‘ব্যাটসম্যানদের মানসিকতা বদলানো দরকার’

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২০, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দৃঢ়তার অভাব দেখছেন ম্যাকেঞ্জি-সংগৃহীত

ছাত্ররা পাকিস্তানে ভুগছেন, আর বাংলাদেশে বসে আফসোস করছেন নিল ম্যাকেঞ্জি। নিরাপত্তাজনিত কারণে মাহমুদউল্লাহদের সঙ্গে যাননি এ দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটিং কোচ। এতদিন ধরে যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দেখতে না পাওয়ায় হতাশ তিনি।
লাহোরে পাকিস্তানের কাছে টানা দুই ম্যাচ হেরে টি-টোয়েন্টি সিরিজও হাতছাড়া করেছে। আগামীকাল সোমবার গাদ্দাফি স্টেডিয়ামেই হবে শেষ ম্যাচ। প্রথম দুটি ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের করুণ অবস্থার পর ম্যাকেঞ্জি তাদের মধ্যে দৃঢ়তা, ভালো করার ক্ষুধা ও সাহসিকতা ফিরিয়ে আনতে পরামর্শ দিলেন।
৪৪ বছর বয়সী ব্যাটিং কোচ বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে দলে অনেক অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে। ওখানে যাওয়ার আগেই আমরা জানতাম, এটা সমস্যার কারণ হবে। কিন্তু এরপরও এমন পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ওইদিন (প্রথম টি-টোয়েন্টি) ভালো শুরু করেও আমরা লাইনচ্যুত হলাম। আমাকে হতাশ করেছে তাদের দৃঢ়তার অভাব। স্ট্রাইকে অদল-বদল করে বোলারদের চাপে ফেলা নিয়ে আমরা গত কয়েক বছর অনেক খেটেছি। কিন্তু গত টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলোতে আমি সেটা খুব বেশি দেখিনি।’
ব্যাটসম্যানদের উন্নতির জন্য বিশেষ কিছু জায়গা নিয়ে কাজ করছেন ম্যাকেঞ্জি, সেগুলো মাঠে প্রয়োগ করার পরামর্শ দিলেন, ‘দৃঢ়তার পাশাপাশি ভালো কিছু করতে আরও ক্ষুধা বাড়াতে হবে। ভয়-ডরহীন খেলতে হবে যেটা রাসেল (ডোমিঙ্গো) ও প্রত্যেকে (কোচিং স্টাফ) খেলোয়াড়দের মনে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। দলে কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড় আছে এবং কয়েকজন দলে ফিরেছেন। বুঝতে কষ্ট হয় না, পারফর্ম করার জন্য ও দলে জায়গা ধরে রাখতে তাদের ওপর অনেক চাপ। কিন্তু আশা করবো তারা বুঝবে যে, তাদের পাশে সব নির্বাচক ও কোচরা আছে। তাদের শুধু মাঠে নেমে সেরাটা খেলতে হবে।’
দলে অনেক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান, তাতে তদেরও খেলতে হচ্ছে মিডল অর্ডারে। সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেন ও লিটন দাসের কথা উল্লেখ করে ম্যাকেঞ্জি বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের কম্বিনেশনের দিকে তাকান, কারা খেলছে। একজন নতুন কোচ হিসেবে রাসেল ভিন্ন কম্বিনেশনের চেষ্টা করছেন। এ মুহূর্তে এক, দুই ও তিনে ব্যাট করার জন্য আমাদের অনেক ব্যাটসম্যান আছে। পুরো দলের দিকে তাকালে দেখা যাবে, অনেক মানসম্মত খেলোয়াড়রা আছে। কিন্তু তাদের সবাই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। চার, পাঁচ ও ছয়ে ব্যাট করার জন্য ভিন্ন ধরনের দক্ষতা থাকতে হবে। আপনি রানের খাতা না খুলতেই দেখবেন, হঠাৎ করে কোনও ভালো স্পিনার আপনার সামনে এসে পড়েছে। ভিন্ন মানসিকতা থাকতে হয়। স্ট্রাইকে অদল-বদল আনার চেষ্টা করতে হবে এবং এরপর বাউন্ডারির চিন্তা করতে হবে।’
ব্যাটসম্যানদের আরও একটু স্বার্থপর হতে বললেন এ কোচ, ‘বাংলাদেশ দলে খুব প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা আছে, এটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের আরেকটু বেশি ধারাবাহিক হতে হবে। আমি চাই, দলের জয়ের জন্য কেউ স্বার্থপর হোক। নিজেদের জন্য স্বার্থপর হতে বলছি না। উইকেট বিলিয়ে না দেওয়ার জন্য স্বার্থপর হতে হবে। যদি ৮০ রান হয়, তাহলে কেন সেঞ্চুরি, ১৪০ বা ২০০ রানের জন্য চেষ্টা করবো না?’ অল্পতেই সন্তুষ্ট হওয়া উন্নতির পথে অন্তরায় মনে করেন ম্যাকেঞ্জি, ‘ধারাবাহিকতার জন্য আরও বেশি ক্ষুধার্ত হতে হবে, কারণ অনেকেই ৪০ রান করেই পরের ম্যাচে খেলতে পেরে খুশি হয়। এমন মনোভাব থাকাটা ভুল। আমি চাই তারা বিশ্বসেরা কিংবা বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান হওয়ার চেষ্টা করুক। আমরা এই মানসিকতা তাদের মনে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু আমরা হতাশ।’
বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল দুই ম্যাচে করেছেন ৩৯ ও ৬৫ রান। কিন্তু স্ট্রাইক রেট ছিল শোচনীয়। এরপরও বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ওপর আস্থা রাখছেন ম্যাকেঞ্জি, ‘আমি মনে করি তাকে তার মতো করে খেলতে দিতে হবে। অনেক বছর ধরে সে বাংলাদেশের সেরা পারফর্মারদের একজন। চোট থেকে সে ফিরে এসেছে এবং আরও কিছু ব্যাপার আছে। সে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছে। ইতিবাচক ব্যাপার হলো সে রান পাচ্ছে। সে কী করতে পারে, আমরা সবাই জানি, তার সামর্থ্য কী সেটাও। গত বছরের বিপিএল ফাইনালে কী ম্যাচ খেললো, আমরা সবাই চাই ওটার মতো আরও বেশি বেশি ইনিংস খেলুক। সম্ভবত সেই বাংলাদেশের সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন।’ তামিমকে উপযুক্ত সঙ্গ দিতে অন্য ব্যাটসম্যানদের আহ্বান জানালেন ম্যাকেঞ্জি, ‘সে কীভাবে খেলে আমরা সবাই জানি। কিন্তু তার সঙ্গে যারা খেলে, তাদেরও উচিত হবে তার ওপর ভরসা রাখা। একই সঙ্গে তাদের পারফর্মও করতে হবে। আমি তাকে ফিরতে দেখে আনন্দিত। আশা করি সে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে এবং ৬০ এর ঘরের রানকে ৫৫ বলে ৮০ তে নিতে পারবে। সে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। কী করা উচিত সেটা সে জানে। বাংলাদেশের জন্য সে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, সেটাও বুঝতে পারে। এটা একটা প্রক্রিয়া, কিন্তু আরও বেশি সাহসী ব্যাটিং দেখতে চাই আমরা।’ ক্রিকইনফো

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ