বৃহত্তর রাজশাহীতে সাংসদদের নিরাপত্তা জোরদার

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৭, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


Image result for জামায়াত-শিবির

জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত বৃহত্তর রাজশাহীর তিন জেলায় সাংসদদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে এ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধায় সরকার দলীয় সাংসদ লিটন খুন হওয়ার পর জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত সারাদেশের ২২ জেলার সাংসদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদর দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার এসপিদের কাছে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সাংসদদের সার্বক্ষণিক দেহরক্ষীর পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশি তৎপরতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে সাংসদদের পরামর্শও নিতে বলা হয়েছে।
সূত্র মতে, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো হচ্ছে- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, বগুড়া, লালমনিরহাট, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, পাবনা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জ, ঝিনাইদহ, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্রগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও নীলফামারী।
এ ব্যাপারে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, এক সময় বাগমারা সর্বহারা ও জেএমবির ঘাঁটি ছিলো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জেএমবি ও সর্বহারা দলের সঙ্গে সম্পৃক্তরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এখন বাগমারায় বিভিন্ন দল, মত ও ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছেন। এরপরও কোন গোষ্ঠী যদি এ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকা- বা নাশকতার পরিকল্পনা করে, তবে তাদের প্রতিরোধ করা হবে। তারপরেও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ বেগম আখতার জাহান বলেন, আওয়ামী মাটি ও মানুষের রাজনীতি করে। সব দেশেই উন্নয়নবিরোধী নাশকতাকারীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। আমরা অতীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণকে সাথে নিয়ে সব অপচেষ্টা রুখে দিয়েছি। তারপরেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের সতর্কতামূলক উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ গোলাম রাব্বানী বলেন, শিবগঞ্জ-কানসাটের মাটিতে জামায়াত-শিবির আর তা-ব চালাতে পারবে না। তারা সে চেষ্টা করলে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে। প্রয়োজনে জীবনবাজি রেখে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রতিহত করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস জানান, তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেন। আর বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা ভয়ের তোয়াক্কা করেন না। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাবেন।
একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান নাটোর সদরের সাংসদ শাফিকুল ইসলাম শিমুল। তিনি বলেন, জামায়াত-বিএনপি একসময় নাটোর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। কোন গোষ্ঠী যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে, তাহলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।
সার্বিক ব্যাপারে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশিদ হোসেন জানান, জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় সাংসদদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন। তারপরেও গাইবান্ধায় একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ