বোনের লাশ দাফনকালে দুর্বৃত্তের হামলায় মুক্তিযোদ্ধা আহত

আপডেট: November 21, 2020, 9:57 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী নগরীতে বোনের লাশ দাফনের সময় দুর্বৃত্তের হামলায় ৭০ বছর বয়সি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার ভাই-ভাতিজারা আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ নভেম্বর) নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার দেলুয়াবাড়ি কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনা সার্জেন্ট (অব.) হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে শনিবার (২১ নভেম্বর) ভগ্নিপতিসহ ১৬ জনকে আসামি করে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান তার ছোট বোন শাসসুন নাহার এর মৃত্যুর সংবাদে তার বাসায় যান। এ সময় নিকট আত্মীয়-স্বজনরাও মৃতার বাসায় যান। তারা মৃতার জানাযার নামাজ বাদ আসর ঠিক করেন। কিন্তু বিবাদী পক্ষ বেলা ৩ টায় জানাযার নামাজের সময় নির্ধারণ করেন। এরপর বেলা ৩ : ২০ মিনিটে লাশ কবরে রেখে উঠে আসামাত্র বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধভাবে বিবাদী নৈমুদ্দিনের হুকুমে এলোপাথাড়ী মারপিট করে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানসহ তার ছোট ভাই আব্দুর রহিম, ভাতিজা আব্দুর হাকিম ও হাসিবুরকে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুর রহিম মুমুর্ষ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা যায়।
আসামিরা হলেন, কাশিয়াডাঙ্গা থানার দেলুয়বাড়ি এলাকার মৃত ছইমুদ্দিনের ছেলে নৈমুদ্দিন, আলাউদ্দিনের ছেলে বেলাল, মুঞ্জুর এর ছেলে সুমন, মাহমুদ এর ছেলে সরাদ্দী, মাহমুদের ছেলে নাসির, সুলতানের ছেলে বুলবুল, মুঞ্জুরের ছেলে মমিন, ছইমুদ্দিনের ছেলে জামিল উদ্দিন, নৈমুদ্দিনের ছেলে নাজমুল, আব্দুস সালামের ছেলে কামরুল, রায়হান সরকার, আনিসুরের ছেলে সজীব, মোস্তফার ছেলে রাজু, আবির, শরিফুল, মফিজুল ওরফে মংলা।
এদিকে, একই ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনা সার্জেন্ট হাবিবুর রহমানের ভাই ভাতিজাসহ ৮ জনকে আসামি করে আজাদ আলীর ছেলে আমির হোসেন বাদি হয়ে মামলা করেছে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান আগে মামলা করলেও মামলার নথিতে দুর্বৃত্তদের মামলার সময় আগে দেখানো ও আসামীদের গ্রেফতার না করাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজশাহীর বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
এ বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ পারভেজ বলেন, কবরস্থানে জানাযার সময়কে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা পক্ষ আগে মামলা করলেও নথিতে পরে দেখানো হয়েছে এটা ভুল। যারা আগে মামলা করেছেন; তাদের মামলা আগেই নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষই আহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত একজনকে আটক করা হয়েছে- যাকে স্থানীয়রা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এবং তিনি মামলার আসামি। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা পক্ষ মৃত শামসুন নাহারের স্বামীকেও আসামি করেছেন। এখন সবকিছু বিবেচনায় তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ