বড়াইগ্রামে ৬৪ চালকল কালো তালিকায়

আপডেট: জুলাই ১৮, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


নাটোরের বড়াইগ্রামে চলতি বোরো চাল সংগ্রহ মৌসুমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাল সরবরাহে চুক্তি না করায় ৬৪টি চালকলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব চালকল আগামী দুই বছর (চার মৌসুম) সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করতে পারবে না। এদিকে যে ২৪টি চালকল মালিক চুক্তি করেছেন তারা এখনো গুদামে চাল সরবরাহ করছেন। ফলে চলতি মৌসুমে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় তিন হাজার ৮শ মেট্রিকটন বোরো চাল সংগ্রহের জন্য ১৩১টি চালকলের মধ্যে ৮৮টি চালকলকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তাদের মধ্যে গত ৩১ মে শেষ দিনে দুইটি অটো চালকলসহ ২৪টি চালকল মালিক দুই হাজার ৪৬ মেট্রিকটন চাল সরবরাহের চুক্তি করেন। অবশিষ্ট ৪৩টি চাল কল মালিক কম দামে চাল সরবরাহের ভয়ে সচল মিলের তালিকা থেকে আগেই নাম কাটিয়ে নিয়েছেন। গতকাল সোমবার পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ চালকলগুলোর মধ্যে কয়েকটি চালকল গুদামে ১৯৩ টন চাল সরবরাহ করেছেন। চুক্তিবদ্ধ অন্য চালকলগুলো এখনও চাল সরবরাহ শুরু করে নি। আগামী ৩১ আগস্ট এ চাল সংগ্রহের সময় শেষ হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী চুক্তি করেও যেসব চালকল গুদামে চাল সরবরাহ করবে না তাদের জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করাসহ তাদেরকে আগামী এক বছর (দুই মৌসুম) সরকারের সঙ্গে আর কোনো চুক্তি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, খোলা বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় লোকসানের ভয়ে অনেকেই চাল সরবরাহের চুক্তি করেন নি। তবে যারা চুক্তি করেছেন, তারা লোকসান সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত চাল সরবরাহ করবেন। লোকসানের ভয়ে যারা চুক্তি করে নি তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। তবে ব্যবসায়ীদের লোকসানের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে নিশ্চই।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোখলেছ আল আমিন জানান, যারা চুক্তিবদ্ধ হন নি এবং যারা চুক্তিবদ্ধ হয়েও চাল সরবরাহ করবে না, তাদের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ