বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি চলবে

আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নিষিদ্ধ ছাত্র রাজনীতির দাবি ভয়ঙ্কর সর্বনাশা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে জারি করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে বুয়েটে রাজনীতি চলতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। একইসঙ্গে রুল জারি করেছেন আদালত। এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১ এপ্রিল) বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ নিহত হন। এর প্রতিবাদে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের দাবির প্রেক্ষিতে ১১ অক্টোবর বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন বুয়েট কর্তৃপক্ষ। ছাত্রলীগ নেতা ইমতিয়াজের রিটে এই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।

২৭ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে বুয়েটে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন একদল নেতাকর্মী। এর প্রতিবাদে শুক্রবার আন্দোলনে নামেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর বুয়েটে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে নতুন করে রাজনীতি শুরুর পাঁয়তারা হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এই আন্দোলন চলাকালেই আদালতের স্থগিতাদেশ আসলো।

আদালত সংবিধান স্বীকৃত অধিকারকেই সমুন্নত রেখেছেন। প্রতিটি মানুষের রাজনীতি করা অধিকার আছে। এ অধিকার কোনো কর্তৃপক্ষ খর্ব করতে পারেন না। তবে রাজনীতি নিয়ে তরুণদের মধ্যে অনেক প্রশ্ন-অনীহা আছে। এর সঙ্গত কারণ বা কারণ সমূহ জাতীয় রাজনীতির মধ্যেই খুঁজতে হবে। কারণগুলো বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় সমাধানের অন্য কোনো বিকল্প নেই। এটা সম্ভব না হলে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে ‘নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করা যাবে না।

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের ফলে যে ভয়ানক দৈত্য-সমষ্টির উত্থান ঘটবে তাতে দেশ ও দেশের মানুষের নিরাপত্তাই ভয়ঙ্কর ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কেননা প্রকাশের রাজনীতি বন্ধ হলেও নেপথ্যের রাজনীতি বন্ধ করার সুযোগ থাকে না। এতে গোপন সাংগঠনিক তৎপরতা চালাবার ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিরাপদ ও সহজ হয়ে পড়ে। এই দৈত্যকে মোকাবিলার দায়িত্ব কে বা কারা নিবে? এ নিশ্চয়তা দেয়া কি সম্ভব?

এটা ঠিক যে, ছাত্র রাজনীতি খেই হারিয়েছে। পথহারা এই রাজনীতি সঠিক পথে ফেরাবার উদ্যোগ না নিয়ে তা নিষিদ্ধ করার দাবি আত্মঘাতী নয় কি? বাঙালি জাতির রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, অর্জন আর সব মেধার থেকে উজ্জ্বল ও অন্যন্য। আর মেধা দিয়ে এটাকে যাচাই বা তুলনা করার অর্থই হবে জাতিসত্তাকেই অস্বীকার করা। পরিস্থিতিটা এমনই যে, ‘ডাঙ্গায় বাঘ, জলে কুমির।’ ভুলে গেলে চলবে না এই উভয় সঙ্কটে প্রাণপ্রাচুর্য রক্ষা করার জন্য পানির সুরক্ষা নিশ্চিত করাও অপরিহার্য। তারপর বাঘ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অগ্রগণ্য।

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতিতে সুষ্ঠু ধারা ফিরিয়ে আনতে আন্তরিক উদ্যোগের প্রয়োজন। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে যে রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হবে তা পূরণ করা খুবই কঠিন হয়ে যাবে। সেটা একটি জাতীয় পরিচয়কে বিনাশ করে দিতে পারে। নিশ্চয় সভ্যতা বিরোধী বর্বর রাজনৈতিক ধারার উত্থান কারোরই কাম্য নয়।