বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের পেনশন ।। সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের পেনশন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী অর্থবছরের বাজেটের আগেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৫ শতাংশ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত আছেন। পেনশনধারীদের নিয়ে সম্প্রতি তৈরি করা অর্থ বিভাগের তথ্যভা-ার অনুযায়ী, বর্তমানে অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মচারী আছেন সাড়ে ৫ লাখ। যদিও এখনো অনেকে তথ্যভা-ারের আওতায় আসেননি।
বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরাই সংখ্যাগরিষ্ট তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে এই কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সন্দেহ নেই দেশের আজকের আর্থনৈত প্রবৃদ্ধি তাতে বেসরকারি খাতের কর্মীদের অবদান অনেক বেশি। অখচ বেসরকারি খাতের অধিকাংশ চাকরিজীবীর কোনই ভবিষ্যত নিরাপত্তা থাকে না। একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে চাকরি শেষ করতে হয়। শুধু তাই নয়- বেসরকারি খাতে চাকরি টিকিয়ে রাখাও একটা বড় দায়। কখন কার চাকরি চলে যাবে তার কোনো ঠিক নেই। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের বেসরকতারি খাতে অধিকাংশ কর্মী চাকরি করে থাকেন। পেনশানের বিষয়টি চিন্তাই করা যায় না। খুব কম প্রতিষ্ঠানই আছে যারা চাকুরেদের স্বার্থ কিছুটা হলেও সংরক্ষণ করে থাকে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জীবন-জীবিকার প্রশ্নটি সব সময় অনিশ্চিত হয়ে থাকে। মানুষের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অনেক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কর্মীদের নাম মাত্র মূল্যে এবং সময়ের অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেয়। এটি একটি অন্যায্য বিষয় হলেও বাংলাদেশে এটি একটি বাস্তবতা।
বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের পেনশন প্রদানে সরকারের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। বেসরকারি খাতের একজন কর্মীর অন্তত চাকরির মেয়াদ শেষে জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে নাÑ যদি তার নিয়মিত পেনশনের ব্যবস্থা করা হয়। একই সাথে বেসরকারি খাতের কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তাও একটি বড় মানবিক বিষয়। এ ব্যাপারে সরকারির উদ্যোগ থাকা বাঞ্ছনীয় হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ