বেলকুচিতে করেনার মধ্যেও যুবলীগের হাজারো নেতাকর্মীর সমাগম || প্রত্যাহার হলেন সেই ওসি!

আপডেট: June 26, 2020, 10:27 pm

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :


করোনাভাইরাস কালে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হাজারো নেতাকর্মীর সমাবেশ ঘটিয়েছে উপজেলা যুবলীগ।
উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ এনে সাবেক মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল লতিফ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করে যুবলীগ। কর্মসূচিতে যুবলীগ নেতা রেজা নিজেও হাজির ছিলেন।
সমাগমের ফলে করোনা সংক্রমণের দ্রুত বিস্তারের আশঙ্কায় দিনভর উৎকন্ঠায় ছিলেন বেলকুচিবাসী। আগাম খবর জেনেও সমাবেশের বাধা দেয়নি পুলিশ, এমনকি উপজেলা প্রশাসনও।

সমাবেশ সফল করতে বেলকুচি থানা পুলিশের সদস্যরা বিশেষ করে ওসি আনোয়ারুল ইসলাম শুরু থেকেই যুবলীগ নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করেছেন- এমন অভিযোগ রয়েছে বেলকুচিবাসীর।
হাজারো লোকজনের সমাগমের কারণে আলোচিত ওসি আনোয়ারুল ইসলামকে রাতে পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রাতেই তিনি সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত হয়েছেন।

এদিকে, সম্প্রতি বেলকুচির জোকনালা গ্রামে সামাজিক দরবার সালিশকে কেন্দ্র করে সগুনা-কালিবাড়ি সড়কে গ্রামীণ সংঘর্ষের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী জেলা আ’লীগের সভাপতি আবদুল লতিফ বিশ্বাস ও ছেলে ভাঙ্গবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান লাজুক বিশ্বাসকে আসামি করে যুবলীগ নেতা ফারুক সরকারের দায়েরকৃত দ্রুত বিচার আইনের ধারার মামলাসহ দু’টি মামলা নিয়ে সমালোচিত হন বেলকুচি থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম।
গত ২৪ জুন জেলার মাসিক উন্নয়ন সভায় সিরাজগঞ্জ-২(সদর ও কামারখন্দ) আসনের সাংসদ ও জেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না বেলকুচির ওসির কঠোর ও তীব্র সমালোচনা করেন।

এনবিআর সভাপতি ও সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ ও পুলিশ সুপার মো. হাসিবুল আলমসহ প্রশাসনের জেলা পর্যায়ের পদস্থ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। এর আগেও জেলা আইন শৃঙ্খলাসহ একধিক জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভায় সাবেকমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস ও তার সহধর্মীনি মেয়র আশানুর বিশ্বাস আলোচিত বেলকুচি ওই ওসির নানা নেতিবাচক সমালোচিত কর্মকাণ্ড তুলে ধরেছেন। তারপরেও এতদিন বহাল তবিয়তেই বেলকুচি ছিলেন।

বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা জানান, আমরা প্রথমে চালা এলাকায় মানববন্ধন করি। কিন্তু সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করায় লোক সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫/৬ হাজারে পৌঁছে। পরে পার্টি অফিসের সামনে আমরা সমাবেশ করি।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, এ ধরনের মানববন্ধন ও সমাবেশের বিষয়ে কোনো প্রকার অনুমোদন নেয়া হয়নি। বরং বেলকুচি থানার ওসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল হক জানান, করোনা মহামারীর মধ্যে সব ধরনের মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সাজ্জাদুল হক রেজা মানববন্ধন ও সমাবেশ করে সংগঠন বিরোধী কার্যক্রম করেছে।

জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল বলেন, এটা মনে হয় দলীয় কোন কর্মসূচি ছিল না।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, সাজ্জাদুল হক রেজা কতিপয় সন্ত্রাসীর মাধ্যমে তাঁত শ্রমিককে টাকায় ভাড়া করে এ ধরনের জমায়েত করেছে। পুলিশ বাধা দেয়নি। এ ধরনের জমায়েতের কারণে বেলকুচি উপজেলা জুড়ে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এবিষয়ে বক্তব্য নিতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ ও পুলিশ সুপার মো. হাসিবুল আলমের সরকারি মুঠোফোনে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে কল করে সাড়া মেলেনি।
বেলকুচির নবাগত ওসি মো. বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নির্দেশে ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ