বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিকদের বেতন তিনগুন বৃদ্ধি || বছরে ছুটি ৭৮ দিন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি


বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিকদের বেতন তিনগুন বাড়িয়ে বছরে ৭৮ দিন ছুটি ভোগের সিদ্ধান্ত নেয়ায় শ্রমিকদের মাঝে আনন্দ উল্লাসের সৃষ্টি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংসদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান আনন্দের একথা জানান। শ্রমিকদের বেতন প্রায় তিনগুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। একজন শ্রমিক যেখানে সর্বনি¤্ন্ন ৮ হাজার ৮৮০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬৪০ টাকা মাসিক বেতন পেতেন, সেখানে এখন সর্বনি¤্ন ২৩ হাজার ৫৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪১ হাজার ২৭৬ টাকা মাসিক বেতন পাবেন। শ্রমিকরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ বছরে ৭৮ দিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন। এর আগে শ্রমিকদের কোনো ছুটি ছিল না। কাজ আছে মজুরি আছে কাজ নেই মজুরি নেই ভিত্তিতে তারা কাজ করতেন।
মতবনিমিয় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাবিব উদ্দিন আহমদ, মহাব্যবস্থাপক (র্অথ ও হিসাব) আবদুল মান্নান পাটোয়ারী, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শরিফুল আলম, মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব আবুল কাশেম প্রধানীয়া, খনি শ্রমিক র্কমচারী ইউনিয়নের উপদেষ্টা পার্বতীপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক, সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ানসহ খনির শ্রমিকগণ।
জানা যায়, বড়পুকুরিয়া খনিতে সাংসদ এমপিএমঅ্যান্ডপিএস (উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবক্ষেণ এবং প্রভেশনিং সার্ভিসেস) চিনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি-সিএমসি কনর্সোটিয়ামের অধীনে উৎপাদন ও উন্নয়ন, ভূগর্ভস্থ, সারফেস এবং প্রশাসন- এই ৪টি বিভাগে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় ৯ শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিকেরা ৬ বছর ধরে সর্বনি¤্ন্ন ৮ হাজার ৮৮০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬৪০ টাকা মাসিক বেতনে কাজ করতেন। স্থায়ী নিয়োগ, বেতন বৃদ্ধি, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিভিন্ন দাবিতে খনি শ্রমিকরা এতদিন আন্দোলন করে আসছিলেন। এরই মধ্যে ১০ আগস্ট এমপিএমঅ্যান্ডপিএস চিনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি-সিএমসি কনর্সোটিয়ামরে চুক্তি মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ৮ জুলাই স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে শ্রমিকদের অন্যান্য দাবি আমলে নিয়ে খনি কর্তৃপক্ষ এক্সএমসি-সিএমসি কনর্সোটিয়ামের সাথে ৩য় দফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন ও উন্নয়ন বিভাগের একজন শ্রমিক (ফোরম্যান) ১৪ হাজার ৬৪০ টাকার স্থলে ৩২ হাজার ৭০ টাকা, দক্ষ শ্রমিক ১২ হাজার ৮৭০ টাকার স্থলে ২৭ হাজার ২০ টাকা ও অদক্ষ শ্রমিক ১১ হাজার ৭০ টাকার স্থলে ২৫ হাজার ২৯৫ টাকা পাবেন। ভূর্গভস্থ বিভাগে ফোরম্যান ১৩ হাজার ৪১০ টাকার স্থলে ২৮ হাজার ৭৭০ টাকা, দক্ষ শ্রমিক ১১ হাজার ৬৭০ টাকার স্থলে ২৪ হাজার ৩২০ টাকা ও অদক্ষ শ্রমিক ১০ হাজার ৭৪০ টাকার স্থলে ২২ হাজার ৮২০ টাকা পাবেন। সারফেস বিভাগে ফোরম্যান ১০ হাজার ৭৪০ টাকার স্থলে ২১ হাজার ৭০ টাকা, দক্ষ শ্রমিক ৯ হাজার ৮১০ টাকার স্থলে ১৮ হাজার ২০ টাকা ও অদক্ষ শ্রমিক ৮ হাজার ৯১০ টাকার স্থলে ১৭ হাজার ৪৫ টাকা, এবং প্রশাসন বিভাগে ফোরম্যান ৯ হাজার ৬৯০ টাকার স্থলে ২১ হাজার ৭০ টাকা, দক্ষ শ্রমিক ৯ হাজার ২৭০ টাকার স্থলে ১৮ হাজার ২০ টাকা ও অদক্ষ শ্রমিক ৮ হাজার ৮৮০ টাকার স্থলে ১৭ হাজার ৪৫ টাকা পাবেন। সেই সাথে শিফট অ্যালাউন্স, পরিবেশ অ্যালাউন্স, উৎপাদন ভাতা, ইন্সটলেশন ও স্যালভেজ বোনাস, দুটি উৎসব ভাতা এবং অধিকাল ভাতা (সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কাজ করলে) পাবেন। সর্বসাকূল্যে একজন শ্রমিক সর্বোচ্চ ৪১ হাজার ৭৫৫ টাকা এবং সর্বনি¤্ন ২৩ হাজার ৫৫ টাকা মাসিক বেতন পাবেন।
এ ব্যাপারে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাবিব উদ্দিন আহমেদ জানান, ১১ আগস্ট থেকে এই বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছে। তবে মাসে যে সকল শ্রমিক ২০ দিন কাজ করবেন শুধুমাত্র সে সকল শ্রমিকই এ বেতন কাঠামোর আওতায় পড়বেন।
এছাড়া প্রতিবছর নির্দিষ্ট হারে বেতন বৃদ্ধি করা হবে।
উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া খনির এমপিএমঅ্যান্ডপিএস চিনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি-সিএমসি কনর্সোটিয়াম ৩য় দফা চুক্তির আওতায় ৪ বছরে প্রায় ২৫৮ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ৩২ লাখ ৫ টন (৩.২০৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন) কয়লা উত্তোলন করতে পারবে। এরমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ১৮২ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার ও দেশীয় মুদ্রা প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার (৬১৩১ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন টাকা) রয়েছে। এদিকে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ক্যাজুয়েলভুক্ত অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী আছেন। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়ায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ১৮ থেকে ১৯ বছর ধরে থার্ড পার্টির আওতায় চাকরি করছেন। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোন মাথাব্যথ্যা নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ