বিশ্ব পরিবেশ দিবস প্রকৃতির কাছেই ফিরতে হবে

আপডেট: জুন ৭, ২০২০, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

৫ জুন ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে এবারে করোনা মহামারিতে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে পালিত হয়েছে দিবসটি। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২০ এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘জীববৈচিত্র্য’। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির এ বছরের স্লোগান হচ্ছে ‘ইটস টাইম ফোর নেচার (সময় এখন প্রকৃতির)’।
পৃথিবীব্যাপি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণ এবারের পাতিপাদ্য বিষয়কে অধিক তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এর মধ্য দিয়েই একটি বোধের জন্ম হয়েছে আর তা হলো এই পৃথিবীটা শুধু মানুষের একার নয়। মানুষ প্রকৃতির একটি ক্ষুদ্র অংশই বটে। কিন্তু মানুষ চিন্তাশীল প্রাণী। সে পরিবর্তন করে, ভোগ করে এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখেÑ যা অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে উঠে না। কিন্তু বৃহত্তর প্রকৃতির অস্তিত্ব এবং তার অন্তর্নিহিত শক্তি ও গুঢ় তাৎপর্য ও প্রয়োজনকে কোনোভাবেই তুচ্ছ-জ্ঞান একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়। ভোগ করার প্রবণতা যখন ভীষণ আগ্রাসী হয়ে উঠে- তা হলে বিগড়ে যাওয়া প্রকৃতির কাছে তখন মানুষ শুধুই তুচ্ছ, ভীষণরকমের অসহায়। করোনাভাইরাস সেই বোধ দ্বারাই মানবজাতিকে তাড়িত করেছে।
মানুষ প্রকৃতির ওপর যে অত্যাচার করেছে তার ফলে পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। লোভের বশীভুত হয়ে প্রাকৃতিক বাফার অঞ্চলগুলি ধ্বংস করেছে যা রোগজীবাণুদের বন্য প্রাণী থেকে মানুষে ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। মানুষের এমন অবিবেচনাপ্রসূত আচরণই জীবের জীবন নয় বরং করোনাভাইরাসের মতো ভাইরাস বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। তাই প্রকৃতির দিকে যদি নজর না দিতে পারি, সামনের দিনে হয়তো এর চেয়েও ভয়াবহ কোনো ভাইরাস এসে ফের থামিয়ে দেবে মানুষের গতি। তাই এখন প্রকৃতির কাছেই ফেরার পালা।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের ঘাটতি, বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থার দুর্বলতা ও তার অপপ্রয়োগ, দুর্বল তদারকি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় দুর্নীতি বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও পরিবেশ দূষণ সমস্যার উল্লেখযোগ্য কারণ।
মানুষ যতই আধুনিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে, পরিবেশের উপরে ততই চাপ বাড়ছে। ফলে বাড়ছে কল কারখানার কালো বিষাক্ত ধোঁয়া এবং বর্জ্য। বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য, বাসস্থান এবং অন্যান্য চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বিলুপ্ত হচ্ছে বনাঞ্চল, নদী-নালা, খাল-বিল। সেই সঙ্গে বিলুপ্ত হচ্ছে এসব স্থানে বসবাস করা বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় বন্যপ্রাণী। পরিবেশবাদীরা এই জীববৈচিত্র্য রক্ষার তাগিদ দীর্ঘকাল ধরেই দিয়ে আসছেন। এ ব্যাপারে পৃথিবীর দেশগুলোও ঐকমত্য হয়েছে। উন্নয়ন ভাবনায় বিস্তর পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের ধারণা এখান থেকেই এসেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের শপথও গৃহীত হয়েছে। এই শপথ হলোÑ পরিবেশ, প্রতিবেশকে সমুন্নত রেখে পৃথিবীর সব মানুষ একযোগে এক সাথে নিয়ে উন্নয়ন করবে। এটা হলো হলো মানুষের আদর্শিক ও নৈতিক বিবর্তনের জায়গা- উপলব্ধিগত অবস্থান। কিন্তু আধিপত্যবাদ-আগ্রাসন এসব কিছুকে ছাপিয়ে যায়। এরজন্য পৃথিবীর শান্তি, সাম্য বিনষ্ট হয়Ñপ্রকৃতির ওপর চলে স্বেচ্ছাচার- নিষ্ঠুরতা। এর ফলে সাধারণ মানুষও জীবন-জীবিকার প্রশ্নে হয় বিপর্যস্থ।
মানুষ প্রকৃতির কোলেই নিরাপদ। সেই কোল বা আশ্রয় মানুষ নষ্ট করে দিতে পারে না। এর ফলে হয়ত একদিন মানবসভ্যতাই ধ্বংস হয়ে যাবে। বিশ্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বের বোধোদয় এ ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজন। যে শপথ ইতোমধ্যেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষের মধ্যে প্রতিভাত হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব সে পথে এগোলেই মানুষের কল্যাণ হয়, প্রকৃতির কল্যাণ হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ