বড়াইগ্রামে ধর্ষিতার ভাইদের জরিমানা!

আপডেট: জুলাই ১৮, ২০১৭, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের গাড়ফা স্কুল পাড়ায় এক বাক প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষককে ১৩ হাজার টাকা এবং ধর্ষিতার ভাইদের ৭ হাজার টাকা জরিমানা করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আন্তাদুল ইসলাম আন্তা ওই শালিস-বৈঠকের আয়োজন করেন।
সরেজমিন গাড়ফা গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ধর্ষণের স্বীকার দরিদ্র বাক প্রতিবন্ধী মহিলা (২৮) তার বিধবা মায়ের সাথে বসবাস করেন। ঘটনারদিন গত রোববার (৯ জুলাই) রাত ১২টার দিকে পাশের বাড়িতে অজ্ঞাত কারণে কলহ চলছিল। তার মা ওই প্রতিবন্ধিকে একা ঘরে রেখে কলহের কারণ জানতে যায় পাশের বাড়িতে। এসময় প্রতিবেশী কফিল মন্ডলের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২) ঘরে প্রবেশ করে মুখে গামছা বেঁধে ধর্ষন করে পালিয়ে যায়। তার মা ফিরে এসে মেয়ের এ অবস্থা দেখে রাতেই তার ভাইদের বিষয়টি জানায়। তখন তার ভাইয়েরা উত্তেজিত হয়ে রফিকুলের বাড়িতে হামলা চালায়। খবর পেয়ে আন্তাদুল এসে বিষটির সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুত দেয়।
তারই প্রেক্ষিতে তাদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা পিওন খরচ নিয়ে মিটিং ডাকেন আন্তাদুল। গতকাল সোমবার সকালে কফিল মন্ডলের উঠানে স্থানীয় আন্তাদুল ইসলামের নেতৃত্বে সিদ্দিক প্রামাণিক, মান্নান হাজী, মুকুল সরদার, বাকীবিল্লাহ, ইমদাদুল  প্রমূখ মিটিং করে ধর্ষক রফিকুলকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আর ধর্ষকের ঘরের জানালা ও টিনের বেড়া ভাংচুরের জন্য ধর্ষিতার ভাইদের ৭ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানার মধ্যে ধর্ষিতার পরিবারকে ৮ হাজার টাকা আর ধর্ষকের ঘর মেরামতের জন্য ১২ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ধর্ষিতার মা বলেন, আমি বৃদ্ধ এবং দরিদ্র মানুষ তাই মামলা করতে চাই না নি। তবে মিটিং এ ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করে আমাকে ৮ হাজার টাকা দিবে। আবার রফিকুলকে ৫ হাজার টাকা ফেরৎ দিবে উল্টো আমার ছেলেদের ৭ হাজার টাকা জরিমানা করে রফিকুলকে দিবে এ কেমন বিচার। আর এই ৮ হাজারই বা কবে পাব সে বিষয়ে কিছ ুবলে নি প্রধানরা।
ইউপি সদস্য আন্তাদুল ইসলাম আন্তা ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রফিকুল ও বাদীরা পরস্পর আতœীয়। তাদের পারিবারিক বিরোধের জেরে স্থানীয় প্রধানেরা বসে একটা সমাধান করে দিয়েছে। আমি এর মধ্যে ছিলাম না। চান্দাই ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। ইউপি সদস্য এ ধরণের কাজে জড়িত  থেকে ঠিক করে নি।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহরিয়ার খান বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ স্থানীয় ভাবে আপোষযোগ্য নয় বলে তিনি বলেন, অভিযোগ না পেলে এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই পুলিশের। কারণ এসব ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তরা বিষয়টি অনেক সময় নিজেরাই ধামাচাপা দিয়ে দেয়। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।