বেঁচে থাকতে চাই না, স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন রাজীব হত্যায় সাজাপ্রাপ্তর

আপডেট: জুন ২৩, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


২৭ বছরের বেশি সময় ধরে জেলবন্দি তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জেলে থাকতে থাকতে বাঁচার ইচ্ছেটাই হারিয়ে ফেলেছেন রাজীব গান্ধী হত্যা কা-ে সাজাপ্রাপ্ত রবার্ট পিওস। সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছে সে।
১৯৯১ সালে ২১ মে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরাম্বুরে এক জনসভায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হন দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। ঘটনায় তামিল টাইগার রবার্ট পিওস-সহ সাত অভিযুক্তকে  দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। রবার্ট পিওস-সহ চারজনের যাবজ্জীবন কারাদ-ের সাজা হয়। যদিও রাজীব গান্ধীর সাত হত্যাকারীকেই মুক্তির দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। এই প্রেক্ষাপটে  স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়ে চেন্নাইয়ে পুজহল সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে এই মামলার অন্যতম সাজাপ্রাপ্ত রবার্ট পিওস। চিঠিতে সে লিখেছে, ‘ ২৭ বছরের বেশি সময়ে ধরে আমি জেলে রয়েছি। সরকারের উদ্দেশ্যটা বুঝতে পারছি। এই ক’বছরের পরিবারের কেউ আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেনি। তাই আমি আর বেঁচে থাকার কোনও অর্থই খুঁজে পাচ্ছি না।’ রবার্ট পিওসের দাবি,  ১৯৯৯ সালে রাজীব হত্যা মামলার রায় ঘোষণার সময়ে একজন বিচারপতি  বলেছিলেন, সে নির্দোষ। তাও তাকে জেলে থাকতে হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, রবার্ট পিওসের চিঠির বিষয়টি ইতিমধ্যেই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর কারা দপ্তরের সুপার। চেন্নাইয়ের পুজহল সংশোধানাগারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন,  ‘ রাজীব গান্ধী হত্যা কা-ে দোষীদের ক্ষমা ভিক্ষার আবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। তাই এই চিঠির ভিত্তিতে আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। তামিলনাড়ু পুলিশের ডিজির দপ্তরের মাধ্যমে চিঠিটি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রই সিদ্ধান্ত নেবে।’
প্রসঙ্গত, রাজীব গান্ধী হত্যা কা-ে সাতজন অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। তাদের মধ্যে শান্তান, নলিনী ও তাঁর স্বামী মুরুগানের মৃত্যুদ-ের সাজা হয়। পরে অবশ্য ওই তিনজনকে মৃত্যুদ-ের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদ-ের সাজা দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আর রবার্ট পিওস-সহ বাকি চারজন যাবজ্জীবন কারাদ-ের সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ