বেপরোয়া পবার মাদক ব্যবসায়ীরা ।। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ ‘আইওয়াশ’

আপডেট: মার্চ ২১, ২০১৭, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



বেপরোয়া হয়ে উঠেছে রাজশাহীর পবা উপজেলার মাদক ব্যবসায়ীরা। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে রয়েছে মামলা। কেউ কারাগার থেকে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। কেউ রয়েছেন জামিনে। আবার কেউ কেউ পুলিশের কাছে ‘পলাতক’ থাকলেও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পবার বিস্তীর্ণ সীমান্ত দিয়ে ফেন্সিডিল ও গাঁজা প্রবেশের পর তা অতিদ্রুত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। পাশাপাশি সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে মরণনেশা ইয়াবা। পুরো পবা উপজেলায় অন্তত অর্ধডজন গডফাদারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৪০ জন বড় মাদক ব্যবসায়ী। আর এসব ব্যবসায়ীরা প্রায় দুই শতাধিক ছোট স্পট ব্যবসায়ীদের কাছে তিন ধরনের মাদক সরবরাহ করছে। পাশাপাশি রাজশাহী মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে ফেন্সিডিল ও গাঁজার চালান। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এদিকে গত ৪ মার্চ পবা উপজেলার হরিপুর মোড় সংলগ্ন একটি মাঠে এক অনুষ্ঠানে জেলার এসপি মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়ার কাছে ১১৯ জন মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেন। তারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকার করেন। এসপি মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া তাদের মিষ্টিমুখ করিয়ে বরণ করে নেন। অন্ধকার জগত ছেড়ে আলোর পথে আসার আহবান জানান এসপি মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া।
কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১১৯ মাদক ব্যবসায়ীর অধিকাংশই আবারো মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। আত্মসমর্পণের বিষয়টি ‘¯্রফে আইওয়াশ’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন আত্মসমর্পণকারীদের অধিকাংশ। তবে তাদের গ্রেফতারে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সক্রিয় রয়েছে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা। অচিরেই তাদের গ্রেফতার করে মাদক ব্যবসা নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদার হিসেবে অন্তত ছয়জন ব্যক্তির নাম অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এই ছয় জনের কাছে প্রথমে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ফেন্সিডিল ও গাঁজার চালান আসে। এরপর এসব চালানের বড় অংশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ৪০ জন বড় মাদক ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করা হয়। বাকি অংশ বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবহনযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয়া হয়।
পবায় মাদক ব্যবসায়ীদের আলোচিত গডফাদার হিসেবে প্রথমেই উপজেলার জাঙ্গালপাড়া এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে মাসুম ওরফে পা ফাটা মাসুমের নাম উঠে এসেছে। মাসুমের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১২টি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে মাসুম ‘পলাতক’ হলেও নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এরপর রয়েছেন উপজেলার সোনাইকান্দি এলাকার খাইরুল্লার ছেলে আরেক মাসুম। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১১টি। তিনিও পলাতক হিসেবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদার হিসেবে কাজ করছেন সোনাইকান্দি এলাকার সোহেল ঘোষের ছেলে বাচ্চু ঘোষ। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৯টি। তিনি জামিনে আছেন। এরপর রয়েছেন একই এলাকার একরামুল হকের ছেলে রাজন। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১২টি। তিনি পলাতক রয়েছেন। পলাতক থাকলেও রাজনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার বড় ‘নেটওয়ার্ক’ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।
পুরো পবায় মাদকের বিশাল নেটওয়ার্কের গডফাদার হিসেবে সবচেয়ে আলোচিত নাম কসবা এলাকার কালাম কসাইয়ের ছেলে মিলন ওরফে ভকা মিলন। মিলনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১০টি। সে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে এসেছে। মিলন গত ৪ মার্চ জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিনি আর মাদক ব্যবসা না করার অঙ্গীকার করেন।
কিন্তু তার ব্যাপারে অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার অঙ্গীকার করলেও তিনিই এখন পবায় মাদক সা¤্রাজ্যের অধিপতি। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ৪ মার্চ আত্মসমর্পণের আগের দিন ৩ মার্চ রাতে ১২ হাজার ইয়াবার একটি বড় চালান মিলনের কাছে আসে। এরপর মিলন তার নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্য বড় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে তা সরবরাহ করেন। আর আত্মসমর্পণের পর মাদক ব্যবসা থেকে তিনি এক ঘণ্টার জন্যও বিরত হন নি। মিলনের মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার অঙ্গীকার ¯্রফে ‘আইওয়াশ’ বলে মনে করেন এলাকার মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মিলন মাদক ব্যবসা করে মাত্র ছয় বছরের মধ্যে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এরপরে গাঁজা ব্যবসায়ীদের গডফাদার হিসেবে আলোচিত নাম উপজেলার তুরাপুর এলাকার মৃত আবদুল জাব্বারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে দুইটি। এ দুই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। অত্যন্ত চতুর গাঁজা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর। সীমান্ত পেরিয়ে গাঁজার বড় চালান আসে তার কাছে। এরপর তিনি তার লোকজনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। একেবারে নিঃস্ব অবস্থা থেকে তিনি এখন বাড়ি, জমি আর ট্রাকের মালিক। গাঁজার ব্যবসা করে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে তিনি কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
অনুসন্ধানে পবা উজেলার বিশাল মাদক নেটওয়ার্কে বড় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অনন্ত ৪০ জনের নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে উপজেলার তুরাপুর এলাকার মৃত আজিবুর রহমানের ছেলে শামসুল। শামসুলও অত্যন্ত চতুর মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মামলা নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
উপজেলার বাগধানী এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে রাসেল। তিনি গাঁজা, ফেন্সিডিল ও ইয়াবার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বিরুদ্ধে মামলা নেই। তবে তাকে আটকের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এরপর ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী হিসেবে খোলাবোনা এলাকার জাগু মিয়ার ছেলে বায়েজীদের নাম রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে পাঁচটি। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। আরেক ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী বায়েজীদের ভাই কামাল। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে সাতটি। তিনিও বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
বড় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে যুক্ত রয়েছেন মুরারিপুর এলাকার হানিফের ছেলে জাহাঙ্গীর। তিনি ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১৬টি। তিনি পলাতক থাকলেও তার নেটওয়ার্কের সহযোগীরা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। একই এলাকার আলতাব ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। ফেন্সিডিল ব্যবসা করছেন হরিপুর বনপাড়া এলাকার কালুর ছেলে সেন্টু। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে চারটি। বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পার্শ্ববর্তী এলাকা হরিপুর খাড়ির পাশে আবুর ছেলে হাকিম ও তার ভাই সাকিম ফেন্সিডিলের বড় স্পট পরিচালনা করছেন। হাকিম এবং সাকিমের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে যথাক্রমে তিনটি ও চারটি করে। এরা কাগজে-কলমে পলাতক থাকলেও নির্বিঘ্নে ফেন্সিডিল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পলাতক থেকেও ফেন্সিডিল ব্যবসা করছেন হরিপুর এলাকার সোহরাবের ছেলে সেন্টু। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তিনটি। একই এলাকার ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী তৈয়ব আলীর ছেলে হাসান। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে চারটি। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পার্শ্ববর্তী জাঙ্গালপাড়া এলাকার রহিম মোল্লার ছেলে রবিউল ইসলাম ওরফে আল্লাম ইয়াবা ও ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে চারটি। তিনি পলাতক থাকলেও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
খোলাবোনা এলাকার সান আহম্মেদের ছেলে মিজানুর ইয়াবা ও ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তিনটি। তিনি পলাতক রয়েছেন। পার্শ্ববর্তী নতুন কসবা এলাকার লাল মোহাম্মদের ছেলে বিপ্লব। তিনিও ফেন্সিডিল ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তিনটি। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পার্শ্ববর্তী গহামাবোনা এলাকার ইমরানের ছেলে রতনও ফেন্সিডিল ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা থাকলেও তিনি বর্তমানে পলাতক থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পবা থানার একজন কর্মকর্তা (এসআই) জানান, নতুন কসবা এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে মাসুম খুব চতুর। তিনি ইয়াবা ও ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি অত্যন্ত কৌশলী। তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকলেও চতুরতার সঙ্গে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পুলিশ তাকে মাদকসহ আটকের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া একই এলাকার ইয়াবার ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী নয়ন। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে দুইটি। কিন্তু পুলিশের খাতায় তিনি পলাতক থাকলেও তার সহযোগীরা তার পক্ষে মাদক ব্যবসা অব্যাহত রেখেছেন।
এদিকে পবা থানা সংলগ্ন নওহাটা ব্রিজের পাশে মাদকের স্পট রয়েছে আবদুস সাত্তারের ছেলে রুবেলের। তিনি মূলত ইয়াবা ব্যবসায়ী। ব্রিজের পাশেই তিনি পবার বিভিন্ন এলাকার ছোট মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকাসক্তদের কাছে ইয়াবা সরবরাহ করেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও তিনি পলাতক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। উপজেলার বড়গাছি কারিগরপাড়া এলাকার কসের আলীর ছেলে বেলাল। তিনি বড় গাঁজা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন। কারাগারে থাকলেও তার সহযোগীরা স্পট চালাচ্ছেন।
একই এলাকার গাঁজা ও ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী কালামের ছেলে শরিফুল। তিনি গাঁজা ও ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে চারটি। কাগজে-কলমে পলাতক থাকলেও তিনি তার সহযোগীর নিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য সেলিম। তিনি বড় মাপের ফেন্সিডিল ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে চারটি। তিনি পলাতক রয়েছেন। কিন্তু তার সহযোগীরা দেদারসে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের স্পট পরিচালনা করছে। সোনাইকান্দি এলাকার মাইদুলের ছেলে হায়দার ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তিনটি। রয়েছেন পলাতক। তেঘর এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে আনোয়ার। তিনি গাঁজা ব্যবসায়ী। তিনি জামিনে থাকেলও মামলা রয়েছে চারটি। গহামাবোনা এলাকার আবুল কালামের ছেলে স¤্রাট। তিনি মূলত ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ীদের এজেন্ট। তার কাছে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ফেন্সিডিলের বড় চালান আসে। তিনি পরে তা স্থানীয় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করেন। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তিনটি। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এছাড়া গহামাবোনা এলাকার লাবলু, রাকিব, তরিকুল, সবুর মাঝি, মেজর, শামসুল এবং বিপ্লব ফেন্সিডিল ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে দুইটি থেকে সর্বোচ্চ নয়টি। এদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক এবং জামিনে রয়েছেন। পলাতক এবং জামিনে থাকা মাদক ব্যবসায়ীরা সহযোগীদের নিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পবায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত গডফাদার এবং বড় ও ছোট ব্যবসায়ীদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। এছাড়া যেসব মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তাদের ব্যাপারে নজরদারি করা হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারী ১১৯ মাদক ব্যবসায়ী যারা আত্মসমর্পণের পর আবারো এ ব্যবসায় জড়িত হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছে- সোনাইকান্দির শামীম, বেড়পাড়ার হাসান, একই এলাকার সেন্টু, হায়দার, শরিফুল, মাসুম, হরিপুর বনপাড়ার সেন্টু, হরিপুর এলাকার শামসুল হক, খোলাবোনার বিপ্লব, নতুন কসবার রুবেল, একই এলাকার আরিফ শেখ, তরিকুল, মাসুমসহ অন্তত ৪৫ জন।
সার্বিক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া বলেন, মাদক ব্যবসা নির্মূল করার জন্য আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তাদেরকে অন্ধকার জগত থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। এরপরও যদি মাদক ব্যবসায়ীরা অন্ধকারে পা বাড়ায়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ এ রয়েছে। শুধু আত্মসমর্পণকারী মাদক ব্যবসায়ীরা নয়, যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে কঠোর নজরদারি চলছে। অচিরেই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।