ব্রেক্সিটের পথ সুগম করল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট

আপডেট: মার্চ ১৫, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকারের ‘ব্রেক্সিট’ বিল পাস করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস।
এতে করে লিসবন চুক্তির আর্টিকেল ফিফটি প্রয়োগ করে সরকারের ইইউ থেকে বিচ্ছেদের দর কষাকষি শুরুর পথ সুগম হল। রানির সম্মতি পেলে  বিলটি মঙ্গলবারই আইনে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের পর উচ্চকক্ষও এটি পাস করায় প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র জন্য ইইউ ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে আর কোনও বাধা রইল না।
ব্রেক্সিটমন্ত্রী ডেভিড ডাভিস এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা এখন আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার দ্বারপ্রান্তে।” প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ৩১ মার্চের মধ্যে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।
ডাভিস বলেন, “সুতরাং আমরা এমাসের শেষেই পরিকল্পনামাফিক আর্টিকেল ফিফটি প্রয়োগ করে গোটা দেশের স্বার্থেই কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারব।”
রানির অনুমোদন পাওয়া মাত্রই প্রধানমন্ত্রী মে দু’বছরের ব্রেক্সিট আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত হয়ে যাবেন এবং তিনি সময় নষ্ট না করেই তা করতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। তবে মে তার ঘোষিত সময়সীমার আগে কিছু করবেন না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তার মুখপাত্র।
স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জন স্কটিশদের স্বাধীনতার জন্য ২০১৮ কিংবা ২০১৯ সালের শুরুর দিকে নতুন করে আরেকটি গণভোটের দাবি করায় এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইইউ নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা নিয়ে চাপের কারণে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি নিয়ে জটিলতায় ছিলেন মে।
কিন্তু  পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে ইইউপন্থি কনজারভেটিভ এমপি’দের বিরোধিতা এবং উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা দুইই ঠেকাতে সফল হন মে।
হাউজ অব লর্ডস ইইউ নাগরিকদের অধিকারের শর্ত ২৭৪-১৩৫ ভোটে নাকচ করে। আর এর আগে হাউজ অব কমন্সে এ শর্ত ৩৩৫-২৮৭ ভোটে নাকচ হয়।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট লর্ড কাটেস বলেছেন, সরকার যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইইউ নাগরিকদের অধিকারের প্রশ্নে ছাড় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এ বিষয়টিতে সংশোধনীর দাবি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।- বিডিনিউজ