বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দায়

আপডেট: জুন ৬, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

পৃথিবীকে পুনরুদ্ধার করতেই হবে


জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পৃথিবীজুড়েই। উষ্ণতা বৃদ্ধির ক্রমপ্রবণতা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদীদের। একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে মানবজাতি গেলেও খুব কম লোকই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হচ্ছেন। পুঁজি বিস্তারের অপরিণাম প্রতিযোগিতা একান্ত ভাল সদিচ্ছাগুলোকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। এর ফলে পৃথিবী যে প্রাণের অস্তিত্বের জন্য অনুপযোগী হয়ে উঠছে এটা যারা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে পারে তারা তা করছেন না।

চলতি বছরের শুরু থেকেই প্রলস্বিত উষ্ণতা বাংলাদেশকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ ‘বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল জলবায়ু : আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণে ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সালের প্রবণতা এবং পরিবর্তন’ শীর্ষক জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক এক গবেষণার তথ্য-উপাত্ত উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৩ সাল বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। এবার ২০২৪ সালও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। অন্তত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তো বটেই। বলা হচ্ছে, ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে গ্রীষ্ম, অর্থাৎ গরমকালের দৈর্ঘ্য বেড়েছে। আগে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে তাপমাত্রা বেশি থাকলেও এখন সব ঋতুতেই তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকছে।

শুধু তাই নয়, গরমের সময়সীমার তারতম্যের পাশাপাশি বর্ষাকালের ক্ষেত্রেও বড়সড় পরিবর্তন হয়েছে। অর্থাৎ, মৌসুমি বায়ু দেরিতে প্রবেশ করায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বর্ষাকাল পিছিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বর্ষাকাল দেরিতে শুরু হওয়া মানে বাংলাদেশের কৃষিখাতের জন্য তা জোরালো এক ধাক্কা।

বিশ্বে গেলো কয়েক বছরে রেকর্ড গতিতে ভেঙেছে মেরু অঞ্চলের বরফস্তর, বেড়েছে উষ্ণতা। যা দেখে বিজ্ঞানীরা রীতিমতো শঙ্কিত। বুধবার (৫ জুন) প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষ স্থানীয় বিজ্ঞানী এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

আর্থ সিস্টেম সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দশকের গড় হিসেবের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ পর্যন্ত বিশ্বে তাপমাত্রা বেড়েছে ০ দশমিক ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

১৮৫০ সাল থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত প্রাক শিল্পযুগে ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি।
ভারতের শ্রী রাম ইনস্টিটিউট অফ হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, চেন্নাই-এর তথ্য বলছে, তীব্র দাবহাহের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে বয়স্কদের ওপর, শিশুদের ওপর, যারা বাইরে কাজ করছেন, প্রভাব পড়বে তাঁদের ওপরও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমান, ২০২৩-২০৫০ এর মধ্যে জলবায়ু সংকট, অপুষ্টি, বন্যাসহ একাধিক কারণে প্রতিবছর প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাবে।

এখন সময় উপলব্ধির। বৃক্ষরোপনকে প্রাধিকার দেয়ার এখনই মোক্ষম সময়। এছাড়া বায়ু এবং শব্দদূষণ ঘটায় এরকম যানবাহনের পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব যানবাহনও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, পাহাড়, সমুদ্র, যত্রযত্র আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় বর্জ্য পদার্থ ফেলাও একটা দায়িত্ব। সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পুনরুদ্ধার করতে হবে পৃথিবীকে। বিশ্বের দেশসমূহকে এ ব্যাপারে ঐকমত্য হয়ে জলবায়ু বায়ু পরিবর্তনের প্রবণতাকে রুখে দিতে হবে।