বৃহস্পতিবার খুশির ইদ

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০২৪, ১২:২২ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সারা দেশে উদযাগিত হবে পবিত্র ইদুল ফিতর।
ইদ-উৎসব আয়োজন প্রস্তুতির ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। টুকটাক যা বাকি আছে তা বুধবার (১০ এপ্রিল) সম্পন্ন হচ্ছে।
এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। এটি মুসলমানদের উৎসব হলেও এর তাৎপর্য- সর্বস্তরের মানুষের মহামিলন। এই মিলন সম্প্রীতি ও শান্তির, ভ্রাতৃত্বের।
ইতোমধ্যে ইদকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। কেন্দ্রীয় ইদগাহসহ নগরীর সব ইদগাহের প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ইদের কেনাকাটাও। কেনাকাটা থেকে শুরু করে ইদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন সবাই। যদিও কেনাকাটার পর্ব শেষের দিকে। চলছে ইদ উদযাপনের নানা প্রস্তুতি। শিশু-কিশোরদের মধ্যে বইছে আনন্দ-ধারা। এরই আয়োজন দিকে দিকে, ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর ব্যস্ততা ঘিরে। আর চলছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও মোবাইলের মেসেজে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময়।

রমজান মাস সংযমের। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কৃপা লাভের মধ্য দিয়ে বিগত জীবনের পাপরাশি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় রোজা পালন করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। কোরআন পাঠ করেছেন, দান খয়রাত করেছেন, মগ্ন থেকেছেন বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে। মাসব্যাপি এই সিয়াম সাধনার পরিসমাপ্তি ঘটবে ইদ-আনন্দের মধ্য দিয়ে।

ইদের দিনটি ধনী-গরিব, আশরাফ-আতরাফনির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এ দিক থেকে ইদ কেবল আনন্দের বার্তাই নিয়ে আসে না, ইসলামের সাম্যের এক বড় পরিচয় উদ্ভাসিত হয় এই আনন্দঘন উৎসবের মধ্য দিয়ে।

প্রিয়জনের সঙ্গে ইদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজশাহী থেকে গ্রামের বাড়িতেও যাত্রা শুরু হয়েছে গত কয়েকদিন থেকে। আবার রাজশাহীর বাইরে থেকে স্বজনদের সাথে ইদ আনন্দ ভোগ করতে ফিরে এসেছে নাড়ির টানে।

চাঁদ রাত থেকেই ঘরে ঘরে শুরু হবে সাধ্যমতো উপাদেয় খাবার তৈরির আয়োজন। ‘সেমাইয়ের ইদ’ নামে প্রচলিত এই ইদে নানা রকম সেমাইয়ের সঙ্গে থাকবে ফিরনি, পিঠা, পায়েস, পোলাও, কোর্মাসহ সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। বিশেষ আয়োজন থেকে বাদ যাবে না হাসপাতালের রোগি, কারাগারের বন্দি বা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত কর্মীরাও। হাসপাতাল, এতিমখানা ও বন্দিদের জন্য কারাগারগুলোতে উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে প্রথাগতভাবে। সরকারি শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে কল্যাণকেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণকেন্দ্রেও থাকবে বিশেষ খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা।

ইদ উপলক্ষে ইতোমধ্যে দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকা প্রকাশ করেছে ইদের বিশেষ সংখ্যা ম্যাগাজিন ‘ইদ সংখ্যা ২০২৪’। স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোও প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। আর এই আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল এবং বেতার সমূহে আছে ইদের বিশেষ অনুষ্ঠান-মালা।

এ বছর ৩০টি রোজাই পূর্ণ হলো। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দেশের আকাশে কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে বাংলাদেশে পবিত্র ইদুল ফিতর উদযাপিত হবে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল)। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭:৩০ টার দিকে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে এই তথ্য জানানো হয়।

মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের সভাকক্ষে চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি বলেন, দেশের ৭টি বিভাগীয় এবং ৬৪টি জেলা কার্যালয় থেকে চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর থেকেও পর্যবেক্ষণ চালানো হয়েছে। কিন্তু কোথাও চাঁদ দেখার খবর পাওয়া যায়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ