বুস্টার ডোজের টিকা নিলেন রাণীনগরের ২৬ হাজার মানুষ

আপডেট: জুন ১২, ২০২২, ৩:০০ অপরাহ্ণ


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁর রাণীনগরে সপ্তাহব্যাপী চলমান করোনার বুস্টার ডোজ সপ্তাহে টিকা নিয়ে সুরক্ষিত হয়েছেন উপজেলার ২৬হাজার ১৫০জন মানুষ। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী করোনার টিকার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ প্রদান কার্যক্রম সপ্তাহ শুরু হয় গত সপ্তাহের শনিবার (৪জুন) থেকে।

আর শুক্রবার (১০জুন) বন্ধ থাকায় রাণীনগরে সপ্তাহ শেষ হয়েছে গত শনিবার (১১জুন)। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বেধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মানুষ বুস্টার ডোজের টিকা গ্রহণ করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো: মশিউর রহমান জানান, ইতিমধ্যেই আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মানুষকে টিকা প্রদান করেছি। মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি হওয়ার কারণেই বুস্টার ডোজ নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন উপজেলার মানুষরা।

সপ্তাহ চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বয়স্ক থেকে শুরু করে যাদের দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের পর তৃতীয় ডোজ গ্রহণের সময় হয়েছে তারা সকলেই হাসপাতালে এসে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন।

এছাড়াও বুস্টার সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার এই দুই দিন উপজেলার ওয়ার্ড পর্যায়ে মর্ডানা ও এ্যাস্টোজেনিকার তৈরি ডোজের টিকাদান কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শেষ করেছি।

বুস্টার ডোজের সপ্তাহে পুরো উপজেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে লক্ষ্যমাত্রা প্রদান করা হয়েছে ২৪হাজার ৯শত। আর মাঠ পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৪হাজার ৪শত। সেখানে মর্ডানার টিকা প্রদান করা হয়েছে ৭হাজার ও এ্যাস্টোজেনিকার টিকা প্রদান করা হয়েছে ১১হাজার ৯১০জনকে।

তিনি আরো বলেন, সপ্তাহের প্রতিদিন হাসপাতালের তিনটি বুথ থেকে ফাইজারের তৈরি বুস্টার ডোজের টিকা প্রদান করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীরা পূর্বে গ্রহণ করেনি তাদেরকেও প্রদান করা হয়েছে। যারা বুস্টার ডোজ গ্রহণের এসএমএস পেয়েছিলেন এবং যারা এসএমএস না পেলেও তৃতীয় ডোজ গ্রহণের সময় হয়েছিলো তাদেরকেও বুস্টার ডোজের টিকা প্রদান করেছি।

আগ্রহভরে উপজেলার মানুষরা সুশৃঙ্খল ভাবে বুস্টার ডোজের টিকা গ্রহণ করায় অনেকটা সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে আমরা সকলের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে সপ্তাহটি শেষ করতে পেরেছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন অংকুর বলেন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মানুষকে বুস্টার ডোজের টিকা দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি।

হাসপাতালের সকলের সহযোগিতার কারণেই বুস্টার সপ্তাহটি আমরা সুন্দর পরিবেশে শেষ করতে পেরেছি বলে জেলা, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকলকে ও সর্বোপরি উপজেলাবাসীকে জানাই ধন্যবাদ।

সপ্তাহ চলাকালীন সময়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা গ্রহণের প্রয়োজনতার উপর সকল শ্রেণির মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হওয়ার কারণেই তারা হুমড়ি খেয়ে বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন। তাই সরকার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যে মিশন ও ভিশন গ্রহণ করেছিলো তা সম্পন্ন সফল হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ