জেলা প্রশাসকের সাথে ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভা লকডাউন শিথিল না হওয়া পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ থাকবে

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২১, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই আরডিএ-এর ব্যবসায়ীরা দোকাটপাট খুলে দেয়। কিন্তু জেলা প্রশাসকের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের এক জরুরি বৈঠকের পর দোকান আবারো বন্ধ রাখার ব্যাপারে ঐকমত্য হন ব্যবসায়ী নেতারা। সিদ্ধান্ত হয়Ñ করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের শিথিলযোগ্য নির্দিষ্ট বেঁধে দেয়া সময়ে দোকানপাট খুলে দেয়া হবে। ওই সময় পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধই রাখবেন। জেলা প্রশাসক আভাস দেন, সম্ভবত ২৮ এপ্রিলের মধ্যে লকডাউন শিথিল করে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সরকার দোকানপাট খুলে রাখার ঘোষণা দিতে পারে।
রাজশাহী ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বৈঠকের সিদ্ধান্তে আশ্বস্ত হন এবং সকালে খুলে তেয়া দোকানপাট আবারো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চলমান করোনা সংক্রমণ নিয়ে আলোচনা হয়। এই সভায় লকডাউন শিথিল না পর্যন্ত সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন রাজশাহীর ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে এই সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম, মহানগর পুলিশের বোয়ালিয়া জোনের উপ-পরিচালক মো. সাজিদ হোসেন, বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারণচন্দ্র বর্মণ, দৈনিক সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী, দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার (ভারপ্রাপ্ত) সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, আরডিএ মার্কেটের সভাপতি ফরিদ মামুদ হাসান ও সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক মো. মাহমুদুর রহমান স্বজন, ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক এবিএম আনোয়ার সুলতান ও অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হোসেন আলী, রাজশাহী সিটি পাদুকা মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম মিলন, রাজশাহী জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি মো. আসলাম উদ্দিন সরকার প্রমুখ।
সভায় জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবিকারও প্রয়োজন আছে। সে ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার কতটুকু সুরক্ষিত করা সম্ভব সেটা নির্দিষ্ট করতে হবে। এটাতে ব্যর্থ হলে আমাদের সকলকে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে। যেটা আমরা কোনোভাবে প্রত্যাশা করতে পারিনা। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীসহ সকল পর্যায়ের মানুষের সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সরকার নিশ্চয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কথা ভাবছে। লকডাউন শিথিল করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট সময় সাপেক্ষে দোকানপাট খুলে দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সেটা ২৮ এপ্রিলের মধ্যে। জেলা প্রশাসক সে পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের ধৈর্যধারণ করার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, শিথিলযোগ্য ব্যবস্থায় জেলা প্রশাসনসহ পুলিশ বিভাগ সর্বাত্মকভাবে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা প্রদান করবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের বোয়ালিয়া জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাজিদ হোসেন করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, দ্বিতীয় ধাপের এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। এটা ইতিবাচক ধারণা দেয়। তাই সবাই মিলে বাঁচতে হবে ও সরকারি নির্দেশনা মানতে হবে।
তিনি ব্যবসায়ীদের জানান, ইদের পূর্ব মুহূর্তে শিথিলযোগ্য পরিস্থিতিতে আরডিএ মার্কেট খোলা থাকলে পুলিশ প্রয়োজনে রাত ১টা পর্যন্ত হলেও নিরাপত্তা সুরক্ষা নিয়ে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করবে।
আরডিএ মার্কেটের সভাপতি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানান, এখন রমজান মাস। আমরা সারা বছরে তুলনায় এই মাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি করে থাকি। মূলত ইদকে কেন্দ্র করে ব্যবসা টিকে থাকে। লকডাউন এর ফলে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এছাড়াও আমাদের সকলকে জীবিকার পাশাপাশি জীবন বাঁচাতে হবে। কারণ জীবন না থাকলে জীবিকা মূল্যহীন। তবে ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রণোদনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কিন্তু এক বছর অতিক্রান্ত হলেও আমরা কোনো প্রণোদনা পাইনি। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।