বড়াইগ্রামে সেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৭, ১:২২ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি



একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে। কাদা-পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আর বর্ষা মৌসুমে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। উপজেলার সীমান্ত অঞ্চল হওয়ায় কোনো জনপ্রতিনিধিই কথা রাখেন না। ভোটের সময় প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি থাকলেও পরে আর তাদের দেখা মেলে না। অবশেষে নিজেরাই সেচ্ছাশ্রমে শুরু করেছেন রাস্তা নির্মাণের কাজ।
নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলা সীমান্ত মালিপাড়া গ্রাম ও লালপুর উপজেলা সীমান্ত চৌসুডাঙ্গা গ্রামের হাজারো মানুষের কথা এটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তারা নিজেরাই মাটি কেটে নিজেদের রাস্তা নির্মাণ শুরু করেছেন।
সরেজমিন সেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণের কাজ দেখতে গিয়ে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন থেকে মরা বড়াল নদী সংলগ্ন নিচু রাস্তায় জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন। বড়াইগ্রামের মাঝগাঁও ইউপির অর্ন্তভুক্ত মালিপাড়া গ্রাম আর লালপুরের কদমচিলান ইউপির চৌষুডাঙ্গা গ্রাম। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারদের বারে বারে আবেদন করেও তারা ওই মাটির রাস্তাটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেন নি।
মালিপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (৬৫) বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর নিজেরাই রাস্তাটি সংস্কারের মাধ্যমে নিজেদের সমস্যা সমাধনের উদ্যোগ নিয়ে গ্রামবাসী মাটি কাটতে শুরু করেছে। চৌসুডাঙ্গা গ্রামের আবদুস সামাদ (৬০) বলেন, উপজেলার সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় আমরা উন্নয়ন বঞ্চিত অবহেলিত গ্রামবাসী। আমাদের মূল্যায়ন শুধু ভোটের সময়। ভোট গেলে আর কেউ খোঁজ নেয় না।
মাঝগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান খোকন মোল্লা বলেন, সেচ্ছায় রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি আমাকে কেউ অবহিত করে নি। তবে সেচ্ছাশ্রমে নিজেদের কাজকে আমি সাধুবাদ জানাই।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল হাকিম বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে এসেছি। সুযোগ হলে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে আরো উন্নয়ন করার চেষ্টা থাকবে।