ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস দোষিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০২১, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

দেশে ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’ বহুল আলোচিত শব্দ। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে ব্যাপকভাবে। পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে এক সময় ব্যাপকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে অভিভাবকদের মধ্যে যেমন হতাশা, তেমনি সরকারকেও বেশ বিব্রত হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থাটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। পরবর্তী সময়ে সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় এবং কঠোরভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা- বিশেষ করে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি আবারো দেশবাসীর সামনে এসেছে। ফাঁসের এই ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের খবরে এসেছে, পাঁচ সরকারি ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে গত ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যাংকারসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আসার কথা জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান জানান, কয়েকটি সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পরীক্ষার্থীদের কাছে ৫-১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। চক্রটি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁসের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে ৬০ কোটি টাকা। প্রশ্ন নিতে যারা টাকা দিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়, তাদের ‘গোপন বুথে’ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর মুখস্ত করানো হয়। এভাবে ৬০-৭০ ভাগ এমসিকিউ এর সঠিক উত্তর দেয়া সম্ভব হয়েছে। টাকা নিয়ে প্রশ্নপত্র পেয়েছেন এমন দুই শতাধিক পরীক্ষার্থীর তালিকা পাওয়া গেছে। আটক সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তাদের পরিকল্পনায় প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ পরীক্ষা আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আহসানউল্লাহ ইউনির্ভাসিটির আইসিটি বিভাগ থেকে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।
বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের ভিত্তিতে আহছানউল্লা ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনলোজিকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা পাওয়ার পরই বাংলাদেশ ব্যাংক আইনি ব্যবস্থা নেবে।
সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার (আইটি) এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংকের অ্যাসিসট্যান্ট ডাটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদের পরীক্ষা বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক স্থগিত করেছে। এ পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত অভিযোগে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ব্যাংক কমকর্তা ও আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের এক টেকনিশিয়ান রয়েছে।
এই জালিয়াতি কর্মকান্ড এবং এই জঘন্য কাজের সাথে যাদের জড়িত থাকতে দেখা যাচ্ছে তাতে ‘পরীক্ষা ব্যবস্থা’ সম্পর্কে সাধারণ্যে আস্থাহীনতা লক্ষ করা যায়। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশ গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের মুখে পড়লো। এই জালিয়াতচক্র নিয়োগ ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধই করছে না তারা এই ব্যবস্থা ধ্বংসও করে দিচ্ছে। এরা দেশ বিরোধী। এদের বিরুদ্ধে আইনি শাস্তিই যথেষ্ট হবে না একই সাথে প্রশ্নপত্র বিক্রি থেকে গৃহীত অর্থ এবং তদ্বারা অর্জিত সম্পদও বাজেয়াপ্ত করা বাঞ্ছনীয় হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ