বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আবেদন

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের পদক্ষেপ প্রত্যাশা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মদ ও কোমল পানীয়র ওপর অধিক হারে কর বসানোর পক্ষে মত দিয়েছে। বিশ্বের সব দেশের সরকারের কাছে সংস্থাটির আবেদন, এই কর বসালে অনেক মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হবে। সব দেশের করের হার পরীক্ষা করার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৫ ডিসেম্বর জানিয়েছে, এই অস্বাস্থ্যকর পানীয়র ওপর করের হার খুবই কম। কিছু ইউরোপীয় দেশে ওয়াইনের ওপর তো কোনো করই নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, মদ্যপানের কারণে প্রতিবছর ২৬ লাখ মানুষ এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে ৮০ লাখ মানুষ প্রতিবছর মারা যান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই আবেদনে মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ চিত্রই ফুটে উঠেছে। সংস্থাটির মতে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য-পানীয়র ওপর কর বসালে মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার খায়। এর একটা ইতিবাচক প্রভাব সমাজে পড়ে। অসুখ কম হয়। সরকারের রাজস্ব বাড়ে। তা দিয়ে মানুষকে পরিষেবা দেয়া সম্ভব হয়। অ্যালকোহলের ওপর বেশি কর বসালে সহিংসতা ও রাস্তায় দুর্ঘটনার সংখ্যাও কমবে।

জনমানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উল্লিখিত তথ্য নিরেট বাস্তবতার আলোকেই গ্রহণযোগ্য। মদ্যপ মানুষ বিশেষ করে আমাদের সমাজে কোনো বোধ-বুদ্ধি-বিবেচনার সক্ষমতা রাখে না। বরং পরিবার ও সমাজে অশান্তিই বয়ে আনে। সহিংসতার সৃষ্টি করে এবং পরিবারকে আর্থিকভাবে দুর্বল করে দেয়। এ ছাড়াও নিজ পরিবারকে সমাজে যেমন হেয়প্রতিপন্ন করে তেমনি পরিবারের সদস্যরা তার মতই মদ্যপ-উচ্ছেন্নে হয়ে উঠতে পারে। পারিবারিক সহিংসতা বড় একটি অংশ মদ্যপ ব্যক্তিদের দ্বারাই সংঘটিত হয়ে থাকে। মোটের ওপর পরিবার ও সমাজকে অস্থির করে তুলতে মদ্যপ ব্যক্তির কোনো জুড়ি নেই।

জাতির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মদ ও জুয়ার সমাজে অনিষ্টকর প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই তিনি দেশে মদ ও জুয়া বন্ধ করেছিলেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের তিন দিনের মাথায় ১৯৭২ সালের ১৫ জানুয়ারি এক সরকারি অদেশে দেশে মদ, জুয়া, হাউজি, ঘোড়দৌড় নিষিদ্ধ করেছিলেন। এমনকি তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে জুয়া, মাদক, ব্যভিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিধানও সংযোজন করেন। কিন্তু ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর এ দেশে আবারো মদ ও জুয়ার প্রচলন হয়। রাজনীতিতে ধর্মের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে একই সাথে মদ ও জুয়ার বিস্তার ঘটানো হয়। বঙ্গবন্ধু ধর্মকে কখনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। একই সাখে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের এ দেশে ইসলামি মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে চেয়েছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আজকের যে উপলব্ধি বঙ্গবন্ধু তা স্বাধীন বাংলাদেশের শুরুতেই করেছিলেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মদ ও কোমল পানীয়ের অপর অধি হারে করারোপ করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জনসংহতি গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নিবেÑ এ প্রত্যাশাই রইল।