বোমা হামলায় রক্তাক্ত মিশরে জরুরি অবস্থা

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


কপটিক খ্রিস্টানদের দুটি গির্জায় বোমা হামলায় অন্তত ৪৪ জন নিহত হওয়ার পর তিন মাসের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তা আল সিসি।
পার্লামেন্টের অনুমোদনের পর প্রেসিডেন্টের এই আদেশ কার্যকর হবে, জানিয়েছে বিবিসি।
জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকাকালীন কর্তৃপক্ষ কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার ও যেকোনো বাড়িতে তল্লাশি চালাতে পারবে।
রোববার খ্রিস্টানদের পাম পরবের সময় আলেক্সান্দ্রিয়া ও তানতায় চালানো এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) । এই জঙ্গিগোষ্ঠীটি মিশরের কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর সম্প্রতি বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে এবং আরো হামলা চালানো হুমকি দিয়েছে।
জোড়া বোমা হামলার পর ওইদিনই জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডাকেন সিসি। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ওই বৈঠকের পর জরুরি অবস্থা জারির কথা ঘোষণা করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে তা ‘দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক’ হবে।
‘আইন ও সংবিধানের সবগুলো ধারা’ পার হওয়ার পরই জরুরি অবস্থা কার্যকর হবে বলে জানান তিনি। মিশরের পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যই সিসিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার আগে ‘প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ’ সব অবকাঠামো সুরক্ষার জন্য দেশজুড়ে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের আদেশ দেন তিনি।
আইএস জানিয়েছে, তাদের দুই আত্মঘাতী সদস্য হামলা দুটি চালিয়েছে।
মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় শহর তানতায় সেন্ট জর্জ কপটিক গির্জায় চালানো হামলায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
এর কয়েক ঘন্টা পর তানতার ১২০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে আলেক্সান্দ্রিয়ার সেন্ট মার্কস কপটিক গির্জায় প্রবেশের সময় এক ব্যক্তিকে বাধা দেয় পুলিশ। ওই ব্যক্তি সেখানেই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটালে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৭ জন নিহত হন।
এক বিবৃতিতে আইএস বলেছে, “ক্রুসেডার ও তাদের নাস্তিক মিত্রদের জেনে রাখা উচিত, আমাদের ও তাদের মধ্যে বিরাট পাওনা-দেনা রয়ে গেছে। খোদায় ইচ্ছায় তাদের সন্তানদের রক্তের নদী দিয়ে এই দেনা তাদের শোধ করতে হবে।”-বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ