বড়াইগ্রামে জনশুমারি ও গৃহগণনা কাজে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: জুন ২৯, ২০২২, ১১:০৫ অপরাহ্ণ

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:


নাটোরের বড়াইগ্রামে দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহ গণনা কাজে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছ দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সমন্বয়কারী ফরহাদ হোসেন ও জোনাল অফিসার জুয়েল রানার বিরুদ্ধে। ফরহাদ হোসেন বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিসংখ্যান তদন্তকারী (তৃতীয় শ্রেণির পদ) ও জুয়েল রানা জেলা পরিসংখ্যান অফিসের পিওন (চতুর্থ শ্রেণির) পদে কর্মরত।

উপজেলার বড়াইগ্রাম ইউনিয়নে পিয়ন জুয়েল রানাকে জোনাল অফিসারের এবং ফরহাদ হোসেনকে উপজেলা সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর অদক্ষ নিম্ন শ্রেণির কর্মচারীদের এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় গণনা কাজে, আর্থিক ভাবে এবং ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, সঠিক তদারিক না থাকায় এবং সুপারভাইজার, গণনাকারীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় তারা যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন করেন নাই। ফলে উপজেলার অনেক পরিবার এখনো গণনার বাহিরে রয়ে গেছে।

খলিশাডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের গণিত বিষয়ের প্রভাষক খাদিজা খাতুন ডলি জানান, তার বনপাড়ার বাসায় কোনো গণনাকারী আসেন নাই। বাজিতপুর গ্রামের ফয়জাল হোসেন বলেন, তার বাড়িতেও কোনো গণনাকারী যায় নাই। এমন আরও অন্তত ২০টা অভিযোগ রয়েছে বড়াইগ্রাম ইউনিয়নে। আবার প্রথম রাতে ভ্রাম্যমান গণনাকারীদের পাওয়া যায়নি অধিকাশ জোনাল অফিসারদের।

দায়িত্বপ্রাপ্ত গণনাকারী ও সুপারভাইজারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৪ জুন থেকে ১২ জুন পর্যন্ত দুই ধাপে সুপারভাইজার ও গণনাকারীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বড়াইগ্রাম সরকারি কলেজে শেখ রাসের ডিজিটাল ল্যাবে। সেসময় অতি নি¤œমানের খাবার সরবরাহ, ল্যাবের প্রজেক্টের ব্যবহার করে ভাড়া না দেওয়া, এলাকায় পোস্টারিঙে এবং মাইকিঙে অনিয়ম করেছেন।
গণনাকারী এক নারী বলেন, আমি গণনা করতে গিয়ে ভুল হয়েছিল। সেটার জন্য জোনাল অফিসার অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছে।

সুপার ভাইজার গোলাম হোসেন বলেন, প্রতিদিন একজন প্রশিক্ষার্ণীর খাবার বাবাদ ২৬১ টাকা প্রজেক্টের ভাড়া ১৪ হাজার টাকা ছিল। কিন্তু অতি নিম্ম মানের খাবার সরবরাহ করা হয়। যা একশত টাকার বেশি না।
বড়াইগ্রাম সরকারি অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন বলেন, আমার কলেজের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে ব্যবহার করে সর্বসাক্যল্যে তিন হাজার টাকা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা যিনি জোনাল অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি কাজ মনে করে শ্রদ্ধার সাথে করতে গিয়ে পদেপদে উপজেলা সমন্বয়কারী ফরহাদ হোসেন দ্বারা অপমানিত হয়েছি। সর্বশেষ আমি তিনটি ট্যাব জমা দিয়ে আসার পর সে একটা মেরে দিয়েছিল। আমি ট্রাকিং করে সেটা গভীররাতে পরিসংখ্যান অফিসের আলমিরার ছাদ থেকে উদ্ধার করেছি।

এ বিষয়ে জুয়েল রানা নিজেকে জেলা পরিসংখ্যান অফিসের অফিস সহায়ক পরিচয় দিয়ে বলেন, আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর সক্ষমতা অনুসারে চেষ্টা করেছি। তবে জেলা থেকে গিয়ে যোগাযোগটা ওভাবে করা সম্ভব হয়নি। ফরহাদ হোসেন বলেন, ভাল করার চেষ্টা করেছি। ভুল থাকতে পারেই। সেখাতো আমার পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়ও স্বীকার করেছেন। ইউএনও মারিয়াম খাতুন বলেন, কিছু অনিয়মের কথা আমিও শুনেছি।