বেহাল দশায় তানোরের গভীর নলকূপ।। কর্তৃপক্ষ লাভবান হলেও লোকসান গুণছেন কৃষক

আপডেট: মার্চ ২৪, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


রাজশাহীর তানোরে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভীর নলকূপগুলি দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত কোন সংস্কার না করায় অনেক নলকূপ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে – সোনার দেশ

রাজশাহীর তানোর বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সেচের টাকা বাবদ কৃষকদের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অনিয়মের কারণে গভীল নলকূপগুলোর বেহাল দশা   হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত কোন সংস্কার না করায় অনেক নলকূপ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ ধাপাচাপা দিয়ে চালিয়ে লাভবান হলেও লোকশান গুণতে হচ্ছে কৃষকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৯০ দশকে তৎকালীন এরশাদ সরকার কৃষকের সুবিধার্থে মাত্র ১৫ হাজার টাকা ডাউন প্রেমেন্ট দিয়ে বরেন্দ্র প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলায় গভীর নলকূপের সাহায্যে কৃষকদেরকে সেচ পানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টিউবয়েল স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ শর্ত ভেঙে কৃষকদের কাছ থেকে বিঘা প্রতি ৩শ টাকা নিয়ে সেচ ব্যবস্থা চালু করে। এভাবে কয়েক বছর চলার পর পুনরায় প্রকল্পে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ টাকা হারে চুক্তিতে সেচ কাজের টাকা কৃষকদের নিকট আদায় করে। পর্যায়ক্রমে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ঘণ্টাপ্রতি টাকা বাড়াতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বর্তমানে প্রতি ঘণ্টা ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। পূর্বে বকোয়া থাকার নিয়ম থাকলেও তা না করে কর্তৃপক্ষ সিমকার্ডের সিস্টেম করে পূর্বে আদায় করছে।
উপজেলার কচুয়া গ্রামের সাবেক ডিপঅপারেটর আবদুল জব্বার জানান, ১৯৯২-৯৩ সালে বিএমডির অধীনে একটি টিউবেল নেয়ার পর থেকে তাদের নেয়া টিউবেলটির কোন সংস্কার না থাকায় অকেজো হবার উপক্রম হয়েছে। টিউবেল স্থাপনের ঘরটির ছাদও ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘদিনের কারণে সাবমার্চেল পাম্পের স্যাপ খয় হয়ে পানি কম উঠছে এবং পাকা ড্রেন না থাকায় কাচা ড্রেন ভেঙে গেলেও কোন ব্যবস্থা নেই।
তিনি আরো জানান, কৃষকের উপকারে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ডিপ টিউবেল নির্মাণের মাধ্যমে কৃষকদের সেবার নামে শোষণ করছে। ঘণ্টা হিসেবে টাকা আদায় করবে কিন্তু নষ্ট হলে পুরা কৃষকদের ঘাড়ে চাপাবে। এ যেন ইংরেজ নীলকরদের শোষণনীতি ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে।
দুবইল গ্রামের রেজাউল ইসলাম জানান, বরেন্দ্রের গভীর নলকূপ কৃষক মারার ফাঁদ। যে হারে বিদ্যুৎ পুড়ে সে হারে টাকা নেয়া উচিত। তা না করে তিন গুণ হারে লাভ নিয়ে ঘণ্টা চুক্তিতে পানি বিক্রি করছে। ব্যক্তিগত মালিকানায় টিউবয়েলগুলো ঘণ্টায় ২৫-৩০ টাকা পড়ে। অথচ কৃষকদের নিকট থেকে ঘণ্টাপ্রতি ১২৫ টাকা হারে আদায় করছে বরেন্দ্র প্রকল্প। এছাড়া কিছু নষ্ট হলে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যাথা নেই। এভাবে উপজেলার ৫৩৬টি টিউবেলের কোটি কোট টাকা কৃষকদের নিকট তুলে নিচ্ছে। সেবার মানও তাদের নেই। এ যেন উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। আবার টিউবেলটির বিদ্যুৎ মিটার পুড়ে গেলেও কৃষকেরদেকই দিতে হয় বাড়তি টাকা।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিপঅপেরেটররা সরকারদলীও হওয়ায় অভিযোগ করলেও কোনো ব্যাবস্থা নেয় না কর্তৃপক্ষ। এমনকি কাটা দিয়ে পানি সেচ দিলেও তাদের সেই অপারেটারদের দিতে হয় প্রতি বিঘাতে ৩শ টাকা থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত। আর যাদের ওই ডিপস্কিনের মধ্যে জমি আছে তাদেরকে বোরো ধান চাষাবাদ হবে না বলে জোরপর্বক আলুতে জমিগুলো নেয়া হয়। বিনিময়ে জমির মালিকরা উপকৃত না হলেও গভীর ডিপটিবউলের অপারেটররা লাভবান হচ্ছেন। তাই তাদের দাবি, এলাকায় এসে কর্তৃপক্ষ কৃষকদের নিয়ে সমিতির মাধ্যমে ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য করে ডিপটিবউলটি তাদের মাধ্যমে পরিচালনা করলে এভাবে আর চাষিরা প্রতারিত হবে না।
মোহনপুর গ্রামের কৃষক আকবর আলী জানান, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কোন নিয়ম নেই। টাকা ছাড়া কোন কথা নেই। আসবে মিটার দেখে টাকা গুণবে। নষ্ট হোক আর পানি কম উঠুক দেখার বিষয় না। মিটার দেখলেই বা এলাকায় আসলেই মেকানিককে পরিবহনের জন্য দিতে হয় টাকা। এমনকি না দিলে আগামী দিনে নবায়ন হবে না বলেও হুমকি দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে তানোরে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম মিটার পুড়ে গেলে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি উপজেলায় যোগদানের পর বেশ কয়েকটি পুরাতন নলকূপ ঠিক করেছি। নলকূপ ব্যবহারে অনুপযোগী হলে দরখাস্তের মাধ্যমে জানালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ