বৃষ্টি নেই, বাড়ছে ফসলের ঝুঁকি

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০২১, ৯:০৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী জেলায় শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা রয়েছে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। তাপমাত্রা বেশিতে ক্ষতির মুখে পড়েছে আম, লিচু, ধানসহ অন্যান্য ফসল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় শুকিয়ে যাচ্ছে ধানগাছ, ফলের বোটা। এতে ঝরে যাচ্ছে বিভিন্ন ফলও। এছাড়া ধানের শীষগুলো সাদা হয়ে মরে যেতে দেখা যাচ্ছে। ধান চাষিরা আতঙ্কে রয়েছেন।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৪ এপ্রিল বিকেল চারটার পর থেকে হঠাৎ গরম বাতাস বইতে শুরু করে। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর ছিল। এছাড়াও গত দু-সপ্তাহ ধরে প্রায়ই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। যা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করেছে। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আর্দ্রতা না থাকায় ধানের ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে মোট ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। রোববারের (৪ এপ্রিল) বৃষ্টি ও আর্দ্রতাহীন শুষ্ক ঝড়ে ২৮ হেক্টর জমির বোরো ধান হিট শকে পুড়েছে। হেক্টর প্রতি ৬ মেট্রিকটন ধান হিসেবে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬৮ মেট্রিকটন। এখানেই শেষ নয়, ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ড. মো. ফজলুল ইসলাম বলেন, এবার দীর্ঘ সময় বৃষ্টির দেখা নেই। আবহাওয়া অত্যন্ত রুক্ষ। ৪ এপ্রিল সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ছাড়াই ঝড় শুরু হয়। সেদিন বাতাস ছিল অতিরিক্ত গরম। আর্দ্রতা ছিল শুণ্যের কাছাকাছি। ফলে ওইদিন যেসব ধানের শীষ বের হয়েছিল সেগুলোর ফুল ঝরে যায়।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন বৃষ্টির দেখা নেই, তার উপরে কালবৈশাখীর হানায় ঝরেছে আমের গুটি। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি ২০ শতাংশ আম ঝরে গেছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাড়তি যতœ নিচ্ছেন তারা।
৪এপ্রিল রাজশাহীতে মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী হানা দেয়। ঝড়ের গতি ছিলো ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার। এসময় শিলাবৃষ্টি হয়েছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। ঝড়ে আম ও লিচুর গুটি ঝরেছে বলে চাষী ও ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক এসএম রেজওয়ানুল হক জানিয়েছিলেন, রোববার মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় ছিলো। এসময় ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে পুঠিয়া ও বাঘায় শিলা বৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী কৃষি বিভাগ বলছে- এবছর জেলার ১৮ হাজার হেক্টর জমির বাগানে সোয়া দুই লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তারা। তারা বলছেন- মুকুলের পরে গাছে প্রচুর আম ধরে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে এমনিতেই ঝরে যায়। এখনও যে আম আছে তা গাছে থাকলে ভেঙ্গে পড়বে।
চাষী ও ব্যবসায়ীরা বলছেন- দীর্ঘ খরার পরে কালবৈশাখী। এতে অনেক আমের গুটি ঝরে গেছে। এছাড়া গাছের ডালও ভেঙ্গেছে। এতে করে অর্থিকভাবে ক্ষতির কথা ভাবছেন তারা। শুধু তাই নয়-ভালো ফলন নিয়ে শঙ্কিত তারা।
আমচাষি সাইফুল ইসলাম বলছেন- আমের মুকুল আসা থেকে শুর করে এখন পর্যন্ত একদিনও বৃষ্টি হয়নি। অতিরিক্ত তাপ ও খরা চলছে। এরপরে শুকনা ঝড়। এতে করে ২০ শতাংশ আম ঝরে গেছে। এখন গাছে যে আম আছে সেগুলো ভালোভাবে পরিচর্যা করতে হবে। গুটি ঝরা ও পোকার আক্রমণ রোধে কিটনাশক স্প্রে করছেন তারা।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলিম জানান- আক্রান্ত ফল গাছে থাক আর মাটিতে থাক সেটি সংগ্রহ করে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. আউয়াল বলেন, জেলায় এবার ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। বৃষ্টিহীন ঝড়োবাতাস হয়েছে। এছাড়া তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় ও বাতাসে আর্দ্রতা না থাকায় বোরো ধানের ক্ষেতের শীষ মরে যাচ্ছে। তবে সেই ঝড়ে আম ও লিচুর তেমন ক্ষতি হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ