বৃহত্তর রাজশাহীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ।। পানিবন্দি মানুষ : ফসলের ক্ষতি

আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০১৭, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মোহনপুর শিব নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা -সোনার দেশ

রাজশাহীর মোহনপুর, তানোর ও বাগমারা এবং নওগাঁর মান্দা ও বদলগাছী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বাঁধ ভেঙে এসব উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হাজারো বিঘা ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সেইসঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উদাসিনতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
মোহনপুর : উপজেলার ভীমনগর নামক স্থানে শিবনদীর বেড়িবাঁধ ভাঙার ২৪ ঘণ্টা পর হলেও গতকাল সোমবার সন্ধা পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে নি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রবল ¯্রােতের তোড়ে নতুন করে হাজারো বিঘা জমির ফসল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুনের দাবি- ভীমনগর বেড়িবাঁধ ভেঙে এই পর্যন্ত ৬৭৯ বিঘা জমির ফসল প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে উঠতি রোপা-আমন, রোপা-আঊশ, পটল, পান বরজ, করলা, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজির খেত রয়েছে। এই তথ্য এরই মধ্যে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা। এদিকে, বেড়িবাঁধ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধ ভেঙে প্রবল ¯্রােতে হু হু করে পানি ঢুকছে। ওই পয়েন্টে থাকা একটি গভীর নলকূপের কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক খুঁটি বিলমাইল বিলে বিলিন হয়ে গেছে। রোববার বিকেল থেকে গতকাল সোমবার সন্ধা পর্যন্ত উপজেলার ধুরোইল ইউনিয়নেরর ভীমনগর, লক্ষীপুর, পালসা, খানপুর, মজলিশবাড়ি, মল্লিপুর, পিয়ারপুর এবং ঘাষিগ্রাম ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি শ্যামপুর, আতা নারায়নপুর, ঘাসিগ্রাম, পাইকপাড়াসহ দুই ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে মোহনপুর উপজেলার বাকশিমুইল, জাহানাবাদ, রায়ঘাটি, মৌগাছি ইউনিয়নসহ পশ্চিম বাগামারা। রাতের মধ্যে এই গ্রামগুলোতেও শিবনদীর পানি ঢুকে প্লাবিত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, বেড়িবাঁধের ওই পয়েন্টে প্রবল ¯্রােতে পানি ঢুকছে। ¯্রােতের তোড়ে কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই মুহূর্তেই নিতে পারছেন না তারা। মঙ্গলবার সকাল থেকে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ নিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করবেন।
মোহনপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন। এখন বিষয়টি তাদের। তারা যেভাবে চাইবেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে। এর আগে রোববার বিকেলে পানি ঢোকার স্থানটি একসঙ্গে ২০ থেকে ২৫ ফুট ভেঙে যায়। সোমবার সন্ধা পর্যন্ত ভেঙে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ ফুট । প্রথম দিনে স্থানীয়রা গাছ কেটে ভাঙা স্থানে ফেলে বাঁধের পানি বন্ধে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শিব নদীর বেড়িবাঁধের সুইস গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে বিশ্বজিৎ নামের এক ব্যক্তি বিলমাইল বিলে মাছ চাষ করছিল। এর ফলে বন্ধ থাকা সুইস গেটের পাশ দিয়ে ছোট ছোট গর্ত দিয়ে পানি বের হতে থাকে। এরই মধ্যে কয়েকদিনের ভরী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে নদী ফেঁপে গিয়ে ওই স্থানটি পানির চাপে ভেঙে যায়। স্থানীয় কৃষক সাহেব আলী, মাজেদুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, ইয়াদ আলী, এমদাদ হোসেনসহ অনেকে জানান, শিবনদীর বেড়ী বাঁধে কয়েকটি সুইস গেট পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে বিলমাইল বিলে উপজেলার মেলান্দী গ্রামে বিশ্বজিৎ নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার কৃষকরা প্রতিবাদ করেও কোন লাভ হয় নি।
ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজিমউদ্দিন সরকার বলেন, বেড়ি বাঁধের সুইসগেটের তাদারকি করার কথা থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড তা করে নি। সারা বছরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা কর্মচারিদেও দেখা মিলে না। বাঁধ রক্ষাণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবহেলার কারণেই আজকের এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত এলাকা থেকে বাঁধের পশ্চিম পাশে পানির অবস্থা ৪ থেকে ৫ ফুট উচু। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে রাজশাহীর মোহনপুর ও পাশের পশ্চিম বাগমারার অঞ্চলটি তলিয়ে যাওয়া আশঙ্কায় করছেন গ্রামবাসী। পানির প্রবল ¯্রােতে প্রথমত ধুরইল ও ঘাষিগ্রাম ইউনিয়নের সবগুলো গ্রামের ফসল, পান বরজ, তলিয়ে গেছে। এদিকে বেড়িবাঁধ ও প্লাবিত এলাকা সংরক্ষিত আসনের সাংসদ আখতার জাহান ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন পরিদর্শন করেছেন।
তানোর : ভারী বর্ষণে এ উপজেলায় তলিয়ে গেছে নিচু এলাকার রোপা আমনের কয়েক হাজার হেক্টর ফসলের খেত। এছাড়া পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় শতাধিক পরিবার। এ কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওইসব এলাকার কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ। তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শওকাত আলী, তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায় অফিসের সহকারী প্রকৌশলী এনামুল হক, তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান, কমারগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন ও চান্দুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে দেখা করে তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিতে শিবনদীর ফুলে ফেপে উঠেছে। এতে করে মুহূর্তের মধ্যে নিচু এলাকার রোপা আমন খেত তলিয়ে যায়। সেইসঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শতাধিক পরিবার। এরমধ্যে রয়েছে তানোর শিতলীপাড়া, কুঠিপাড়া ও দেওতলা গ্রাম।
এনিয়ে তানোর পৌর এলাকার কৃষক খলিলুর রহমান ও মামুন জানান, এবার শ্রাবনের টানা কয়েক দিনের বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নিচু এলাকার রোপা আমনের প্রায় ১০ বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে তালিকা প্রস্তুত কিংবা খোঁজ নেন নি কেউ। তানোর পৌর এলাকার হলদার পাড়ার পানিবন্দি দিপক ও ড্রেন পাড়ার ফরিদসহ ১০ থেকে ১৫টি পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, আমরা পানিবন্দি হয়ে আছি। কোনমতে অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটতে। কেউ আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করছেন না। সরকার যেন আমাদের মত পানিবন্দি মানুষের পূনর্বাসনসহ ও সাহায্যের হাত বড়িয়ে দেন। তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান জানান, আমি নিজে সোমবার সকাল থেকে পৌর এলাকার ঘুরে পানিবন্দি ও রোপা আমন ধানের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করছি। তাদের সরকারি সাহায্যের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নিচু এলাকার রোপা আমন খেতের ক্ষতি হয়েছে। তবে, কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা আমি জানাতে পারেন নি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শওকাত আলী বলেন, আমি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করার জন্য কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। পানিবন্দি মানুষদের তালিকা করার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারকে বলা হয়েছে। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাথমিক তথ্য নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করা হবে।
মান্দা : এ অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত রোববার রাতে আত্রাই নদীর পশ্চিম তীরের পৃথক তিনটি স্থানে মূল বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির রোপা-আমনের খেত। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। উচু স্থান ও সড়কে আশ্রয় নিয়েছে দুর্গত মানুষ। এসব এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক সাংসদ বলেন, শঙ্কা ও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই। পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। যে কোনো মুল্যে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হবে। এদিকে মান্দা উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই, ফকির্নি ও শিবনদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আত্রাই নদীর পানি বিপদ সীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছিল। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলে ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বৃষ্টি না থাকলেও উপজেলার সবকটি নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে সাতটি বেড়িবাঁধসহ তিনটি স্থানে মূল বাঁধ ভেঙে গেছে। গত রোববার রাতে উপজেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে আত্রাই নদীর ডান তীরের সুজনসখী খেয়াঘাট, চকরামপুর ও কয়লাবাড়ি নামকস্থানে নদীর মূল বাঁধ ভেঙে উপজেলার নূরুল্লাবাদ, কুসুম্বা, কালিকাপুর, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া আত্রাই নদীর উজানে ভালাইন ও মান্দা, ভাটিতে প্রসাদপুর, কশব ইউনিয়নের বহু এলাকা তলিয়ে গেছে। শিবনদের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ভারশোঁ ও তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের একাংশ। ইতোমধ্যে বাঁধ ভেঙে বিলিন হয়ে গেছে চকরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া বুড়িদহ উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বাঁধে ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় বাগমারা উপজেলার সোনাডাঙ্গা, গোবিন্দপাড়া ও নরদাশ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বন্যা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত শুক্রবার থেকে আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। গতকাল সোমবার বিকেলে আত্রাই নদীর পানি বিপদ সীমার ১৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়। ফলে মান্দা উপজেলার বিভিন্নস্থানে নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, নুরুল্লাবাদ গ্রামের জিল্লুর রহমান, আবদুল মতিনসহ আরো অনেকে জানান, বুড়িদহে বাঁধ (পাকা সড়ক) ভাঙ্গার কারণে উপজেলা সদরের সাথে পূর্বমান্দাসহ আশপাশের অন্তত শতাধিক গ্রামের সড়ক পথের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। তারা জানান যেভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে তাতে এবারের বন্যা স্মরণকালের বন্যার মুখোমুখী হতে পারে। এদিকে সোমবার দুপুরে মান্দা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি সমন্বয়সভা ইউএনওর হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক ও জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান। সভায় জরুরিভাবে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের নিকট ত্রাণ সামগ্রী পৌছানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করেন মন্ত্রী। বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য তাৎক্ষনিকভাবে পাঁচ মেট্রিকটন চাল ও ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, প্রাথমিকভাবে দুই হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমির আউশ ও আমন ধানসহ সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরো বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের প্রতিনিধি দেওয়ান ওয়ালী হোমেন পিন্টু জানান, দুর্গত এলাকায় পবাদি পশুর চিকিৎসা ও প্রতিষেধকের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান, বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ মনিটরিং কমিটির গঠন করা হয়েছে। এর আগে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও একটানা বর্ষণে আত্রাই, ফকির্নি ও শিবনদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে সাতটি বেড়িবাঁধসহ তিন স্থানে মূল বাঁধ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বদলগাছী : ছোট যমুনা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বদলগাছীতে। এনায়েতপুর তাজপুর ও ইদ্রাকপুর বেরী বাঁধ মারাত্নক হুমকীর সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে উপজেলা নি¤্নাঞ্চল সহ বিলাশবাড়ী ও আধাইপুর ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়ে পড়ে। হাজার হাজার বিঘা রোপা আমন পানির নিচে তলিয়ে যায়। এদিকে উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সোমবার দুপুরের পর এনায়েতপুর পালপাড়া গ্রাম প্রটেকশানমূলক বাঁধ ভেঙ্গে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়ে। অপরদিকে বিলাশবাড়ী ইউপির এনায়েতপুর তাজপুর ছোট যমুনা নদীর বেরীবাধ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়লে এলাকাই মাইকং করে গ্রামবাসী বস্তা মেরে রক্ষা করে এবং সেখানে পাহারা চলছে। বালুভরা ইউপির ইদ্রাকপুর বাঁধ ভেঙ্গে পড়ার হুমকির দেখা দিলে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড এসে খুটি খাম্বা মেরে কিছু বস্তা ফেলে চলে যায়। এলাকাবাসী জানায়, ইত্রাকপুর বেরীবাধ খুবই বিপদজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পারসোমবাড়ী ছোট যমুনা নদীর উপর নবনির্মিত ব্রিজের দক্ষিণ দিকে সংযোগ সড়ক ডুবে যায়। বিলাশবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান কেটু বলেন, এনায়েতপুর ও তাজপুরে হুমকি স্থান রক্ষায় সে বস্তা দিয়েছে। গ্রামবাসী সেখানে পাহারা দিচ্ছে। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আলী বেগ জানান, আমি কিছু এলাকা ঘুরেছি। এছাড়া পিআইওকে বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ