বড়াইগ্রামে একাধিক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, মুদি দোকানদার আটক

আপডেট: July 13, 2020, 2:38 pm

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:


নাটোরের বড়াইগ্রামের নগর ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের এক মুদি দোকানদারের কাছে কোনো মেয়ে শিশু সওদা আনতে যেতে চায় না। মা-বাবা জোর করে পাঠাতে চাইলে শিশুরা কান্নাকাটি করে কিন্তু এর কারণ কেহই বলে না। সর্বশেষ ওই দোকানে যেতে কেন আপত্তি তার আসল রহস্য খুঁজে পান ওই দোকানদার কর্তৃক ধর্ষণ-চেষ্টার শিকার ৬ বছরের শিশু কণ্যার মা। ওই শিশুর মা গত সপ্তাহখানেক ধরে লক্ষ্য করছে তাদের মেয়েকে দোকানে কোনো কিছু কিনতে পাঠালে যেতে চাচ্ছে না। এমনকি দোকান পার হয়ে শিশুটির খালা বাড়ি। শিশু দোকানের সামনে দিয়ে খালা বাড়িতেও যেতে চাচ্ছে না। পরে অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে গত ৫ জুলাই বিকেলে খালা বাড়ি যাওয়ার সময় ওই দোকানদার শিশুটিকে দোকানে ডেকে নিয়ে দোকানের পেছনে নিজ বাড়িতে নিয়ে শরীরের আপত্তিকর জায়গা স্পর্শ করে ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ কথা জানাজানি হলে এবং একইসাথে একই এলাকার ৫ বছর এবং ৭ বছরের অপর দুই কণ্যা শিশু একইভাবে ধর্ষণ-চেষ্টার শিকার হয়েছে বলে সত্যতা তুলে ধরলে ক্ষুদ্ধ হয় এলাকাবাসী। রোববার (১২ জুলাই) রাতে বড়াইগ্রাম থানায় এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে আটক করে লম্পট দোকানদারকে। ওই দোকানদারের নাম আবুল কাশেম (৩২)। সে কুমারখালী গ্রামের আবুল হাশেনের ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, আবুল কাশেমের বাড়ি সংলগ্ন মুদি দোকান। এলাকার মেয়ে শিশুরা তার দোকানে সওদা আনতে গেলে নানা প্রলোভনে কাছে ডেকে নেয় এবং সুযোগ বুঝে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ-চেষ্টা চালায়। তার অপকর্মের কথা কাউকে বললে মেরে ফেলার ভয় দেখায়- যার কারণে মেয়ে শিশুরা কাউকে কিছু বলতো না।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) দিলীপকুমার দাস জানান, থানায় ধর্ষণ-চেষ্টার অভিযোগে এক শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা করেছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে তিন মাস আগেও এমন ঘটনার একাধিক অভিযোগ রয়েছে যা ওই সময় থানায় কেহ অভিযোগ করেনি। দুপুরে আবুল কাশেমকে নাটোর জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ