বেড়েছে চাল, মরিচ ও ডিমের দাম

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

তানজিলা চৌধুরী ও মনীষা আক্তার:


দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে মিনিকেট, আঠাশ ও নাজিরশাইল চালের দাম। একই অবস্থা ডিমের হালিতেও। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। সপ্তা ব্যবধানে প্রতিকেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি- ‘আমদানি কম। সেই সঙ্গে পানি উঠে মরে গেছে মরিচের গাছ।’

স্থিতিশীল রয়েছে পেঁয়াজ, রসুন, আদার দাম। তবে সবজিসহ বেশি কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। মিষ্টি কুমড়া, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম ছাড়াও বেশকিছু সবজির প্রতিকেজিতে দাম বেড়েছে আট থেকে ১০ টাকা। শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নগরীর সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, তালাইমারীর সবজি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে মিনিকেট চাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৮ টাকা। আঠাশ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা। তিন টাকা বেড়ে নাজিরশাইল চাল বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা।

সকালে সাহেববাজারে প্রতিকেজি পটল বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা দরে। এছাড়া বেগুন বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, আকারভেদে লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, আলুর কেজি ২৫ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, ফুলকপি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, গাজর ১৫০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা, প্রতি কেজি লালশাক ৪০ টাকা, পুইশাক ৩০ টাকা, ডাঁটা শাক ৬০ টাকা, দেশি শশা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শশা ৬০ টাকা, লেবুর প্রতি হালি ১৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সবজি বিক্রেতা শামসুল আলম।

সবজি ক্রেতা মোরশেদ জামান বলেন, ‘বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। শুধু সবজি নয়, অন্য নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। এভাবে সবকিছুর দাম বাড়তে থাকলে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ও নি¤œ আয়ের মানুষের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।’

তবে বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গরুর মাংস প্রতিকেজি ৬৫০ টাকা, খাসির মাংস ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

মুরগি বিক্রেতারা জানান, প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা। ২০ টাকা বেড়ে দেশি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৪২০ টাকায়, লেয়ার মুরগি ২৬০ টাকা, সোনালিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা, এছাড়া পাতিহাঁস বিক্রি হয়েছে ৩৩০ টাকা কেজি দরে।

মুরগি ক্রেতা সীমা রহমান বলেন, ‘মুরগির দামও যেভাবে বাড়ছে, মনে হচ্ছে আগামিতে সেটাও আর কপালে জুটবে না।’
অপরদিকে, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তায় ডিমের দাম বেড়েছে। দুই টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে- সাদা ডিম প্রতিহালি ৪৪ টাকা ও লাল ডিম ৪৬ টাকা। ডিম বিক্রেতা আয়নাল হক জানান, খামারে দাম বৃদ্ধির কারণে ডিমের দাম বাড়ছে।

তবে বাজারে মাছের দাম আগের মতই রয়েছে। সাহেববাজারের মাছ বিক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, প্রতিকেজি কাতল মাছ ২৮০ টাকা, রুই মাছ ৩৯০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে ইলিশ মাছের দাম। গত সপ্তায় প্রতিকেজি ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে। একই ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে। জসিম উদ্দিন আরো জানান, ইলিশের মৌসুম হলেও আমদানি কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।

লক্ষ্মীপুরের রবিন স্টোরের মালিক রাফি বলেন, ‘খোলা চিনি প্রতিকেজি ৮৮ টাকা, প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকা, দেশি মসুরের ডাল ১৪০ টাকা, প্যাকেট আটার কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, খোলা আটা ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। আর বোতলজাত তেল ১৮৫ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। চিকন চাল কেজিতে বেড়েছে ৩ টাকা আর মোটা চাল বেড়েছে ২ টাকা।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ