বড়াইগ্রামে সরকারি গুদামে চাল দিচ্ছে না মিলাররা

আপডেট: জুন ৩০, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


শষ্য ভান্ডার চলনিবিল এলাকায় চাল সংগ্রহ অভিযান শুরুর প্রায় তিনমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করছেন না মিলাররা। ফলে নাটোরের বড়াইগ্রামে বোরো মৌসুমে সরকারি চাল সংগ্রহ অভিযান বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। খোলা বাজারে চালের দাম বেশি এবং ধানের সংকট থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বড়াইগ্রাম উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৮০০ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের জন্য উপযুক্ত চালকল মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য ১৩১ কলের মধ্যে ৮৮টিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সেই ৮৮টির মধ্যে শেষদিনে মাত্র ২৪টি চালকল মালিক ১ হাজার ৬০০ টন চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চুক্তিবদ্ধ চালকলের মধ্যে ২টি রয়েছে অটো চালকল। আর ৪৩টি মিল চুক্তির ভয়ে সচল মিলের তালিকা থেকে আগেই নিজেদের নাম কাটিয়ে নিয়েছেন। এই চুক্তিবদ্ধ ২৪টি মিলের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র দুইটি রাইস মিল মেসার্স পপি চালকল ও মেসার্স শ্যামল চালকল) ৩০ দশমিক ৫০ টন চাল সরবরাহ করেছেন। অন্যদের চাল সরবরাহ শুরু হয়নি এখনো।
বড়াইগ্রাম উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর বলেন, বাজারে মোটা ধান পাওয়াই যাচ্ছে না। আবার সরকারি মূল্যের চেয়ে খোলা বাজারে চালের দাম অনেক বেশি। তাই মোটা অংকের লোকশান থেকে রক্ষা পেতেই মিলাররা চুক্তি করতে রাজি হয় নি। তবে যারা চুক্তি করেছেন তারা শত লোকসান হলেও শেষ পর্যন্ত চাল সরবরাহ করবেন। হয়তো একটু সময় নিচ্ছেন।
বড়াইগ্রাম খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) রুহুল আমিন বলেন, লক্ষমাত্র পুরণ না হলেও চুক্তিবদ্ধ মিলাররা চাল সরবরাহ শুরু করেছেন। শুনেছি চুক্তিবদ্ধ অন্যরাও সরবরাহ করবেন।
উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মোকলেস আল-আমীন বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক মিলাররা চাল সরবরাহ না করলে তাদেরকে সরকার ঘোষিত শাস্তির সম্মুখিন হতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ