বেসরকারি ১৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ বাতিল ।। শিক্ষার্থীরা কেন শাস্তি পাবে ?

আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০১৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ

‘উদোর পি-ি বুদোর ঘাড়ে’ চাপানোর মতো ব্যাপারটি হয়ে গেল। যারা অন্যায় বা অনিয়মটি করলেন, তাদের ব্যাপারে শাস্তিমূলক কোনো সিদ্ধান্ত হলো নাÑ অথচ যারা বা যে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই দায়ি নয়, তারাই কি না শাস্তি পেয়ে গেল। ব্যাপারটি খুবই উদ্বেগজনক ও দুঃখেরও।
দৈনিক সোনার দেশসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী  ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের স্বাক্ষরে দেয়া ১৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সনদ অবৈধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
তবে এসব ‘অবৈধ সনদে’ রাষ্ট্রপতি নিয়োজিত কোনো উপাচার্য স্বাক্ষর করলে সেগুলো বৈধ হিসেবে গণ্য হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক। অথচ এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা মোটেও দায়ী নয়- দায় যদি থাকে তা ওইসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তা হলে কেনো এর জন্য শাস্তি পেতে হবে নিরীহ শিক্ষার্থীদের? যদিও ইউজিসি চেয়ারম্যান বলছেন, সনদ অবৈধ হলেও শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি বাতিল করা হয়নি। ওইসব সনদ ‘রেগুলারাইজড’ করার সুযোগ আছে। এটা সান্ত¦না বটে কিন্তু সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জীবনের এই অবাঞ্ছিত ঘটনা তাদের জীবনের ওপর যে বঞ্চনার ছাপ পড়ে গেল তার ক্ষতিপূরণ তারা কীভাবে পুষিয়ে নিবে বা আদৌ কি তা পারবে?
ইউজিসির বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী এবং একাডেমিক কর্মকর্তা। ইউজিসির একাধিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি, প্রো-ভিসি এবং কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ উপাচার্যের অর্থ সংক্রান্ত চেক ও অন্য কোনো দলিলপত্রে স্বাক্ষর করাও বৈধ হবে না। এটাই যদি ইউজিসির বিধান হয়, তা হলে বিধান লঙ্ঘন করে এতোদিন ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারলো। বলা হচ্ছে ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে শীর্ষ তিন পদে নিয়োগ নেই। কোনো কোনেটির ১০ বছর ধরে নেই, ৫ বছর ধরে নেই।
এই ৫-১০ বছর ধরে শীর্ষ তিন পদে নিয়োগ নেই তার দায়-দায়িত্ব ইউজিসি এড়াবে কী করে? বৈধ-অবৈধ ব্যাপারটি তাদেরই তো দেখার কথা ছিল। তারা কী করলেন? ইউজিসির জবাবদিহিতার ব্যাপারটিও এসে যায়। ইউজিসি হঠাৎ করেই যে সিদ্ধান্ত নিলেন তা অনেকটা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার মতই। তাঁদের সিদ্ধান্তে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হলেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ। সনদ পাওয়ার পর সনদ কার্যকর হবে না এটা যত সহজে বিষয়টি কর্তৃপক্ষ দেখলেন কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য ব্যাপারটি মোটেও সহজ নয়। এটি একটি তীব্র মানসিক যন্ত্রণাÑ যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হতাশার মধ্যে ঠেলে দিতে পারে। এ ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে দেয়া সম্ভব হবে না। শিক্ষার্থীর নিজেই তার আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদাসঙ্কটে পড়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেগুলি নিয়ম অনুযায়ী চলছে না। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তদানুযায়ী ব্যবস্থা না থাকলে উচ্চ শিক্ষার মর্যাদা ও সুনাম রক্ষা করা সম্ভব হবে না। আর কর্তৃপক্ষের অক্ষমতার দায় কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া উচিৎ হবে না।
ইউজিসির এই সিদ্ধান্তে তাদের পর্যবেক্ষণ কাঠামোর দুর্বলতার দিকটিই প্রকট হয়ে উঠেছে। ইউজিসি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি দেয়ার সময় এসেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ