ব্যাংকিং ও প্রকল্প এক সঙ্গেই চলবে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে

আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
ব্যাংকিং ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কার্যক্রম একই সঙ্গে চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে। তবে এর জন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন ২০১৪, সংশোধন করতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দুই আমলার একজন সাবেক, একজন বর্তমান। একজন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মিহির কান্তি মজুমদার (সাবেক সচিব)। অন্যজন ড. প্রশান্ত কুমার রায়, যিনি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বর্তমান সচিব। একজন মনে করেন, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প নিয়ম ও আইন অনুযায়ী এখন পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক। অন্যজনের মতে, ব্যাংকের মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে যাওয়া হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের আওতায় চালিয়ে যেতে হবে প্রকল্পটি।
এ দুই জাঁতাকলে পড়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বৃহস্পতিবার বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট স্টক রেজিস্টার ও এমআরএর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জটিলতা নিরসনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ব্যাংক ও প্রকল্পের কার্যক্রম একই সঙ্গে পরিচালনার। এটি করতে  প্রয়োজন আইন পরিবর্তনের। কীভাবে এবং কোন অংশে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন ২০১৪, এর সংশোধন করতে হবে সেটি পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। চার সদস্যবিশষ্ট কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুল হক।
এ বিষয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মিহির কান্তি মজুমদার বলেন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প একই সঙ্গে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য আইন পরিবর্তন করতে হবে। তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী জনগণের সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে ২০০৯ সালে চালু হয় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পটি। আইন অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩০ জুন প্রকল্পটি ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়। এর আগেই অবশ্য প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকটির ১০০টি শাখার উদ্বোধন করেন।
কিন্তু পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ মনে করে, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় নি। এজন্য এ কার্যক্রমকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। যেহেতু পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন, ২০১৪ অনুযায়ী প্রকল্পের কার্যক্রম পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মসূচি আকারে পরিচালনার বিষয়টি একটি আইনি বৈধতা সেহেতু দুটি বিষয়ে গোল বাধে। তৈরি হয় দুই পক্ষ এবং দ্বন্দ্বের। সেটির অবসানের লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্টরা মিলে এ সভা করে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. প্রশান্ত কুমার রায় মনে করেন, ব্যাংক গঠিত হয়ে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেলে দারিদ্র্য বিমোচনের মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়া হবে। ক্ষুদ্রঋণের যন্ত্রণা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে আরো ৩৬ লাখ পরিবারকে এর অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এজন্য প্রকল্পটিকে চালিয়ে নিতে হবে।
জানা গেছে, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কীভাবে পরিচালিত হবে এবং ব্যাংকের অধীনে প্রকল্পটি কীভাবে চালিয়ে নেয়া যাবে সেভাবে আইনি বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে এ কমিটি। এরপর তারা প্রতিবেদন জমা দিলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে প্রকল্পটি আর কতদিন চলবে। সেই সঙ্গে ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম কবে থেকে শুরু হবে।
উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ৪০ হাজার ২১৪টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠিত হয়েছে। সমিতিতে প্রায় ২২ লাখ সদস্য তথা পরিবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত সদস্যদের নিজস্ব সঞ্চয় ৯৭০ কোটি ২২ লাখ এবং বিপরীতে সরকার প্রদত্ত বোনাস ও আবর্তক তহবিল ১ হাজার ৯৫৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সার্ভিস চার্জ, ব্যাংক সুদ ও সম্পদের অর্থ আদায়সহ প্রকল্পের আওতায় গঠিত সমিতির মোট তহবিলের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সমিতির সমুদয় তহবিল আইন অনুযায়ী পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্থানান্তরিত হয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দুই ধাপে ৪৮৫টি শাখার অনুমোদন দিয়েছে।-জাগোনিউজ