বেত শিল্পের দুর্দিন বেতগাছ রক্ষায় উদ্যোগ চাই

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

বেত শিল্পের বড়ই দুর্দিন চলছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
বেতের তৈরি পণ্য বাংলার ঐতিহ্য। একটা সময় ছিল বেতপণ্যের ব্যবহার প্রতিটি বাড়িতেই ছিল। কিন্তু এখন খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে। বেত গাছ বিলুিেপ্তর পথে। ফলে এই শিল্পের সাথে জড়িতদের অধিকাংশই ঝরে পড়েছেন, অন্য পেশায় চলে গেছেন। বেতশিল্প যতটুকু টিকে আছে তা মূলত আমদানিনির্ভর বেতের ওপর।
এখনো বেত দিয়ে তৈরি হচ্ছে- চেয়ার, টেবিল, মোড়া, ডালা, কুলা, চাঙ্গারী, চালোন, ধামা, পাতি, বই রাখার তাক, সোফা, দোলনা, খাট পাওয়া যাচ্ছে। তবে ১০ বছর আগেও ধান-চাল মাপার কাজে ব্যবহার হতো বেতের তৈরি ‘কাঠা’। এখনও গ্রামের কিছু কিছু বাড়িতে এর দেখা মেলে। বর্তমানে রাজশাহীর বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট, ঘর বা অফিসের সৌখিন পার্টিশন হিসেবে এর ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া লম্বা বেত ফালা করে নানা কিছু বাঁধার কাজেও ব্যবহার করা হয়।
ঐতিহ্যবাহী বেত শিল্পের কাঁচামাল বেত গাছ থেকে আসে। অথচ সেই বেত গাছই এখন খুব একটা দেখা যায় না। রাজশাহীর আনাচে-কানাচে বেত গাছ দেখা যেত। ঝোঁপ-জঙ্গল ধ্বংস হওয়ার সাথে সাথে বেতগাছও হারিয়ে যাচ্ছে। অত্যন্ত জনপ্রিয় বেতগাছ টিকিয়ে রাখারও কোনো উদ্যোগ নেই।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী অঞ্চলের বেতশিল্প নিয়ে অফিসিয়ালি কোনো তথ্য নেই রাজশাহী বিসিক, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর কাছে। অথচ বেতপণ্য বাংলার জনপদে ঐতিহ্যবাহী পণ্য। বেতের বাণিজিক চাষ সম্পর্কেও তথ্য মেলেনি ওইসব দফতর থেকে।
ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র রক্ষার কথা বলা হচ্ছে জোরেসোরে। এটা অপেক্ষা রাখে না যে, বেত শিল্পের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিলুপ্ত প্রায় উদ্ভিদ রক্ষা করা। বিলুপ্তির পথে আছে বেতগাছ। এছাড়া আরো অনেক উদ্ভিদ আর লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এগুলো পরিকল্পিত উপায়ে রক্ষা করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ঝোপ-জঙ্গল সুরক্ষা অঞ্চল গড়ে তোলা যেতে পারে। যেখানে যে প্রজাতির গাছের জন্য উপযোগী হবে সেখানে সেগুলির ঝোঁপ-জঙ্গল সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেয়া বাঞ্ছনীয় হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও বন বিভাগ বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বেতশিল্পের সম্ভাবনা বিবেচনায় এর বাণিজ্যিক বিষয়টিও গুরত্বের দাবি রাখে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ