বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে গমের বিকল্প হতে পারে মিলেট

আপডেট: মে ৯, ২০২২, ৭:১৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


জলবায়ু সংকট তো রয়েছেই, এর মাঝে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ গড়িয়েছে তৃতীয় মাসে। ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। ভেঙে পড়ছে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে আমদানি নির্ভর দেশগুলো, বিশেষ করে আফগানিস্তান, ইথিওপিয়া ও সিরিয়া।

অথচ গমের সিংহভাগই রপ্তানি করে ইউক্রেন ও রাশিয়া। যুদ্ধের আগে বিশ্বের তিন ভাগের এক ভাগ গম, চার ভাগের এক ভাগ বার্লি ও দুই তৃতীয়াংশ সূর্যমুখী তেল রপ্তানি হতো রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে।এখন সংকটময় পরিস্থিতি কাটাতে বিকল্প শস্য হিসেবে ‘মিলেট’-এর নাম উঠে আসছে। জোয়ার, বাজরা, রাগি প্রভৃতি কয়েকটি ক্ষুদ্র দানাশস্যকে একত্রে মিলেট বলে।

২০২২ সালে ইউক্রেন দেশটির উৎপাদিত ফসলের পূর্বাভাস প্রকাশ করেনি। চলতি সপ্তাহে সতর্ক বার্তাও দেয় যে রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরের বন্দর অবরোধের ফলে কয়েক মিলিয়ন টন ইউক্রেনীয় খাদ্যশস্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে এর প্রভাব পড়বে এশিয়া, আফ্রিকা, এমনকি ইউরোপে।

নাইজেরিয়ার অর্থনীতিবিদ রবার্ট ওনিয়েনেকের বলেন, বিশ্ব এরই মধ্যে খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন চাল এবং গমের মতো জনপ্রিয় প্রধান খাবারের বিকল্পগুলো সন্ধান করার সময়। তিনি ধারণা করেন যে, মিলেট পরিবর্তনশীল ছোট-বীজযুক্ত শস্য, একটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে। এর পেছনে চারটি যুক্তিও দেখিয়েছেন তিনি। সেগুলো হলো পুষ্টিগুণ সম্পন্ন, জলবায়ু উপযোগী, স্বল্প সময়ে চাষ এবং চাষে কার্বন নিঃসরণ প্রায় নেই বললেই চলে।

মিলেটের প্রথম খোঁজ মেলে যিশু খ্রিস্টের জন্মের তিন হাজার বছর আগে। যেসব খাদ্য শস্য মানুষ গ্রহণ করেছিল মিলেট তার প্রাচীন দানা শস্যগুলোর মধ্যে একটি। ভারত, চীন ও আফ্রিকার কিছু অংশে লাখ লাখ কৃষক এই ফসল চাষ করে আসছেন। এখন ১৩০টিরও বেশি দেশে উৎপাদন হচ্ছে মিলেট।

পুষ্টিগুণের কারণে মিলেটকে অনেকে ‘পুষ্টি শস্য’ বলে থাকেন। এতে উচ্চ মাত্রার আয়রন, ফাইবার ও কিছু ভিটামিনও রয়েছে। তবে আফ্রিকা ও এশিয়ার মাত্র ৯ কোটি মানুষ এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেন। মূলত গরিবের খাবার হিসেবেই ব্যবহার হয় মিলেট। যেখানে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ চাল ও এক তৃতীয়াংশ মানুষ গমের ওপর এখনো নির্ভরশীল।

জাতিসংঘ ২০২৩ সালকে মিলেটের আন্তর্জাতিক বছর হিসেবে ঘোষণা করেছে। শুধু পুষ্টিগুণই নয়, এটি প্রতিকূল আবহাওয়াতেও টিকে থাকতে পারে বলে জানা গেছে। মাত্র ৬০ থেকে ৯০ দিনে ফসল ঘরে তোলা যায়। এতে খুব কম পরিমাণে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।

তবে মিলেট কি আদৌও জায়গা করে নিতে পারবে খাদ্যশস্যের শীর্ষ তালিকায়, এমন শঙ্কাও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। এশিয়া ও আফ্রিকায় এখন যতটা মিলেট আবাদ হয়, তা স্থানীয়ভাবে চাহিদা মেটানোর জন্যই খুব কম, রপ্তানিও প্রায় অসম্ভব। তাই সারাবিশ্বে মিলেট ছড়িয়ে দিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে, জাগোনিউজ