বেঁধে দেয়া সময়ের আগে বাজারে আম

আপডেট: মে ৮, ২০২১, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে এবার আম ভাঙার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রশাসন। নির্দেশনা অনুযায়ী আম ভাঙ্গা শুরু হবে আগামী ১৫ মে। এদিন থকে পর্যায়ক্রমে সাত ধাপে বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু পরিপক্ক আম গাছ থেকে পাড়া হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজশাহীর বাজারে মিলছে বিভিন্ন জাতের পাকা আম। আর প্রতিকেজি এই আমের দাম হাকছেন ১২০ টাকা থেকে শুরু করে ২২০ টাকা পর্যন্ত।
রাজশাহীতে সাধারণত গুটি জাতের কিছু আম আগে পাকে। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে এই আমটি নামাতে পারবেন চাষিরা। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রানিপছন্দ ২৫ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা নামানো যাবে ২৫ মে থেকে এবং খিরসাপাত বা হিমসাগর ২৮ মে থেকে নামানো যাবে। এছাড়া ল্যাংড়া আম ৬ জুন, আম্রপালি এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। আর সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা ও বারি-৪ জাতের আম।
অথচ নগরীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, ফলের দোকানাগুলোতে স্বল্প পরিসরে কয়েকটি জাতের আম বিক্রি হচ্ছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে আম ভালোভাবে পুষ্ট হয়নি। ২৮ মে খিরসাপাত ও হিমসাগর আম নামানোর নির্দেশনা দেয়া হলেও এ আম বাজারে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি খিরসাপাত আম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা। হিমসাগর কেজিপ্রতি ২০০ টাকা। বৈশাখী জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকাসহ বারমাসি বিভিন্ন জাতের আম ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব আম সাতক্ষীরা থেকে আনা হচ্ছে। গত কয়েকদিন থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে আম বিক্রি হচ্ছে। তারা শালবাগান বাজার থেকে পাইকারি দরে আম কিনছেন। কখনো মধ্যস্থকারীরা দিয়ে যাচ্ছে। আর নতুন উঠতে শুরু করাই আমের দাম বেশি। রাজশাহী জেলা প্রশাসন সময় বেঁধে দিয়েছেন সেটা তারা জানেন। কিন্তু আমতো রাজশাহী জেলার না?
সাহেববাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন জানান, তিনি গত তিনদিন থেকে অন্যান্য ফলের সঙ্গে বারমাসি আম বিক্রি করছেন। নতুন ফল হিসেবে ক্রেতাদের আগ্রহ ভালোই আছে। আর প্রথমে যেহেতু সরবরাহ কম, তাই দামও বেশি।
এদিকে, প্রশাসনের নির্দেশনার আগে বাজারে এই অপুষ্ট আম দেখে অনেক ক্রেতাই বিরপ মন্তব্য করছেন। তারা বলছেন, এতো আগে খিরসাপাত আম পাকা কি সম্ভব? গুটি কিছু আম হয়তো পাকতে পারে। আম দেখেও মনে হচ্ছে এখনো পুষ্ট হয়নি।
বাজারে আম ক্রয় করতে আসা সাজেদুল ইসলাম জানান, বাজারে যেসব আম পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো অপুষ্ট। সেইসাথে দামও চড়া। এজন্য আম আর ক্রয় করেনি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট (এডিএম) আবু আসলাম জানান, বাজারে আমের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। খোঁজ খবর নিয়েছেন। রোববার থেকে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে অপুষ্ট আম বেচাকেনা করা যাবে না। আর এগুলো ফরমালিন দিয়ে পাকানো কি না? এটাও পরিক্ষা করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ৩৭৩ হেক্টর বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন।