বড়াইগ্রামে বাকপ্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগ || ইউপি সদস্যসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট: জুলাই ২৪, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের গাড়ফা স্কুলপাড়া এলাকায় এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গতকাল রোববার মামলা হয়েছে। এর আগে ওই ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আন্তাদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সভা করা হয়। সভায় এ ধর্ষককে ৮ হাজার টাকা এবং নির্যাতিত প্রতিবন্ধীর দুই ভাইকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্যাতিতার ভাই ইসরাইল হোসেন সালিসকারী ইউপি সদস্য আন্তাদুল ইসলাম ও ধর্ষক রফিকুল ইসলামসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ওই মামলাটি দায়ের করেন। সরেজমিন গাড়ফা গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার দরিদ্র বাকপ্রতিবন্ধী নারী (২৮) তার া মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন। ঘটনারদিন গত ৯ জুলাই রাত ১২টার দিকে পাশের বাড়িতে অজ্ঞাত করণে কলহ চলছিল। তার মা তাকে একা ঘরে রেখে কলহের কারণ জানতে যায় পাশের বাড়িতে। এসময় প্রতিবেশী কফিল মন্ডলের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২) ঘরে প্রবেশ করে মুখে গামছা বেঁধে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। তার মা ফিরে এসে মেয়ের এ অবস্থা দেখে ওই রাতেই তার ভাইদের বিষয়টি জানায়। তখন তার ভাইয়েরা উত্তেজিত হয়ে রফিকুলের বাড়িতে হামলা চালায়। খবর পেয়ে আন্তাদুল এসে বিষটির সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নিকট থেকে এক হাজার টাকা পিওন খরচ নিয়ে সভা ডাকেন আন্তাদুল। পরদিন ১৭ জুলাই সকালে কফিল মন্ডলের উঠানে স্থানীয় আন্তাদুল ইসলামের নেতৃত্বে সিদ্দিক প্রামাণিক, মান্নান হাজী, মুকুল সরদার, বাকীবিল্লাহ, ইমদাদুল  প্রমুখ সভা করে ধর্ষক রফিকুলকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করে। আর ধর্ষকের ঘরের জানালা ও টিনের বেড়া ভাঙচুরের জন্য নির্যাতিতার ভাইদের সাত হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানার মধ্যে নির্যাতিতার পরিবারকে ৮ হাজার টাকা আর ধর্ষকের ঘর মেরামতের জন্য ১২ হাজার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়টি গত ১৮ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ইউপি সদস্য আন্তাদুল ওই প্রতিবন্ধীদের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে, যাতে করে তারা গিয়ে থানায় মামলা করতে না পারে।
খবর পেয়ে বড়াইগ্রামের ইউএনও ইশরাত ফারজানা গত শনিবার সন্ধায় গাড়ফা গ্রামে ওই বাকপ্রতিবন্ধীর বাড়িতে যান। পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে তিনি নির্যাতিতার মা-সহ তাকে নিজ গাড়িতে করে থানায় নিয়ে এসে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর তাদের দেয়া অভিযোগ আমলে নিয়ে গতকাল রোববার মামলা নথিভুক্ত করে নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করে নাটোর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
জানতে চাইলে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহরিয়ার খান জানান, বিষয়টি লোকমুখে শোনার পর থেকে তাদেরকে মামলা করার জন্য অনুরোধ করা হয়। তারা মামলা না করায় পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছিল না।
এ বিষয়ে ইউএনও ইশরাত ফারজানা জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাই। পরে তাদেরকে আইনি সহায়তার জন্য পুলিশকে বলেছি।