বীজতলায় সবুজ-সতেজ চারা ।। মান্দায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের সম্ভাবনা

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৭, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

জিল্লুর রহমান, মান্দা



নেই ঘন কুয়াশা কিংবা শৈত্যপ্রবাহ। এ কারণে কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয় নি বোরো ধানের বীজতলা। আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় বীজতলার চারাগুলো হয়ে উঠেছে সবুজ ও সতেজ। চলতি মৌসুমে নওগাঁর মান্দা উপজেলায় প্রায় এক হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে কোনো কোনো এলাকায় রোপণ কাজ শুরু করেছে কৃষক। মাঘ মাস থেকে পুরোদমে এ চারা রোপণ কাজ শুরু হবে বলে। গতবছর উপজেলায় ১১শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। বীজতলাগুলোর চারা দিয়ে প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের চাষ করেছিল কৃষক। প্রতিবছরই শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোপণ কাজের জন্য অনেক কৃষককে দ্বিতীয় দফায় বীজতলা তৈরি করতে হয়। কেউ কেউ আবার বাজার থেকে চারা কিনে রোপণ কাজ করে থাকেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় এক হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ বীজতলায় সবুজ ও সতেজ চারা উৎপন্ন হয়েছে। বিরুপ আবহাওয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত হবার শঙ্কায় কৃষকরা গত বছরের চেয়ে ৩৯৫ হেক্টর জমিতে বেশি বীজতলা তৈরি করেছেন। এ কাজে সফলও হয়েছেন কৃষক। এতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পর উদ্বৃত্ত চারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কথা হয় উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক গোলাম রাব্বানী, নুরুল্লাবাদ গ্রামের মনসুর রহমান, এনায়েতপুর গ্রামের অমল চন্দ্র সরকারসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে। তারা জানায়, বিরুপ আবহাওয়ার কারণে প্রতিবছরই বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। এ জন্য চলতি মৌসুমে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। আগাম বীজতলা তৈরি করে ভালমানের চারা উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, চলতি মৌসুমে এক হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে উফসী ও ৯০ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড জাতের চারা তৈরি করেছেন কৃষক। উপজেলায় এ বছর ২২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পরও এবার চারা উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।