ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্মান্ধদের নিষ্ঠরতা জড়িতদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে

আপডেট: জুলাই ১২, ২০২০, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

মানুষের নিষ্ঠুরতা বিভৎসতায় মানুষেরই গড়া সভ্যতা লজ্জায় মুখ লুকায়। ধর্মের নামে, বর্ণের নামে, বংশ-আভিজাত্যের নামে মানুষের অমর্যদা, মানুকে নিপীড়ন- নির্যাতন, মনুষ্যত্বের অপমান পৃথিবীর দেশে দেশে হচ্ছেই। যারা ধর্মের নামে মানুষের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন করছে তাদের ভয়াবহতা ও নৃশংসতা খুবই প্রকট। ওরা নারীদের বোঝে না, শিশুদের বোঝে না, ধর্মের নামে নিষ্ঠুরতা চালিয়ে যায়। ওরা ভাবে না- মানুষ সেতো মানুষই, সৃষ্টির সেরা জীব। এই নিষ্ঠুরতা স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি অপমান-অবজ্ঞা।
ধর্মান্ধরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের এক নবজাতক শিশুর লাশ কবর থেকে তুলে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে। মানবতার কী ভয়াবহ অপমান, ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। কোনো মানুষ ধর্মের দোহায় দিয়ে এ কাজ করতে পারে? বাস্তবতা আমাদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে তা দেখিয়ে দিচ্ছে। এই ধর্মান্ধদের আইনি কঠোর শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুরা গ্রামে ওই অমানবিক ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই গ্রামে ৭ জুলাই আহমদিয়া সম্প্রদায়ের এক নারী একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। নির্ধারিত সময়ের আগে ভূমিষ্ঠ হওয়ায় নানা জটিলতায় ৯ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শিশুটি মারা যায়। পরে সকালে তাকে ঘাটুরার সাতবাড়িয়া রোডের কবরস্থানে দাফন করা হয়। সংবাদ মাধ্যমে তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় কিছু লোক এই কবরস্থানে আহমদিয়াদের কাউকে দাফন করা যাবে না জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করে লোক জমায়েত ঘটায়। পরে ওই নবজাতকের মরদেহ কবর থেকে তুলে কবরস্থানের বাইরের সড়কে ফেলে রাখে। এই নিষ্ঠুরতাকে কোনো ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা খুবই মুশকিল। এমন কাজ কোনো মানুষ করতে পারে না। কেবল মানুষরূপি পশুরাই এ কাজ করতে পারে।
ধর্মান্ধরা যে সক্রিয় এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের স্বরূপ প্রকাশ করে। ধর্মের নামে এসব ঘটনা ঘটিয়ে নিজেদেরকে সংগঠিত করে তারা। ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয় হেতু এসব ঘটনা অনেক সময় ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এটা মেনে নেয়ার মধ্যেই ধর্মীয় উগ্র মতবাদের প্রসার লাভ করে। বাংলাদেশই তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। দেশের মানুষ ধর্মের নামে ভয়ঙ্কর রকমের নিষ্ঠুরতার সাক্ষী। মাঝেমধ্যেই ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে তারা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়, দেশেকে অস্থিতিশীল করতে চায়। বর্তমান সরকারের জঙ্গি-উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে যাচ্ছে। কিন্ত ধর্মান্ধরা মাঝেমধ্যেই উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড করে বসছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে নিষ্ঠুরতা দেখানো হয়েছে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি, মানবতার পরিপন্থি কাজ। এটাকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া যায় না। এই ঘটনার সাথে যেই বা যারা জড়িত থাকুক না কেন তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে, কঠোর শাস্তি দিতে হবে। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও দেশের স্থিতিশীলতা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ