বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একীভূত করার উদ্যোগ সরকারের

আপডেট: মার্চ ১, ২০২১, ৪:১৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ম্যাপিং করে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একীভূত (মার্জ) করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর যেসব জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই সেখানে নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইবতেদায়ি মাদ্রাসাসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও একীভূত করা হবে।
জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবতেদায়ি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সার্ভে করতে হবে। এছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও আগে প্রাপ্যতা অনুযায়ী হয়নি। ফলে যার যেখানে যেমন ইচ্ছা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী খুব কম। কোনও কোনও এলাকায় আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশি রয়েছে। পুরোটা ম্যাপিং করে মার্জ করাতে পারবো। যেখানে মার্জ করাতে পারবো সেখানে মার্জ করাবো। আর যেখানে নতুন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন সেখানে প্রতিষ্ঠান করা হবে।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইবতেদায়িসহ বেশ কিছু মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। অন্যদিকে কাছাকাছি রয়েছে আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কাছাকাছি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশি থাকলে এবং ছাত্র কম থাকলে সেসব প্রতিষ্ঠানও একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের। অন্যদিকে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা বেসরকারি তাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করতে হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তা করতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সিদ্ধান্তও প্রয়োজন হবে।
অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ম্যাপিংয়ে অপ্রয়োজনীয় মনে হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে একীভূত করা হবে। এছাড়া অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি ও পাঠদানের অনুমোদন পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ম্যাপিং করা হবে। যাতে অযোগ্য প্রতিষ্ঠান থাকলে সেগুলোর বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের মুখপাত্র মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একীভূত করার উদ্যোগটি ভালো। যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কম সেসব প্রতিষ্ঠান ভালো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করা হলে খুব ভালোই হবে।’ পাশাপাশি নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকও ম্যাপিংয়ের আওতায় নিয়ে একীভূত করার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত মনে করেন নজরুল ইসলাম রনি।
তিনি বলেন, ‘নামমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একীভূত করার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে এমপিওভুক্ত মানসম্মত প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয়করণ শুরু করা উচিত।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন