বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে শিক্ষক কর্মচারীদের বেহাল দশা

আপডেট: জুলাই ৮, ২০২০, ১১:৫১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


করোনা পরিস্থিতির জন্য দেশ অনেকাংশে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিগত প্রায় তিন মাস নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া সকল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যানবাহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন মূলক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে খেটে খাওয়া মানুষ গুলো পড়েন বিপদে। এই অবস্থায় জনগণ ও দেশের অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে সরকার লকডাউন শর্তসাপেক্ষে শিথিল করেন। শর্তসাপেক্ষে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যানবাহন ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান হলেও চালু হয়নি কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

গত ৪ মাস থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন ভাতা সব পাচ্ছেন। কিন্তু বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা পড়েছেন মহাবিপদে। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা সম্পর্কে রাজশাহী কিন্ডার গার্টেন অ্যান্ড প্রি ক্যাডেট স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম সারওয়ার স্বপন জানান, বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি আদায় বন্ধ রয়েছে। ফলে অর্থ সংকটের কারণে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন, বাড়ী ভাড়া, অন্যান্য বিল পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে আর্থিক সংকটের মধ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

তিনি আরও জানান, বাড়ির মালিকদের চাপে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান বিক্রির নোটিশ প্রদান করেছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়সীমা হয়তো আরো বাড়তে পারে। এই অবস্থা হলে এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, শিক্ষক ও কর্মচারীরা ছেলেমেয়ে নিয়ে পথে বসে যাবে।
ইতিমধ্যেই ঢাকাসহ সারা দেশের শিক্ষকরা পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে রিক্সা চালাচ্ছেন, রাজমিস্ত্রির যোগালীর কাজ করছেন, নৌকা বাইছেন, রাস্তায় নেমে আম, জাম বিক্রি করছেন, বাড়ী বাড়ী ফেরি করে কাপড় বিক্রি করছেন, জুতা সেন্ডেলের ব্যবসা করছেন, এমনকি দিন মজুরীর কাজ করতেও বাধ্য হচ্ছেন তারা। সর্বোপরি এই সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত সবাই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বাড়ী ভাড়ার চাপে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অচিরেই ৮০ থেকে ৯০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বেকার হয়ে পথে বসে যাবে হাজার হাজার শিক্ষক কর্মচারী।

স্বপন আরো বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে প্রায় ৪০-৫০ হাজার অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী। বাড়তি চিন্তায় পড়বে অভিভাবকরা। কাজেই আজ এই করোনা পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থে শিক্ষা কার্যক্রমকে স্বচল রাখার জন্য এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা ও শিক্ষক সমাজকে বাঁচিয়ে রাখতে এই মুহুর্তে সরকারীভাবে আর্থিক সাহায্যের অনুরোধ করে তিনি।
তিনি বলেন, চলমান এই করুন অবস্থার সময়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্দ্যোগে এবং সার্বিক সহযোগিতায় শিক্ষকদের মাঝে দুই দফা প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। যার কারণে এই অসহায় শিক্ষক সমাজ মেয়রের প্রতি কৃতজ্ঞ। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে শিক্ষক কর্মচারীদের পরিবার পরিজনদের কথা ভেবে সাধ্যমত আর্থিক সহায়তা করার জন্য মেয়রের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।

এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, রাজশাহী নগরীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ১৭৫টি। কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ষাট হাজার। স্কুল একেবারেই বন্ধ হয়ে পড়লে এই সকল মানুষগুলোর রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা বলে জানান তিনি। তিনিসহ উপস্থিত সকলেই শতভাগ শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে মহানগরীর সকল বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেক প্রণোদনা প্রদানের জন্য সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ করেন।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী কিন্ডার গার্টেন এন্ড প্রি ক্যাডেট স্কুল এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, অর্থ সম্পাদক আলমগীর দেওয়ান ও যুগ্ম সম্পাদক ইয়াসমিন আরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ