বোর্ড সেরা হলেও তলানিতে রাজশাহী জেলা

আপডেট: June 1, 2020, 11:15 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:


এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে টানা চতুর্থবারের মতো দেশসেরা হয়েছে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড। তবে শিক্ষানগরী খ্যাত রাজশাহী রয়েছে একেবারেই তলানিতে। সার্বিক ফলাফলে আট জেলার মধ্যে অষ্টম হয়েছে রাজশাহী জেলা। তবে টানা তৃতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে জয়পুরহাট জেলা।
রোববার (৩১ মে) বেলা ১১টার দিকে অনলাইনে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। করোনা সংক্রমণের কারণে প্রথা ভেঙে ফল ঘোষণায় এবারই প্রথম সংবাদ সম্মেলন হয়নি। বিদ্যালয়ে ছিল না উত্তীর্ণদের উচ্ছ্বাস। ফল পৌঁছে গেছে সবার মোবাইলে।
রাজশাহী বোর্ডের সার্বিক ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিভাগের আট জেলার মধ্যে ৯৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ পাসের হারে বোর্ডে শীর্ষে রয়েছে জয়পুরহাট জেলা। জেলার মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ৮ হাজার ৪৭৮ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৬৯৩ জন। ৯৫ দশমিক ২৭ শতাংশ ছাত্র এবং ৯৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে এ জেলায়। ৯৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে গত বছরও বোর্ডসেরা ছিল জয়পুরহাট।
৯২ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় বোর্ডে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এক লাফে ষষ্ঠ অবস্থান থেকে উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। এই জেলার পাসের হার ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এবার এ জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ১৫ হাজার ৪৩৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪ হাজার ৬২৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ১৬৬ জন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯২ দশমিক ৩৫ শতাংশ ছাত্র এবং ৯২ দশমিক ৩১ শতাংশ ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় বোর্ডে ষষ্ঠ অবস্থানে ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা।
গত বছরের মতো এবারো বোর্ডে তৃতীয় অবস্থানেই বগুড়া জেলা। এখানকার ৯২ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবার। এ বছর এ জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩৫ হাজার ৩৯৫ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩২ হাজার ৬৭৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৪৩৪ জন। বগুড়ায় ৯১ দশমিক ৪৩ শতাংশ ছাত্র এবং ৯৩ দশমিক ২১ শতাংশ ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর ৯২ দশমিক ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল এই জেলায়।
টানা দুই বছর বোর্ডের তলানিতে থাকা নাটোর জেলা এবার উঠে এসেছে চতুর্থ অবস্থানে। এ জেলায় পাসের হার ৯০ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ বছর জেলায় পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ হাজার ৭১১ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৬ হাজার ৯১৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে একহাজার ৭৪৬ জন। নাটোরে ৮৯ দশমিক ২১ শতাংশ ছাত্র এবং ৯১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। এই জেলায় গত বছর ৮৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছিল।
টানা তৃতীয়বার বোর্ডে চতুর্থ অবস্থানে থাকা নওগাঁ জেলা এবার একধাপ নেমে হয়েছে পঞ্চম। এবার জেলায় পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এখানকার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৯ হাজার ২৬৪ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৬ হাজার ২০৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬৪ জন। নওগাঁয় ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ ছাত্র এবং ৯১ দশমিক ৩৬ শতাংশ ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর এই জেলায় পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৫০ শতাংশ। একধাপ নিচে নেমেছে পাবনা জেলাও। এবার ৮৯ দশমিক ৫৬ পাসের হারে বোর্ডে ষষ্ঠ অবস্থানে পাবনা। এ জেলার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৯ হাজার ২৬৪ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৬ হাজার ২০৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৪৪১ জন। এখানকার ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ ছাত্র এবং ৯০ দশমিক ৫৭ শতাংশ ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর এ জেলার পাসের হার ছিলো ৯২ দশমিক ২৩ শতাংশ।
৮৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ পাসের হারে সিরাজগঞ্জ জেলার অবস্থান সপ্তম অবস্থানে। গত বছরও একই অবস্থানে ছিল এই জেলা। এ বছর এই জেলায় পরীক্ষার্থী ছিল ৩৬ হাজার ৫৫৪ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩২ হাজার ৬৭৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬৩৫ জন। সিরাজগঞ্জে ৮৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ ছাত্র এবং ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর এখানকার পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
ফলাফলের দিক দিয়ে বোর্ডে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রাজশাহী জেলা। ৮৭ দশমিক ৮০ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করায় এ বছর বোর্ডে রাজশাহীর অবস্থান অষ্টম। গত বছর ৯২ দশমিক ৮৪ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় বোর্ডে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল এই জেলা। এ বছর জেলায় পরীক্ষার্থী ছিল ৩০ হাজার ৪৯৮ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৬ হাজার ৭৭৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৮৮ জন। রাজশাহীতে ৮৬ দশমিক ০৬ শতাংশ ছাত্র এবং ৮৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে এবার।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের তিন ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় এসএসসি পরীক্ষায়। রাজশাহীর আট জেলায় ২ হাজার ৬৫২টি স্কুলের শিক্ষার্থী ২৬০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসে। এ বছর বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো ২ লাখ ১ হাজার ২২৯ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ১৮৫ জন। ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারে এ বছর পাস করেছে এক লাখ ৮০ হাজার ৯০২ জন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ