপোর্টে ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশুদের অনলাইনের ব্যবহার সম্পর্কে একটি চিত্র তুলে ধরে। জরিপ তথ্যমতে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১০ হতে ১৭ বছর বয়সী ৩২ শতাংশ শিশু অনলাইন সহিংসতা, অনলাইনে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ডিজিটাল উৎপীড়নের শিকার হওয়ার মতো বিপদের মুখে আছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ১০ শতাংশ শিশু ধর্মীয় উস্কানিমূলক বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করেছে। ২৫ শতাংশ শিশু ১১ বছর বয়সের আগেই ডিজিটাল জগতে প্রবেশ করতে শুরু করে। শিশুদের একটি বড় অংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের বেডরুমে। যার ফলে কোনো নজরদারি ছাড়াই তারা ইন্টারনেটে বিচরণ করতে পারে। ৭০ শতাংশ ছেলে ও ৪৪ শতাংশ মেয়ে অনলাইনে অপরিচিত মানুষের বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করে। এদের একটি অংশ আবার সেই ‘অনলাইন বন্ধুদের’ সঙ্গে সরাসরি দেখার কথাও স্বীকার করেছে।
বাংলাদেশে শিশুদের অনলাইনে সুরক্ষা দেয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা আছে কি ? এ ক্ষেত্রে হতাশার চিত্রটিই বিরাজ করছে। বাংলাদেশে অনলাইন সম্পর্কিত আইন যেমন- ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, আইসিটি আইন বা পর্নোগ্রাফি আইনÑএগুলোতে মূলত জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এই আইনগুলোর কোনোটিতেই অনলাইনে শিশুকে সুরক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে আলাদাভাবে কিছু বলা নেই।
অনলাইনে শিশুদের যাতে নিরাপদ রাখা যায় সেজন্যে যুগোপযোগী আইন এবং নীতিমালা প্রণয়নের এখনই সময়। বিপদের মাত্রা আর না বাড়িয়ে এ বিষয়টিকেই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ