ব্যাটারদের ব্যর্থতার কারণ জানেন না শান্ত

আপডেট: জুন ২১, ২০২৪, ১০:২৭ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক:


বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতার শেষ হচ্ছে না। শুক্রবারও (২১ জুন) অ্যান্টিগার ভালো উইকেটে ব্যাটাররা পারেননি রান করতে। সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনও ম্যাচে দুই অঙ্কের ঘরে রান করতে পারে নি উদ্বোধনী-জুটি। তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস কিংবা নাজমুল হোসেন শান্তর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। কেউ না কেউ আগে-ভাগে আউট হয়ে দলের বিপদ বাড়িয়েছেন। শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শান্ত ও তাওহীদ হৃদয় ছাড়া কেউই রান করতে পারেননি। ব্যাটাররা কেন ব্যর্থ হচ্ছেন, এমন প্রশ্নে সংবাদ সম্মেলনে অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন অধিনায়ক শান্ত।

গ্রুপ পর্বে ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও বোলারদের কল্যাণে ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু অ্যান্টিগাতে যেন পাল্লা দিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটার ও বোলাররা। ফিল্ডিংয়েও ছিল অগোছালো। দলের অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান আস্থার প্রতিদান দিতে পারছেন না। বাংলাদেশের বিপক্ষে সাতবার হ্যাটট্রিক করেছেন প্রতিপক্ষ দলের বোলাররা। এর মধ্যে তিনবারের হ্যাটট্রিকে সংশ্লিষ্ট ছিলেন মাহমদুউল্লাহ। শুক্রবারও তাকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের মিশন শুরু করেন প্যাট কামিন্স।

শুধু মাহমুদউল্লাহই না, অভিজ্ঞ সাকিবও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না। শুক্রবারে ব্যাটিং ব্যর্থ হওয়ার পর আশা করা হচ্ছিল বল হাতে কিছু করবেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার বলই হাতে নেননি বাঁহাতি এই স্পিনার। ব্যাটিং নেমে দলের চরম বিপদের সময় মার্কাস স্টয়নিসের লেগ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি ফ্লিক করার চেষ্টায় করতে গিয়ে আউট হন তিনি। ১০ বল খেলে ৮ রান করার পথে অন্তত তিনবার ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছেন।

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ব্যাটারদের ওপর তেমন কোনো চাপও ছিলো না। তবু ব্যাটাররা কেন বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না? ম্যাচ শেষে অধিনায়ক শান্তর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এই ব্যাপারে। কিন্তু অধিনায়ক আত্মসমর্পণ করে উত্তর দিলেন, ‘কেন পারছি না, সেটা বলা মুশকিল। আমার কাছে মনে হয়, দলের সবার বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য আছে। অতীতে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় করেও দেখিয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপে কেন হচ্ছে না, এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছেও নেই। সবাইকে তার স্বাভাবিক খেলাটা খেলার স্বাধীনতাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই হচ্ছে না।’

অ্যান্টিগার পিচ ও কন্ডিশনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারার কারণেই কি হেরে গেল বাংলাদেশ? এমন প্রশ্নে শান্তর উত্তর, ‘না, আমি তেমনটা মনে করি না। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সব ধরনের উইকেটেই মানিয়ে নিতে হবে। উইকেট বেশ ভালো ছিল। কিন্তু আমরা পরিকল্পনামাফিক খেলতে পারিনি। বিশেষ করে নতুন বলে পাওয়ার প্লেতে ভালো করতে পারিনি। শেষ ৫–৬ ওভারে ফিনিশিংও ভালো হয়নি। এ সময় আমরা অনেক উইকেট হারিয়েছি। শেষটা ভালো করতে পারলে ১৬০ থেকে ১৭০ রান হতে পারত।’

দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলে দিয়েছিলেন ৩৮ ছুঁই ছুঁই ডেভিড ওয়ার্নার। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়েই মূলত বৃষ্টি আইনে এগিয়ে ছিল অজিরা। পরে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ২৮ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া। ওয়ার্নার ৩৫ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। ওয়ার্নারকে নিয়ে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা ছিল কিনা প্রশ্নে শান্ত জানিয়েছেন, ‘আমরা জানি তিনি কী করতে পারেন। ১৫–১৬ বছর ধরে তিনি সেটাই দেখিয়ে চলেছেন। বড় মাপের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা শিখতে হবে। কিন্তু যে কথা আগেও বললাম, আজ আমাদের পরিকল্পনাগুলো সফল হয়নি।’- বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ