ব্যাট-বলে কথা বলে মিরাজের!

আপডেট: এপ্রিল ২, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



মেহেদী হাসান মিরাজ আসলে সব সংস্করণের ক্রিকেটেই ব্যাটসম্যানও! সবসময় নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের কথাটা এই বিস্ময় বোলার আগে বলতেন। কিন্তু টেস্টে অভিষেকে ইতিহাস অফ স্পিনে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে তাদের হারিয়ে দিয়ে স্পিনার হিসেবে ক্যারিয়ারের শুরুতেই প্রতিষ্ঠিত ১৯ বছরের মেহেদী। কিন্তু ব্যাটসম্যান মেহেদী কোথায়? যাকে বয়সভিত্তিক দলগুলোতে বহুবার দেখা গেছে ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে। জেতাতে। সেই মেহেদীকে টেস্টে খুঁজে পেতে দেরী হলেও ওয়ানডেতে তেমনটা হলো না। অফিসিয়ালি ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে, আর ব্যাট হাতে ওয়ানডেতে অভিষেক ইনিংসেই ৫১ রান করে সেই প্রমাণই রাখলেন সেনসেশনাল খেলোয়াড়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৮ নম্বরে নেমে ফিফটি করেছেন। যদিও দলকে জেতাতে পারেননি।
৩ ওয়ানডের সিরিজের প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছে। ওটাই অভিষেক ম্যাচ ছিল মেহেদীর। বল হাতে ৪২ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন। ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজার সাথে নতুন বলে শুরুও করেছিলেন। দল ডাম্বুলায় ৫ উইকেটে ৩২৪ রান করে ৯০ রানে জিতেছিল। মেহেদীর হাতে ব্যাট ওঠেনি। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ৩১১ রানের পর বৃষ্টিতে ম্যাচ প-। ৫০ রানে ১ উইকেট মেহেদীর। ব্যাটিংয়ের প্রশ্ন আসেনি।
কিন্তু যে ম্যাচটিতে বাংলাদেশের হয়তো ২০০ রানও হতো না, সেই ম্যাচেই ডানহাতি ব্যাটসম্যান নিজেকে চেনালেন লেজে ব্যাট করে। তাসকিন আহমেদকে নিয়ে নবম উইকেটে ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪ রানের জুটি গড়েছেন। জুটির আকালের দিনে মাশরাফির সাথে তার আগের জুটিতেই ২৮। এরও আগে বল হাতে শ্রীলঙ্কার ঝড়ো উদ্বোধনী জুটি থামিয়েছিলেন। ব্রেক থ্রু দিয়েছিলেন দলকে। ১০ ওভারে ৪৯ রানে ১ উইকেট। তার মানে তিন ম্যাচে ৪ উইকেটের সাথে একমাত্র ইনিংসে ব্যাট করে ৭১ বলে ৬টি চারে ৫১ রান। অল রাউন্ডার হিসেবে মন্দ কি ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুতে?
খুলনার এই ছেলেটির টেস্ট আর ওয়ানডে ভাগ্যটা অবশ্য একরকম হলো না। তাতে মেহেদীর খুশিই হওয়ার কথা। ৭ টেস্টে ৩৫ উইকেট। ইংলিশদের বিপক্ষে অভিষেক সিরিজে ২ ম্যাচেই ১৯ উইকেট ছিল। কিন্তু ১, ১, ১, ২, ০, ১, ১০, ৪- এই যে তার ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসগুলো তাতে ব্যাটসম্যান মেহেদীর কথাই ছিল না! শেষে ভারতে গিয়ে ৫১ রানের একটি ইনিংস খেললেন। এরপর ২৩। নিয়মিত দুই অংক পেরিয়েছেন টেস্টে এখন পর্যন্ত তার একমাত্র ফিফটি থেকে। শ্রীলঙ্কার সাথেই দুই ম্যাচের চার ইনিংসে যথাক্রমে ৪১, ২৮, ২৪ ও অপরাজিত ২। শেষ ম্যাচটিতে তো জয়সূচক রানটাও এসেছিল মেহেদীর ব্যাট থেকে!
মেহেদীর ব্যাটিং নিয়ে এতো কথা কেন? যখন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে তাকে কেবল দলের দামী একজন স্পিন বোলার হিসেবেই ভাবেন? মেহেদী একবার বলেছিলেন, তিনি সাকিব আল হাসানের মতো বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হতে চান। কিসের ভিত্তিতে বলেছিলেন?
গেল বছর দেশের মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আসর বসেছিল। মেহেদীর নেতৃত্বেই দেশের সর্বোচ্চ সাফল্য এসেছিল। সেমিফাইনালে খেলেছিল জুনিয়র টাইগাররা। ওখানে ব্যাটে-বলে সমান সেরা পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপেরই সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন মেহেদী। সেই মেহেদী যার নামটি অনূর্ধ্ব-১৯ যুব আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের সর্বকালের সেরার তালিকায় ৯ নম্বরে। ৫৬ ম্যাচে ১২ ফিফটিতে ২৯.০০ গড়ে ১৩০৫ রান। আর বোলিং? ওখানে ইতিহাসে সবার আগেই পাবেন মেহেদীকে। বাংলাদেশের এই সম্পদ সর্বকালের সেরা অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে আন্তর্জাতিক বোলার! ১ নম্বরেই তার নাম। ৫৬ ম্যাচে ২০.৯০ গড়ে ৩.৭৫ ইকোনমিতে যেখানে ৮০ উইকেট মেহেদীর! একবার ৫ উইকেট, ৪ উইকেট দুবার। সেরা ১৭ রানে ৫ উইকেট। এই যে যুব ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা বোলার মেহেদী, তাকেই এযন এতদিন চিনছিল গোটা বিশ্ব! মেহেদী অবশ্য ঠিকই তার লক্ষ্যে আছেন। বোঝাই যাচ্ছে, নিজেকে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার গড়ে তোলার জন্য বোলিংয়ের পাশে ব্যাটিংয়ে তার সাধনা খুব ভালোভাবেই চলছে!